
ভগবানগোলা মুর্শিদাবাদ জেলার একটি গ্রামীণ, নদীমাতৃক বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগুরু। এই কেন্দ্রে আনুগত্যের পরিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং কোনও একক দল স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পায়নি। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত ভগবানগোলা হল একটি সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র যা ভগবানগোলা II কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং ভগবানগোলা I ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এটি মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। ভগবানগোলা আসনটি ১৯৫৭ সালে তৈরি হয়েছিল এবং তখন থেকে এটি ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। কেন্দ্রটি অবস্থান পরিবর্তন এবং মিশ্র রায় দেওয়ার জন্য পরিচিত, কারণ কোনও দলই এই...
ভগবানগোলা মুর্শিদাবাদ জেলার একটি গ্রামীণ, নদীমাতৃক বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগুরু। এই কেন্দ্রে আনুগত্যের পরিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং কোনও একক দল স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পায়নি। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত ভগবানগোলা হল একটি সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র যা ভগবানগোলা II কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং ভগবানগোলা I ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এটি মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। ভগবানগোলা আসনটি ১৯৫৭ সালে তৈরি হয়েছিল এবং তখন থেকে এটি ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। কেন্দ্রটি অবস্থান পরিবর্তন এবং মিশ্র রায় দেওয়ার জন্য পরিচিত, কারণ কোনও দলই এই আসনটি একতরফা দখল করার দাবি করতে পারে না। কংগ্রেস দল এখান থেকে সর্বাধিক ছয়বার জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে ১৯৭২ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে টানা তিনটি জয় রয়েছে। স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদরা এই আসনটি তিনবার জিতেছেন। পশ্চিমবঙ্গ সমাজতান্ত্রিক দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুবার জিতেছে, যেখানে প্রজা সমাজতান্ত্রিক দল, সংযুক্ত সমাজতান্ত্রিক দল, সমাজবাদী পার্টি এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) একবার করে জয় পেয়েছিল। এই নির্বাচনী কেন্দ্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রাধান্য বেশি, যার ভোটার সংখ্যা প্রায় ৮৫.৭০ শতাংশ, অন্যদিকে হিন্দু এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোটাররা বাকি ১৪.৩০ শতাংশ, যার মধ্যে ৫.৪২ শতাংশ তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের। ভগবানগোলা থেকে নির্বাচিত ১৩ জন বিধায়কের তালিকাতেও এই প্রভাব দৃশ্যমান, যাদের মধ্যে মাত্র দুজন হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিলেন এবং প্রথম দশকে তারা একসঙ্গে তিনবার জিতেছিলেন। ২০০১ এবং ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী হিসেবে এই আসনটিতে জয়ী হন চাঁদ মহম্মদ। ২০১১ সালে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে তিনি টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন, সেবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাগির হোসেনকে ১৩,৩৩৪ ভোটে পরাজিত করেন, কিন্তু পরে তিনি রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সিপিআই(এম) ২০১৬ সালে ভগবানগোলায় তাদের প্রথম জয় পায়, যখন তাদের প্রার্থী মহাসিন আলী তৃণমূলের আবু সুফিয়ান সরকারকে ৩৬,৩০৫ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস আসনটি ছিনিয়ে নেয়, কারণ তাদের মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলী সিপিআই(এম) এর মোঃ কামাল হোসেনকে ১,০৬,০০৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০২৪ সালে ইদ্রিস আলীর মৃত্যুর ফলে উপ-নির্বাচন হয়। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস রেয়াত হোসেন সরকারকে প্রার্থী করে আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে কংগ্রেস দলের অঞ্জু বেগমকে পরাজিত করলেও তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান কমে ১৫,৬১৭ ভোটে দাঁড়িয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনের সময় ভগবানগোলা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের প্রবণতাও এর ভোটারদের পরিবর্তনশীল মেজাজের প্রতিফলন ঘটায়। ২০০৯ সালে কংগ্রেস দল সিপিআই(এম)-এর থেকে ৯,৮৮৬ ভোটে এগিয়েছিল। ২০১৪ সালে সিপিআই(এম) ৮,৫১৩ ভোটে এগিয়ে শীর্ষে উঠে আসে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে ২০১৯ সালে ২৪,৯৭২ ভোটে এগিয়ে যায় এবং ২০২৪ সালে সিপিআই(এম)-এর থেকে ২৩,৭৭৬ ভোটে এগিয়েছিল। ভগবানগোলা মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গি-ভাগিরথী আন্তঃপ্রবাহে