কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইডেনের বিরুদ্ধে জিতে । এই অসাধারণ প্রত্যাবর্তন আবারও বিশ্বজুড়ে মেসির প্রতি উন্মাদনা জাগিয়ে তোলে।
কিন্তু আপনি কি জানেন, মাঠে জাদুর মতো খেলা দেখানো মেসি কীভাবে ফুটবলের বাইরে বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক এই খেলোয়াড়ের গল্প, যিনি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শুরু করে আজ শত শত কোটি টাকার এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
আজ সারা বিশ্ব লিওনেল মেসিকে ফুটবলের জাদুকর বলে ডাকে। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন তার পরিবার আর্জেন্টিনার রোজারিওতে খুব সাদামাটা জীবনযাপন করত। তার বাবা একটি ইস্পাত কারখানায় কাজ করতেন, আর মাখণ্ডকালীন চাকরি করতেন। আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, শৈশবে তার বৃদ্ধি হরমোনের ঘাটতির চিকিৎসা করানোটাও পরিবারটির জন্য কঠিন ছিল। এই সময়েই ফুটবল মেসির জীবনকে বদলে দিতে শুরু করে।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্প্যানিশ ক্লাব এ ফসি বার্সেলোনা মেসিকে তাদের একাডেমিতে নেয়। ক্লাবটি তার চিকিৎসার খরচ বহন করে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তার সেই যাত্রা, যাতাকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদে পরিণত করে।
ফোর্বসের মতে, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে লিওনেল মেসির মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকা) পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর ফলে তিনি বিশ্বের মাত্র চারজন ক্রীড়াবিদের একজন হবেন, যারা খেলার ছলেই বিলিয়নিয়ার হয়েছেন। এই বিশেষ তালিকায় আরও রয়েছেন লেব্রন জেমস, টাইগার উডস এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
মেসি তাঁর কেরিয়ারে শুধুমাত্র ক্লাব চুক্তি থেকেই প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এর সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্ট, লাইসেন্সিং, স্মারক বিক্রি এবং অন্যান্য ব্যবসা থেকে আয় যোগ করলে, তার মোট আয় প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অ্যাডিডাস, মাস্টারকার্ড, লে'স এবং মিশেলব আলট্রার মতো প্রধান ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আজীবন চুক্তিগুলো তাঁর আয়ের প্রধান উৎস।
মেসি শুধু তার উপার্জিত অর্থ রিয়েল এস্টেট, হোটেল, খেলাধুলা এবং অন্যান্য ব্যবসায়ও ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছেন। তার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে এ ডিফিচিও রোস্তাভার সোসিমি, একটি স্প্যানিশ তালিকাভুক্ত রিয়েল এস্টেট কোম্পানি যার মালিকানায় হোটেল, অফিস, বাণিজ্যিক ভবন এবং অন্যান্য সম্পত্তি রয়েছে। সম্প্রতি, কোম্পানিটিবার্সেলোনায় প্রায় ১১.৫ মিলিয়ন ইউরোতে একটি বড় কর্পোরেট ভবনও কিনেছে।
আজ মেসি শুধু একজন ফুটবল কিহ্বদন্তীই নন, বরং একজন সফল বিনিয়োগকারীও ব্যবসায়ীও। যে ছেলেটি একসময় চিকিৎসার জন্য সংগ্রাম করত, সে এখন হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক এবং মাঠের বাইরেও তার সম্পদ বেড়েই চলেছে।