শৈলশহর দার্জিলিং ঘুরতে গিয়ে খেলনা গাড়ির কু ঝিকঝিক শব্দে পাহাড়ের বুক চিরে ভেসে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা। মেঘ পাহাড়ের লুকোচুরির মাঝে হেরিটেজ তকমাধারী এই টয়ট্রেনে চাপার জন্য পর্যটকদের ভিড় বরাবরই চোখে পড়ার মতো।
এবার সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাতে যাওয়া সেই পাহাড়প্রেমীদের জন্য এক দারুণ সুখবর নিয়ে এল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে বা ডিএইচআর।বর্তমানে ডিএইচআরের ১৩টি জয়রাইড চালু রয়েছে এবং সবকটিতেই এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
পর্যটনের ভরা মরশুমে গরম থেকে রেহাই পেতে দেশী ও বিদেশী অগণিত মানুষ ভিড় জমিয়েছেন পাহাড়ে।
টিকিটের বিপুল চাহিদার কারণে অনেকেই টয়ট্রেনে চাপার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। সেই সমস্ত সাধারণ পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ।
ডিএইচআর সূত্রে খবর প্রতিটি জয়রাইড থেকে এখন অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে আয়ের ক্ষেত্রে নজির গড়ছে রেল।
এই নজিরবিহীন সাফল্যের আবহেই আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে নতুন এই সান্ধ্যকালীন জয়রাইডের সূচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন এই উদ্যোগ পর্যটক মহলে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পাবে।
পাহাড়ের বুক চিরে দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত অত্যন্ত জনপ্রিয় রুটে চালানো হবে এই বিশেষ ট্রেনটি। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা নাগাদ দুই কামরার এই খেলনা গাড়িটি দার্জিলিং স্টেশন থেকে রওনা দেবে।
বাষ্পচালিত স্টিম ইঞ্জিন কুণ্ডুলী পাকানো ধোঁয়া উড়িয়ে ঘুম স্টেশন হয়ে পুনরায় দার্জিলিং স্টেশনে ফিরে আসবে। সব মিলিয়ে মোট দু ঘণ্টার এই সান্ধ্যকালীন জয়রাইডে পর্যটকরা তারায় ভরা আকাশের নীচে পাহাড়ের এক মায়াবী রূপ দেখার সুযোগ পাবেন।
ডিএইচআরের এই অভিনব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সেক্রেটারি সম্রাট সান্যাল। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের পর্যটন ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে খুব ভালো পদক্ষেপ।
এর ফলে পর্যটনশিল্পে অন্য মাত্রা যোগ হবে এবং ব্যাপক সাড়াও পাওয়া যাবে তবে একই সঙ্গে এই পরিষেবা নিয়মিত রাখা আবশ্যিক বলেও তিনি মনে করেন।
সব মিলিয়ে পাহাড়ের কোলে নতুন এই রাতের টয়ট্রেন সফর যে পর্যটকদের কাছে এক নতুন ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।
নাইট টয়ট্রেনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুকিঙের জন্য খোঁজ খবর শুরু হয়ে গিয়েছে পর্যটকদের বলে জানা গিয়েছে।