FIFA বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) শুরুই করলেন হ্যাটট্রিক গোল করে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলে এবারও যে তিনি একাই ১০০, তা প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি।
৩৮ বছর বয়সী বিশ্বতারকা মেসি আজ শুধু হ্যাটট্রিকই করলেন না, জীবনের ২০০ তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতা হিসেবেও রেকর্ড গড়ে ফেললেন LM10।
কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের গেহা ফিল্ডে ৬৯,০৪৫ জন দর্শকের সামনে মেসি এক দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দিলেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোল সংখ্যা ১৬-তে নিয়ে যান, যা জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসের গড়া সর্বকালের রেকর্ডের সমান।
মেসির বিশ্বকাপ কেরিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা রেকর্ড ভেঙে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে হ্যাটট্রিক করা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ও মেসিই। আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি মসৃণভাবে শুরু হয়নি। পঞ্চম মিনিটে মেসি বল জালে জড়ান, কিন্তু গোলটির বিল্ড-আপে অফসাইড থাকায় গোলটি বাতিল করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ফারেস চাবি গোল করলে আলজেরিয়াও উল্লাসে মেতে ওঠে, কিন্তু ভিএআর অফসাইড ঘোষণা করে।
প্রথম ১৫ মিনিট আলজেরিয়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের খোলাখুলিভাবে চ্যালেঞ্জ জানায় এবং বলের ওপর ভাল নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল। কিন্তু এরপর মেসি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে দিলেন। ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো দে পল একটি দুর্দান্ত থ্রু বল দেন। ডিফেন্ডারদের চাপ সত্ত্বেও মেসি চমৎকারভাবে বলটি টপ কর্নারে জড়িয়ে দেন।
এই গোলটি নানা দিক থেকেই বিশেষ ছিল। ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালের ১৬ জুন, মেসি সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোর বিপক্ষে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি করেছিলেন। এখন, সেই একই তারিখে, তিনি আরও একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় রচনা করলেন। এর মাধ্যমে মেসি পুরুষ ফুটবলের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এর আগে কেবল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
এই ম্যাচটি মেসির জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল। তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি আসরে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান পুরুষ ফুটবলার এবং বিশ্বের মাত্র তৃতীয় পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ২০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেন।
এখন বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ১৬টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট রয়েছে, অর্থাৎ মোট ২৪টি গোলে অবদান। মেসি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের ২১টি গোলে অবদানের রেকর্ডটি ছাড়িয়ে গিয়েছেন। বিশ্বকাপে টানা পাঁচটি ম্যাচে গোল করা খেলোয়াড়দের তালিকায় যুক্ত হলেন। বিশ্বকাপে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে তার গোলের সংখ্যা বেড়ে পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে, যা গত ছয় দশকের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ক্লাব ও দেশের হয়ে এটি ছিল তার কেরিয়ারের ৯১১তম গোলে অবদান।
এই জয় শুধু মেসির রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মতো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়লাভ করল। গ্রুপ ‘জে’-তে জয় দিয়ে আর্জেন্টিনা দারুণ সূচনা করল।
এখন তারা তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অস্ট্রিয়া ও জর্ডনের বিপক্ষে জয় নিয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার লক্ষ্য রাখবে। কিন্তু এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে কেবল একটি নাম নিয়েই আলোচনা হচ্ছে, লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সেও তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সেরা খেলোয়াড়দের বয়স দিয়ে নয়, বরং তাদের জাদু দিয়েই চেনা যায়।