
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্র। আসনটি তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত। কেশপুর ব্লক ও ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৭০ গ্রাম নিয়ে এই কেন্দ্র। নির্বাচনী এলাকাটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ। শহুরে ভোটার নেই বললেই চলে।
১৯৫১ সালে কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে এই আসনটি রাখা হয়নি। এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ বার ভোট হয়েছে। লালদুর্গ বলে পরিচিত এই আসনটিতে একছত্র আধিপত্য ছিল বামেদের। ১৯৮২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সিপিআইএম এই আসনটিতে সাতবার জিতেছিল। ১৯৫১ সালে আসনটি দখল করেছিল সিপিআই। একসময় কংগ্রেস দলেরও কর্তৃত্ব ছিল কেশপুরে। বাংলা কংগ্রেস একবার ও জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থীরা ৫ বার জিতেছিলেন। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এলেও সেবার কেশপুর দখল করতে...
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্র। আসনটি তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত। কেশপুর ব্লক ও ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৭০ গ্রাম নিয়ে এই কেন্দ্র। নির্বাচনী এলাকাটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ। শহুরে ভোটার নেই বললেই চলে।
১৯৫১ সালে কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে এই আসনটি রাখা হয়নি। এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ বার ভোট হয়েছে। লালদুর্গ বলে পরিচিত এই আসনটিতে একছত্র আধিপত্য ছিল বামেদের। ১৯৮২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সিপিআইএম এই আসনটিতে সাতবার জিতেছিল। ১৯৫১ সালে আসনটি দখল করেছিল সিপিআই। একসময় কংগ্রেস দলেরও কর্তৃত্ব ছিল কেশপুরে। বাংলা কংগ্রেস একবার ও জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থীরা ৫ বার জিতেছিলেন। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এলেও সেবার কেশপুর দখল করতে পারেনি তৃণমূল। যদিও ২০১৬ সালে তারা খাতা খোলে। শিউলি সাহা পরপর ২ বার নির্বাচিত হন এই আসন থেকে।
কেশপুর লাল দুর্গ হলেও এই আসনকে পাখির চোখ করেছিল তৃণমূল সেই বাম আমল থেকেই। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসার পরই সিপিআইএম বিরোধী প্রচার শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দল। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রতিবার বুথ দখল করে ওই আসনে জেতেন বাম প্রার্থীরা। সেই থেকে অশান্ত হয়ে ওঠে এলাকা। একের পর এক রাজনৈতিক কর্মী খুন হতে শুরু করেন। কয়েক ডজন মানুষের প্রাণ যায়। রক্তপাত অব্যাহত থাকে সেই ২০১৬ পর্যন্ত। তবে পালাবদল হয়। পরপর দুই বারের সিপিআইএম বিধায়ক রামেশ্বর দোলুইকে ১ লাখেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন শিউলি সাহা। তারপর থেকেই বামেদের শক্তিক্ষয় শুরু হয় ওই কেন্দ্রে। ২০২১ সালে বাম প্রার্থী মাত্র ১৩ হাজারের সামান্য বেশি ভোট পান। সেখানে বিজেপি উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। শিউলি সাহার কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।
লোকসভা ভোটেও তৃণমূল কংগ্রেস আধিপত্য বজায় রাখে এই আসনে। ২০১৯ সালে কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির চেয়ে ৯২,০৭৪ ভোটে এগিয়ে ছিল রাজ্যেক শাসকদলের প্রার্থী। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে হয় ১০৩,৩৫৮।
২০২১ সালে কেশপুরে মোট ভোটার ছিলেন ২৬১,৫২৯। ২০১৯ ও ২০১৬ সালে ছিল যথাক্রমে ২৫০,৪৩৪ এবং ২৩২,৬৮৪। তার মধ্যে তপশিলি জাতি ২৬.৪৬ শতাংশ, উপজাতি ৫.৭৮ শতাংশ ও মুসলিম ২৭.৩০ শতাংশ। ভোটারদের উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে বেশি। ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৮.০৪ শতাংশ। ২০১৯ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে ৮৫.২১ শতাংশ এবং ৮৭.৯১ শতাংশ।
কেশপুর বনভূমির অন্তর্গত। ল্যাটেরাইট মাটির আধিক্য। কংসাবতী এবং শিলাবতী নদী পাশাপাশি প্রবাহিত হয়েছে। তাই কৃষি ও সেচের জন্য সহায়ক। ধান হল প্রধান ফসল। এছাড়াও হয় ডাল ও শাকসবজি। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ছোটো ব্যবসা ও কুটির শিল্পী এখানকার রোজগারের অন্যতম উৎস।
কেশপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। সাত নম্বর রাজ্য সড়কের সঙ্গে কেশপুর মেদিনীপুর শহরের সঙ্গে যুক্ত। দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার। খড়গপুর দক্ষিণ-পশ্চিমে ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত, ঝাড়গ্রাম ৬৫ কিমি দূরে। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা, কেশপুর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।
কেশপুরে রক্তপাত থেমেছে। তবে রাজনৈতিক উত্তাপ রয়ে গেছে। এক সময় বামেদের বিরুদ্ধে ভোট লুটপাটের অভিযোগ করত তৃণমূল। এখন সেই একই অভিযোগ রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে করে থাকে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাম-কংগ্রেস জোট করলেও কেশপুরে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু লড়াই দিতে পারে বিজেপি। যদিও অঙ্কের হিসেবে তারা অনেক পিছিয়ে। তবে আশা রয়েছে।
Pritish ranjan kuar
BJP
Rameswar doloi
CPI(M)
Nota
NOTA
Rameswar doloi
CPM
Dipak patra
BJP
Nota
NOTA