অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রথমে ৫ জনকে ধরা হয়, পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধৃত সকলেই সোনারপুরের স্থানীয় বাসিন্দা। ঘটনার দিন অভিষেকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর সোনারপুর থানার পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
হামলার ঘটনা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। তৃণমূল একে গণতন্ত্রের উপর আঘাত বলছে, বিজেপি আবার জনরোষের তত্ত্ব সামনে আনছে।
বিজেপির অভিযোগ, গ্রেফতার হওয়া ৬ জনের কয়েক জন নাকি এক মাস আগেও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই কারণেই ঘটনাটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডলে এই দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, গ্রেফতারদের রাজনৈতিক অতীত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তৃণমূল অবশ্য হামলার জন্য সরাসরি বিজেপিকেই দায়ী করেছে। দলের দাবি, বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভিড়কে উসকানি দিচ্ছিলেন।
ঘটনার পর একাধিক ছবি প্রকাশ করেছে তৃণমূল। একটি ছবিতে আকাশ গায়ান নামে এক ব্যক্তিকে হামলাকারী বলে দাবি করা হয়েছে, যাঁকে বিজেপি কর্মী বলেও অভিযোগ শাসকদলের।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য হামলার ঘটনায় দলের কোনও ভূমিকা নেই বলে জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রবিবার তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর উপর হামলার অভিযোগ করেন। যদিও বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং সেই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নাটকের অভিযোগ করেছেন।