সিকিম মানেই কি শুধু গ্যাংটকের মল রোড আর ছাঙ্গু লেকের পর্যটকদের ভিড়? যারা একটু নিরিবিলিতে পাহাড়কে ছুঁতে চান, তাদের গন্তব্য হতে পারে পশ্চিম সিকিমের এক চিলতে স্বর্গ ‘ভার্সে’।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০৩ ফুট উচ্চতায় সিঙ্গালিলা রেঞ্জের কোলে এই অফবিট গ্রামটি আপনার ভ্রমণের সমস্ত হিসেব ওলটপালট করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
অ্যাডভেঞ্চার আর প্রকৃতির নিস্তব্ধতা যাদের টানে, বার্সে তাদের কাছে তীর্থস্থান। প্রায় ১০৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এখানকার ‘রডোডেনড্রন অভয়ারণ্য’। বসন্ত আসতেই যখন গোটা পাহাড় লাল-গোলাপি রডোডেনড্রন ফুলে ছেয়ে যায়, তখন মনে হয় কোনো দক্ষ শিল্পী বুঝি ক্যানভাস জুড়ে রঙের জাদু ছড়িয়ে দিয়েছেন।
কান পাতলে এখানে শোনা যায় বিরল পাহাড়ি পাখির ডাক, আর ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে দেখা মিলতে পারে রেড পান্ডা বা বিরল সব প্রাণীর। হিমালয়ের কোলে এই শান্ত গ্রামটি এখন পর্যটকদের ‘বাকেট লিস্ট’-এ নতুন সংযোজন।
শহুরে কোলাহল থেকে যোজন দূরে বার্সের আসল সম্পদ হলো তার নৈঃশব্দ্য। ঘন বনের বুক চিরে হাঁটার সময় মেঘেরা যখন এসে আপনাকে ঘিরে ধরবে, তখন হিমালয়ের শীতল হাওয়ায় শরীর ও মন জুড়িয়ে যাবে নিমেষেই।
রডোডেনড্রনের শাখা-প্রশাখার মাঝখান দিয়ে দূর পাহাড়ের রূপ আপনার ভ্রমণের ডায়েরিতে থেকে যাবে চিরস্থায়ী স্মৃতি হিসেবে।
যাবেন কীভাবে?
বার্সে পৌঁছনোর সফরটি বেশ রোমাঞ্চকর। এনজেপি (NJP) বা শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে জোরথাং ও সোমাবাড়ি হয়ে পৌঁছে যান হিলে। ৯,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই হিলে গ্রাম থেকেই বার্সে অভয়ারণ্যের প্রবেশদ্বার শুরু। এখান থেকে চার কিলোমিটারের একটি সহজ ট্রেকিং পথ।
ঘন রডোডেনড্রন বনের ছায়াঘেরা সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে মূল গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন, তা টেরও পাবেন না। হাঁটাপথের ক্লান্তি নিমেষেই ধুয়ে দেবে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী হাতছানি।