অবস্থিত, যা বাগরি অঞ্চলের একটি নিম্নভূমি। উর্বর পলিমাটি এবং নদী ও খালগুলি দ্বারা বেষ্টিত। পদ্মা, এই অংশে গঙ্গার প্রধান শাখা নদী, জেলার পূর্ব সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয় এবং ভগবানগোলা এবং এর সংলগ্ন ভারতীয় অঞ্চলকে বাংলাদেশের সীমান্তে থাকা চাঁপাই নবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী জেলা থেকে পৃথক করে। ঐতিহাসিকভাবে, ১৮ শতকে বাংলার নবাবদের অধীনে ভগবানগোলা একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর এবং বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। সেইসময় জলপথ মুর্শিদাবাদ ও পটনাকে উত্তর ভারতের অন্যান্য কেন্দ্রগুলির সঙ্গে সংযুক্ত করেছিল। আর এই অবস্থানের সুবিধা লাভ করে ভগবানগোলা। আজ এটি একটি সাধারণ গ্রামীণ কেন্দ্র, তবে নদী-ভিত্তিক বাণিজ্য ও চলাচলের ঐতিহ্য রয়ে গেছে, নৌকা এবং ফেরি এখনও স্থানীয় যোগাযোগ এবং আন্তঃসীমান্ত যান চলাচলে বড় ভূমিকা পালন করে। ভগবানগোলার অর্থনীতি মূলত সমৃদ্ধ পলিমাটি সমভূমিতে কৃষিকাজ দ্বারা পরিচালিত হয়, যেখানে ধান, পাট এবং শাকসবজি প্রধান ফসল। এছাড়া মাছ ধরা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মতো নদী-সম্পর্কিত কার্যকলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভূখণ্ডটি সমতল এবং বন্যাপ্রবণ। পদ্মা এবং এর খালগুলির ভাঙনের ফলে ভূমিধসের কারণে স্থানীয় সম্প্রদায়ের বসতি বারবার প্রভাবিত হয়। সড়ক ও রেল যোগাযোগ ভগবানগোলাকে মুর্শিদাবাদের বাকি অংশ এবং কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত করে। লালগোলা লাইনের ভগবানগোলা রেলওয়ে স্টেশনটি এই অঞ্চলটিকে শিয়ালদার সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই নির্বাচনী এলাকাটি মুর্শিদাবাদ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর বহরমপুর থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা বহরমপুর এবং কৃষ্ণনগর হয়ে রেল ও সড়কপথে প্রায় ২১৫ থেকে ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কাছাকাছি শহর এবং উন্নয়ন কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তরে লালগোলা, দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ডোমকল এবং দক্ষিণে জলঙ্গি। এই শহরগুলি স্থানীয় রাস্তা দিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে। সংলগ্ন মালদা জেলার প্রধান নগর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র মালদা শহর উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, অন্যদিকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলি, যেমন রাজশাহী এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জ, পদ্মার বিপরীত তীরে আনুমানিক ৪০ থেকে ৭০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত, যদিও প্রত্যক্ষ আইনি প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত এবং পরোক্ষ রুটগুলি দীর্ঘ। ২০২৪ সালে ভগবানগোলা আসনে ২,৭৭,৩১০ জন রেজিস্ট্রেড ভোটার ছিলেন। ২০২১ সালে সংখ্যাটা ছিল ২,৬৩,৭৬৫ জন এবং ২০১৯ সালে ২৪৮,৭৫২ জন। এটি একটি গ্রামীণ আসন যেখানে কোনও শহুরে ভোটার নেই। ওঠানামা সত্ত্বেও ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্য। ২০১১ সালে ৯০.৮৮ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৫.৯৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৫.৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। পদ্মা নদী সীমান্ত এবং সেতু উভয়ই হিসেবে কাজ করে। এটি ভগবানগোলাকে বাংলাদেশ থেকে পৃথক করে, তবুও এর অসংখ্য চরভূমি এবং খালগুলি ধরে কয়েক দশক ধরে মানুষের চলাচলকে চলছে। এমনকি বাংলাদেশ থেকে যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই অনেকে ভারতে প্রবেশ করে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে এই অঞ্চলে মুসলিম বাসিন্দাদের সংখ্যা খুব বেশি, যা ভোটারদের পছন্দ এবং ভগবানগোলা এবং আশেপাশের নির্বাচনী এলাকার নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করে। জনসংখ্যার দিক থেকে হিন্দুদের সংখ্যা খুবই কম থাকার কারণে, ভগবানগোলায় বিজেপি তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি এবং এখনও ভোটের ক্ষেত্রে দুই অঙ্কে পৌঁছতেও লড়াই করতে হচ্ছে। যদিও রাজ্যের অন্যান্য অংশের মতো বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট ভগবানগোলায় সক্রিয়, তবুও তৃণমূল কংগ্রেস এখানে অনেক এগিয়ে রয়েছে। কাগজে কলমে,আসন্ন বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় কেবল সংয়ের অপেক্ষা।
Md. kamal hossain
CPI(M)
Mehebub alam
BJP
Nota
NOTA
Md. mosaraf hossain
IND
Seikh rabiul alam
BSP
Syed imran ali meerza
IND
Rejaul karim sk
IUML
Abdul mabud nayan
SUCI
Mst. sikha khatun
BAHUMP
Md. nurul islam
IND
Ali hossain
UTSAP
Abu sufian sarkar
AITC
Mehebub alam
BJP
Syed imran ali meerza
IND
Hajikul alam
SP
Nota
NOTA
Kamal pasha
IUML
Ruhul amin
SUCI
Asaduzzaman
MPOI
Abdul matin
IND
Anju begam
IND