
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে নজিরবিহীন ভোটদানের সাক্ষী থাকল বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন। পশ্চিম মেদিনীপুরের গরবেতা বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তরবিল-মাঝপাড়া গ্রামের ২৩৮ নম্বর বুথে রেকর্ড ৯৯.৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ভারতীয় নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
মোট ৫৩৬ জন ভোটারের মধ্যে ৫৩৩ জন সরাসরি ভোট দেন, আর একজন পোস্টাল ব্যালটে অংশ নেন। মাত্র দু’জন অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে পারেননি। ফলে কার্যত শতভাগ ভোটদানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় এই বুথ। সকাল শুরু হওয়ার আগেই দীর্ঘ লাইন, আর দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ ভোটগ্রহণ শেষ, এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।
এই বুথে ৪১৫ জন মুসলিম এবং ১২১ জন হিন্দু ভোটার থাকলেও, ভোটদানের উৎসাহ ছিল সর্বস্তরেই চোখে পড়ার মতো। শুধু এই বুথই নয়, গোটা প্রথম দফাতেই ভোটের হার ছিল নজরকাড়া, ১৫২টি আসনে গড়ে ৯২.৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা একক পর্যায়ে রেকর্ড।
নির্বাচন কমিশন এই উচ্চ ভোটদানের কৃতিত্ব দিয়েছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ ‘এসআইআর’ বা ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হওয়া আশঙ্কা। অনেকের মনে ভয় ছিল, ভোট না দিলে ভবিষ্যতে নাম বাদ পড়তে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, এই আশঙ্কার জেরেই বহু পরিযায়ী শ্রমিক নিজের খরচে গ্রামে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন। অনেকেই আগেভাগে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট সারেন, যাতে কোনও ঝুঁকি না থাকে।
মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ, ভগবানগোলা, লালগোলা বা ডোমকলের মতো এলাকাতেও ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। এসব অঞ্চলেও সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত বেশি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা থেকেই সংখ্যালঘুদের মধ্যে এই বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। ফলে ভোটদানে আগ্রহও বেড়েছে বহুগুণ।
ভোটের পর আরও এক নতুন ছবি সামনে এসেছে, অনেক পরিযায়ী শ্রমিক কালির দাগযুক্ত আঙুল দেখিয়ে বুথের বাইরে ছবি তুলছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এই ছবিই হবে প্রমাণ।