
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটে অশান্তি এড়াতে চেষ্টার কসুর করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে দুপুর পর্যন্ত একাধিক জেলা থেকে সামনে এসেছে নানা ধরনের অশান্তি ও হিংসার ঘটনা। এছাড়াও, রাজ্যের একাধিক এলাকায় গাড়ি ভাঙচুরের খবর সামনে এসেছে। কোনও কোনও জায়গায় করা হয়েছে লাঠিচার্জও। এবার দেখে নেওয়া যাক কোন কোন এলাকায় অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে...
অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলা
আসানসোলে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা । অগ্নিমিত্রার দাবি, এদিন বানপুরের রহমতনগর এলাকায় একাধিক বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। একটি বুথ ঘুরে দেখার পর তিনি পরবর্তী গন্তব্যে রওনা দিচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর গাড়ির পিছন দিক থেকে একটি বড় পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। যার ফলে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। সেই সময় গাড়ির সামনের সিটে বসেছিলেন অগ্নিমিত্রা। তবে তিনি জখম হননি। গাড়ির পিছনে বসে থাকা তাঁর নিরাপত্তারক্ষী ও ব্যক্তিগত সহকারীর গায়ে কাচের টুকরো লাগে। তাঁরা জখম হন।
কেশপুরে মহিলার মৃত্যু
পশ্চিমবঙ্গের কেশপুরে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোট দেওয়ার পর এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ইশরাতান বিবি (৫৫) পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দিঘা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী নবাবজান আলী বলেন, "আমার পরিবারের চারজনের নাম ভোটার তালিকায় নেই। আমার নামও নেই। শুধু আমার স্ত্রীর ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল। আমি ওকে ভোট দিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। যেহেতু ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না, তাই বুথের বাইরে দাঁড়িয়েছিলাম। ভোট দেওয়ার পর টোটোতে ওঠার সময় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়।" তবে কেশপুরে কোনও হিংসার ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
মুর্শিদাবাদে হুমায়ুনকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান
নওদা থানা এলাকার শিবনগর গ্রামের ১৭৩ নম্বর বুথে হুমায়ুনকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান তোলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। ওই এলাকায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হাবিব শেখের নেতৃত্বে চলে এই বিক্ষোভ। হুমায়ুনকে ‘বিজেপির দালাল’ বলেও স্লোগান তুলছেন অনেকে। হুমায়ুনের গাড়ি ঘিরে রেখে বিক্ষোভ চলে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।
হুমায়ুন কবীরের গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ
নওদায় বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রতিবাদে বসেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাস্তার মাঝেই চেয়ার পেতে বসে পড়েন তিনি। এরপরে হুমায়ুন কবীরের গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে। কনভয়ের গাড়িতে বাঁশ, লাঠি নিয়ে হামলা চালান হয়েছে বলে অভিযোগ। যাকে ঘিরে মুর্শিদাবাদের নওদায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নওদার শিবনগর এলাকা থেকে হুমায়ুন বেরোনোর চেষ্টা করার সময়ে তাঁর উপর ‘হামলা’ করা হয় অভিযোগ। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতার কনভয়ের একটি গাড়িতে ভাঙচুর এবং পোলিং এজেন্টের গাড়িতে ইটবৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। হুমায়ুনের গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় শেষে বিক্ষোভস্থল থেকে বেরোন হুমায়ুন। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে এলাকা ছাড়েন হুমায়ুন কবীর।
শিলিগুড়িতে ভোট চলাকালীন সময়ে TMC ও BJP কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ
শিলিগুড়ির জগদীশচন্দ্র বিদ্যাপীঠের ২৬/২৩৭ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ চলছিল। ভোটকেন্দ্রের বাইরে হঠাৎ তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ঝামেলা শুরু হয়। যার জেরে ঝামেলা চরমে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষও ওই সময় ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন। দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী এখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
EVM নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটাররা
মালদার মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি ইভিএম বিকল হয়ে যাওয়ায় বালুয়াচারা হাই স্কুলের ভোটকেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেক্টর অফিসারের আসতে দেরি হওয়ায় ভোটাররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে ঘিরে ধরেন। বেশ কয়েকজন ভোটারকে সেক্টর অফিসারের হাত ধরে টানতে দেখা যায়।
কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীর উপর হামলা
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে পুলিশের সামনেই মারধর করে একদল দুষ্কৃতী। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের অভিযোগ, তিনি খবর পান কুমারগঞ্জের একটি বুথে পোলিং এজেন্টকে বসতে দেওয়া হয়নি। তা শুনে তিনি যান সেই বুথে। বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে বচসা বাধে সেখানকার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। বুথ থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। এরপরই স্থানীয় কয়েকজন ঘিরে ধরেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীকে। শুভেন্দু সরকারের অভিযোগ, তাঁকে একদল তৃণমূলের দুষ্কৃতী ঘিরে ধরে। প্রথমে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। তারপর মারধর করা হয়।
এছাড়াও, মালদায় মালদায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে এসেছে। দুপক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও হাাহাতির ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ ওঠে।