পরিষ্কারের কাজ শুরু করার আগে নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখা জরুরি। প্লাগ খোলার পাশাপাশি মেইন সুইচ থেকে এসির বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করুন। মনে রাখবেন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এসির সামনের প্যানেলটি আলতো করে খুললে দেখবেন ধুলোর আস্তরণ জমা ফিল্টার। এগুলি বের করে মৃদু ডিটারজেন্ট মেশানো হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিন। তবে ভেজা অবস্থায় ফিল্টার কখনও লাগাবেন না, রোদে বা হাওয়ায় পুরোপুরি শুকিয়ে তবেই যথাস্থানে বসান। ফিল্টারের ভেতরে থাকা সূক্ষ্ম ফিন্স বা কয়েলগুলো নরম ব্রাশ দিয়ে ধুলো ঝেড়ে ফেলুন।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় অনেক সময় এসির ড্রেন পাইপে ধুলো বা পোকামাকড় বাসা বেঁধে মুখ বন্ধ করে দেয়। এসি চালানোর আগে পাইপটি পরিষ্কার আছে কি না দেখে নিন। নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক না থাকলে এসির ভেতর থেকে জল চুইয়ে আপনার ঘরের দেওয়াল বা দামি কার্পেট নষ্ট হতে পারে।
ঘরের ভেতরে ঠান্ডার আমেজ পেতে বাইরের ইউনিটটির দিকেও নজর দিতে হবে। আউটডোর ইউনিটের ফ্যান বা বডিতে জমে থাকা শুকনো পাতা ও ধুলোবালি পরিষ্কার করুন। লক্ষ্য রাখবেন, বাইরের ইউনিটের চারপাশে অন্তত দু’ফুট জায়গা যেন ফাঁকা থাকে, যাতে গরম বাতাস অনায়াসেই বেরিয়ে যেতে পারে।
এসি স্টার্ট দেওয়ার আগে পাওয়ার কেবল বা ওয়ারিং কোথাও ইঁদুরে কেটেছে কি না তা ভালো করে পরীক্ষা করুন। দীর্ঘদিনের পুরনো রিমোটের ব্যাটারি বদলে ফেলাও বুদ্ধিমানের কাজ। সব ঠিক থাকলে প্রথমবার এসি চালানোর সময় সরাসরি ‘কুলিং’ মোডে না দিয়ে ‘ফ্যান মোড’-এ মিনিট দশেক চালিয়ে রাখুন।
প্রথম দিন এসি চালানোর সময় তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখাই শ্রেয়। এতে মেশিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না। যদি দেখেন এসি ঠিকঠাক ঠান্ডা করছে না বা অদ্ভুত আওয়াজ হচ্ছে, তবে দেরি না করে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ডেকে গ্যাস লিক বা সার্ভিসিং করিয়ে নিন। বছরে অন্তত একবার পেশাদার সার্ভিসিং করালে আপনার পছন্দের এসি দীর্ঘদিন সুস্থ থাকবে।