বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ আর তার চেয়েও বেশি বোধহয় মাছের পদের তালিকা। ভোজের পাতে রুই-কাতলার কদর থাকলেও, দিনের শেষে ছোট মাছের চচ্চড়ি না হলে ঠিক মন ভরে না। বিশেষ করে পুঁটি মাছের মতো দেশি মাছ যখন সর্ষের ঝাঁজ আর কাঁচা তেলের গন্ধে ম-ম করে, তখন গরম ভাতের সঙ্গে আর কিছুই লাগে না।
রান্না মানেই যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খুন্তি নাড়া, তা কিন্তু নয়। আজকের ব্যস্ত জীবনে কম সময়ে অথচ জিভে জল আনা পদ যদি পাতে পড়ে, তবে গৃহিণীর কদর বাড়ে কয়েক গুণ। ঝটপট বানিয়ে নেওয়ার জন্য হাতে মাখা পুঁটি মাছের চচ্চড়ির কোনও বিকল্প নেই। এই রান্নাটির বিশেষত্ব হলো এর সারল্য আর উপকরণের সদ্ব্যবহার।
প্রথমেই বাজার থেকে একদম টাটকা ২৫০-৩০০ গ্রাম পুঁটি মাছ আনিয়ে নিন। রান্নার স্বাদ অর্ধেক নির্ভর করে মাছ কতটা তাজা তার ওপর। ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে মাছগুলো রান্নার জন্য প্রস্তুত করুন। সঙ্গে রাখুন পর্যাপ্ত কুচনো পেঁয়াজ, চেরা কাঁচা লঙ্কা এবং অবশ্যই সর্ষে বাটা।
এই রান্নার আসল তুকতাক হলো হাত দিয়ে মাখানো। একটি পাত্রে মাছের সঙ্গে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা লঙ্কা, সর্ষে বাটা, পরিমাণমতো নুন, হলুদ গুঁড়ো এবং সামান্য রসুন বাটা দিয়ে দিন। এবার তাতে চার চামচ কাঁচা সর্ষের তেল ঢেলে যত্ন সহকারে হাত দিয়ে মেখে নিন। রসুন বাটা দেওয়াটা অবশ্য ঐচ্ছিক, তবে দিলে স্বাদ খুলবে অন্যভাবে।
মশলা দিয়ে মেখে মাছগুলো অন্তত দশ থেকে পনেরো মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখতে ভুলবেন না। এতে সর্ষের ঝাঁজ আর তেলের গন্ধ মাছের প্রতিটি রন্ধ্রে প্রবেশ করবে। হাতে হাতে রান্নার এই জাদুটুকু না করলে কিন্তু আসল স্বাদটা মিস করবেন। সর্ষের ঝাঁজ যখন নাকে আসবে, তখনই বুঝবেন রান্নার প্রাক-প্রস্তুতি একদম জম্পেশ হয়েছে।
এবার কড়াইতে সামান্য সর্ষের তেল গরম করে নিন। তেল তেতে ধোঁয়া উঠলে মেখে রাখা মাছের পুরো মিশ্রণটি একবারে ঢেলে দিন। মনে রাখবেন, এই রান্নাটি হবে একদম কম আঁচে। মাছ আর পেঁয়াজ থেকে যেটুকু রস বেরোবে, তাতেই মাছ সেদ্ধ হয়ে যাবে। আলাদা করে জল দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
রান্না চলাকালীন খুব বেশি খুন্তি চালাবেন না। পুঁটি মাছ ভীষণ নরম প্রকৃতির হয়, বেশি নাড়াচাড়া করলে ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে। সাবধানে একবার উল্টে দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। অল্প সময়ের মধ্যেই দেখবেন রান্নার চারপাশ দিয়ে তেল ভেসে উঠতে শুরু করেছে।
সবশেষে নামানোর আগে ওপর থেকে আরও কয়েকটা কাঁচা লঙ্কা আর এক চামচ কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে দিন। এবার আঁচ বন্ধ করে মিনিট দুয়েক দমে রাখুন। ব্যাস, তৈরি আপনার অমৃত সমান হাতে মাখা পুঁটি মাছের সর্ষে চচ্চড়ি। গরম ভাতের প্রথম পাতে এটি থাকলে অন্য পদের কথা আপনি ভুলে যেতে বাধ্য।