বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর উৎসব মানেই পাতে লুচি-আলুর দম কিংবা ধোঁয়া ওঠা পোলাও। তবে ঘি-গরম মশলার সেই পরিচিত সাদা বা বাসন্তী পোলাওয়ের স্বাদ এখন অনেকের কাছেই একঘেয়ে। রসনায় একটু বদল আনতে চাইলে ঘরোয়া নেমন্তন্ন কিংবা রবিবারের লাঞ্চে ট্রাই করতে পারেন জিভে জল আনা ‘চাটনি পোলাও’। ধনেপাতা ও পুদিনার মেলবন্ধনে তৈরি এই পোলাও যেমন সুগন্ধী, তেমনই স্বাদে চটপটা।
এই পদের প্রধান বিশেষত্ব বা ‘ইউএসপি’ হলো এর সবুজ রং এবং পুদিনা-ধনেপাতার চাটনি। সাধারণত পোলাও মানেই আমরা মিষ্টি মিষ্টি স্বাদ বুঝি, তবে এই চাটনি পোলাও স্বাদে বেশ ঝাল ঝাল। খুদে সদস্যটি যদি সবজি খেতে বায়না করে, তবে টিফিনে এই রঙিন পোলাও দিতে পারেন; মুহূর্তেই বাটি সাফ হবে। সবথেকে বড় সুবিধে হলো, এর সঙ্গে আলাদা করে এলাহি মাংসের পদ না থাকলেও চলে, শুধু রায়তাতেই জমে যায় খাওয়া।
রান্নার জোগাড়ও বেশ সহজ। লাগবে ২ কাপ বাসমতি চাল, ধনেপাতা ১ আঁটি, পুদিনা পাতা আধ আঁটি, কাঁচালঙ্কা ৪-৫টি, আদা ১ ইঞ্চি, রসুন ৪-৫ কোয়া ও টকদই ২ টেবিল চামচ। আনাজের মধ্যে লাগবে পেঁয়াজ কুচি, কড়াইশুঁটি এবং বিনস-গাজর। ফোড়নের জন্য হাতের কাছে রাখুন তেজপাতা, গোটা গরম মশলা, নুন, চিনি, ঘি ও সাদা তেল।
প্রথমেই তৈরি করে নিতে হবে পোলাওয়ের আসল জাদু, সবুজ চাটনি। মিক্সিতে ধনেপাতা, পুদিনা, লঙ্কা, আদা, রসুন এবং নুন দিয়ে ভালো করে বেটে নিন। শেষে এক চামচ লেবুর রস এবং টকদই মিশিয়ে নিলে চাটনির রং কালচে হবে না, দীর্ঘক্ষণ টাটকা সবুজ থাকবে। অন্যদিকে বাসমতি চাল আধ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে জল ঝরিয়ে শুকনো করে নেওয়া জরুরি।
এবার মূল রান্নার পালা। কড়াইতে ঘি ও তেলের মিশ্রণ গরম করে তাতে তেজপাতা ও গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন। সুন্দর গন্ধ বেরোলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালি করে ভেজে নিন। তাতে একে একে বিনস, গাজর ও কড়াইশুঁটি দিয়ে মিনিট দুয়েক নাড়াচাড়া করুন। এরপর আগে থেকে ভেজানো চাল দিয়ে হালকা হাতে ভাজুন যাতে সুগন্ধ বেরোয়।
চালের রং একটু বদলে এলে আগে থেকে তৈরি করা সবুজ চাটনিটা দিয়ে দিন। চালের সঙ্গে চাটনিটি মিনিটখানেক কষিয়ে নিয়ে তাতে পরিমাণমতো (চালের দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪ কাপ) গরম জল দিন। নুন ও সামান্য চিনির ভারসাম্য বজায় রেখে আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিন। জল পুরোপুরি শুকিয়ে চাল সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
রান্না শেষে ওপর থেকে এক চামচ ঘি ছড়িয়ে দিয়ে দমে রাখুন ১০ মিনিট। পোলাও আরও ঝরঝরে করতে চাইলে প্রেশার কুকারে একটা সিটি দিয়েও নামাতে পারেন। পরিবেশনের সময় পাশে রাখতে পারেন বুন্দি রায়তা, চিকেন কষা কিংবা মটন চাপ। যারা আমিষ পছন্দ করেন, তারা রান্নার সময় পনিরের ছোট কিউব বা বোনলেস চিকেনের টুকরো ভেজে মিশিয়ে দিতে পারেন।
মনে রাখবেন, পুদিনার পরিমাণ বেশি হলে পোলাও তেতো হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তাই ধনেপাতার আধিক্য রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই পদ্ধতিতে চাটনি পোলাও বানালে একঘেয়েমি তো কাটবেই, সেই সঙ্গে পরিবারের সবার কাছে আপনি হয়ে উঠবেন ‘মাস্টার শেফ’। দেরি না করে আগামিকালই বাজারে ধনেপাতার খোঁজ করুন!