
হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া পূর্ব তৃণমূলের গড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে জিতেছে ঘাস ফুল শিবির। উলুবেড়িয়া পূর্ব সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র। ২০০৬ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশে গঠিত হয়েছিল। ২০০৯ সালের লোকসভা এবং ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এখানে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
উলুবেড়িয়ার একটি জটিল নির্বাচনী ইতিহাস রয়েছে। এটি প্রথম ১৯৫১ সালে একটি দুই আসনের বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে গঠিত হয়েছিল। বহাল ছিল ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৬২ সালের নির্বাচন থেকে উলুবেড়িয়া উত্তর এবং উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিভক্ত হয়। ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে এই দুটি আসন বিলুপ্ত করে উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ এবং উলুবেড়িয়া পূর্ব নামে ত...
হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া পূর্ব তৃণমূলের গড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে জিতেছে ঘাস ফুল শিবির। উলুবেড়িয়া পূর্ব সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র। ২০০৬ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশে গঠিত হয়েছিল। ২০০৯ সালের লোকসভা এবং ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এখানে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
উলুবেড়িয়ার একটি জটিল নির্বাচনী ইতিহাস রয়েছে। এটি প্রথম ১৯৫১ সালে একটি দুই আসনের বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে গঠিত হয়েছিল। বহাল ছিল ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৬২ সালের নির্বাচন থেকে উলুবেড়িয়া উত্তর এবং উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিভক্ত হয়। ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে এই দুটি আসন বিলুপ্ত করে উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ এবং উলুবেড়িয়া পূর্ব নামে তিনটি কেন্দ্রে ভাগ করা হয়। ২০১১ সাল থেকে এই তিনটি আসনেই জয়লাভ করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস।
উলুবেড়িয়া পূর্ব মূলত শহুরে আসন। গ্রামীণ ভোটারদের সংখ্যা খুবই কম। হাওড়া জেলার মহকুমা সদর উলুবেড়িয়া। বাংলা ক্যাডারের প্রাক্তন আইপিএস অফিসার এবং উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা হায়দার আজিজ সফি ছিলেন উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম প্রার্থী। তিনি ২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর মোহন মণ্ডলকে ১৯,৫৮৪ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে সাবিরুদ্দিন মোল্লাকে ১৬,২৬৯ ভোটে পরাজিত করে আসনটি ধরে রাখেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সফি। সমবায় দফতর দেখতেন। ২০১৬ সালে তাঁকে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার করা হয়। ২০১৮ সালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে প্রাক্তন সাংসদ ইদ্রিস আলি জয়লাভ করেন। বিজেপির প্রত্যুষ মণ্ডলকে ১৫,৭৯১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে আলিকে অন্য একটি আসনে স্থানান্তরিত করা হয়। উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রে প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার বিদেশরঞ্জন বোসকে প্রার্থী করে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির প্রত্যুষ মণ্ডলকে ১৭,১২৬ ভোটের ব্যবধানে হারান। অক্ষুণ্ণ থাকে তৃণমূলের জয়ের রেকর্ড। সেই সঙ্গে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর আসনে বসে বিজেপি।
হায়দার আজিজ সফির কাজের সুফল ভোগ করছে তৃণমূল কংগ্রেস। 'উলুবেড়িয়ার রূপকার' উপাধি পেয়েছিলেন সফি। উলুবেড়িয়া স্টেডিয়াম, রেলওয়ে ওভারব্রিজ, উলুবেড়িয়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, পানীয় জল প্রকল্প, নতুন ও উন্নত রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তার আলো, স্কুলে সিসিটিভি, পাবলিক টয়লেট এবং শহর জুড়ে শ্মশান ও কবরস্থানের নির্মাণ বা উন্নয়ন করেছিলেন
উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের হারও ব্যাপক। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে সিপিএমের চেয়ে ১৬,৮৭৪ ভোটে এবং ২০১৪ সালে ১৪,৭৬৭ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। তার পর দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূলকে হারাতে পারেনি। উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রে ২০১৯ সালে বিজেপির চেয়ে ১৯,৭৮৮ ভোটে এবং ২০২৪ সালে ২৪,৪২৬ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৪১,৬৮৯ জন। ২০২১ সালে ছিল ২৩৩,৭৬৪ জন, ২০১৯ সালে ২২০,৩৯৭ জন, ২০১৬ সালে ২০৫,৯৮৯ জন এবং ২০১১ সালে ছিল ১৭৬,৯২২ জন।
এটি মুসলিম-অধ্যুষিত আসন। মোট ভোটারের ৪১.৪০ শতাংশ মুসলিম। তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটারদের হার ১৩.৭১ শতাংশ। এই কেন্দ্রের প্রায় ৯৬.৭১ শতাংশ ভোটার উলুবেড়িয়া শহরে বাস করেন। বাকি ৩.২৯ শতাংশ ভোটার দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের। ভোটার উপস্থিতির হার বেশি। ২০১১ সালে ৮৩.৮৮ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৩.১৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮১.০৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮২.৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৮.৩৪ শতাংশ।
উলুবেড়িয়া শহরটি হাওড়া জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে হুগলি নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। এটি নিম্ন গঙ্গা অববাহিকার সমতল পলিমাটির সমভূমি। মাটি উর্বর এবং এটি একটি সাধারণ ব-দ্বীপ ভূখণ্ড। ছোট ছোট খাল দিয়ে ঘেরা। ভারী বৃষ্টির সময় নীচু এলাকাগুলিতে জল জমে। এই অঞ্চলটি হুগলি শিল্পাঞ্চলের অংশ। যা ভারতের অন্যতম প্রাচীন শিল্পাঞ্চল। নদীর তীর বরাবর পাট, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবহণ এবং পরিষেবা শিল্প ছড়িয়ে রয়েছে।
উলুবেড়িয়া কলকাতা-সংলগ্ন শহর। জাতীয় সড়ক ও রেলপথ দিয়ে যুক্ত। গুরুত্বপূর্ণ রেল ও সড়কের পাশে অবস্থানের কারণে বাণিজ্য ও পরিবহণ কেন্দ্র।
Pratyush mandal
BJP
Abbas uddin khan
RSSCMJP
Nota
NOTA
Sushanta dolui
IND
Anowar mallick
IUC
Ganesh das
IND
Siyabaddin kaji
IND
Sabiruddin molla
CPM
Papiya mondal
BJP
Imtiaz ahmed mollah (mim)
IND
Nota
NOTA
Nakul bag
IND
Provas hazra
IND
Mansa sen
WPOI
Anowar mallick
IUC
Raja ram das
BSP
Premananda dan
IND
Ganesh das
IND
Sukhen mondal
SUCI