
মঙ্গলবার বিকেলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই তালিকায় বড়সড় চমক, দলের ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে এবার আর টিকিট দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, মোট সিটিং এমএলএদের প্রায় ৩৩ শতাংশকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
টিকিট না পাওয়া উল্লেখযোগ্য বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন শিবপুরের মনোজ তিওয়ারি, জোড়াসাঁকোর বিবেক গুপ্ত, মালদহের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, সাবিত্রী মিত্র, রত্না দে নাগ, পরেশ পাল প্রমুখ। এই সিদ্ধান্ত যে হঠাৎ নেওয়া হয়নি, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রের দাবি, স্থানীয় স্তরে ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা কাটাতেই এই পদক্ষেপ। অর্থাৎ, এলাকায় দল শক্তিশালী থাকলেও একই প্রার্থী থাকলে হারার সম্ভাবনা ছিল, তাই প্রার্থী বদল করে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
শুধু টিকিট কাটা নয়, ১৫ জন বিধায়কের আসনও বদল করা হয়েছে। যেমন, ডেবরার হুমায়ুন কবীরকে পাঠানো হয়েছে ডোমকলে, আর ডেবরায় প্রার্থী করা হয়েছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বেহালা পূর্বের রত্না চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বেহালা পশ্চিমে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে খড়দা থেকে এনে দাঁড় করানো হয়েছে বালিগঞ্জে। আবার সওকত মোল্লাকে ক্যানিংয়ের বদলে ভাঙড়ে প্রার্থী করা হয়েছে।
আসন বদলের জন্য দলের অনেক বিধায়কই আবেদন করেছিলেন। তবে সব আবদার মানেনি দলীয় নেতৃত্ব। যেমন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক হাবড়ার বাইরে অন্য আসনে লড়তে চাইলেও সেই আবেদন খারিজ করা হয়।
এদিকে, ১৩৫ জন বর্তমান বিধায়ককে ফের প্রার্থী করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন মুখও আনা হয়েছে বেশ কিছু কেন্দ্রে। চুঁচুড়ায় দেবাংশু ভট্টাচার্য, উলুবেড়িয়া পূর্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, খড়দায় দেবদীপ পুরোহিত, বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষ, নোয়াপাড়ায় তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, বেহালা পূর্বে শুভাশিস চক্রবর্তী এবং মহেশতলায় শুভাশিস দাসের মতো নতুন প্রার্থীরা তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।
সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেও নজর দিয়েছে তৃণমূল। এবারের তালিকায় তফসিলি জাতির ৭৮ জন, তফসিলি উপজাতির ১৭ জন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৭ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।