মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহে ইরানের ওপর যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র (Israel ও United States)। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি ঘিরে গোটা অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ইসরায়েলি সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক আধিকারিকও অভিযানে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে হামলার প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় লক্ষ্য করেও আঘাত হানা হয়েছে। যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হামলার পর ইসরায়েল জুড়ে এয়ার রেইড সাইরেন বাজানো হয়। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল বন্ধ, জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং অপ্রয়োজনীয় পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে তেহরানে বিস্ফোরণের পর মোবাইল নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে খবর। একাধিক এলাকায় ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পশ্চিম তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জুমহুরি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা পরপর দু’টি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
ইরান বিশেষজ্ঞ মেহরান কামারাভার মতে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে চাইছে। ২০২৫ সালের মতোই এবারের হামলাও সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হতে পারে বলে তাঁর দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত আরও বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বড়সড় সামরিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।
বর্তমানে দুই দেশের পক্ষ থেকেই কূটনৈতিক বিবৃতি আসছে। তবে মাটিতে বাস্তব পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগবে।