
মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ মহকুমার লালগোলা একটি সাধারণ ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র এবং জঙ্গিপুর লোকসভা আসনের অধীনে সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এটি লালগোলা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভগবানগোলা ১ ব্লকের কান্তনগর গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। পদ্মার তীরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত লালগোলা সীমান্ত চেকপয়েন্ট এবং ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। নদীতীরবর্তী সীমানার কারণে এই এলাকাটি প্রায়শই আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে এবং এর প্রতিফলন দেখা যায় ভোটার সংখ্যার তীব্র বৃদ্ধিতে। ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৮৭,৮৪৩ জন ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মাত্র ৫,৩৮২ জন ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই ঘট...
মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ মহকুমার লালগোলা একটি সাধারণ ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র এবং জঙ্গিপুর লোকসভা আসনের অধীনে সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এটি লালগোলা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভগবানগোলা ১ ব্লকের কান্তনগর গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। পদ্মার তীরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত লালগোলা সীমান্ত চেকপয়েন্ট এবং ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। নদীতীরবর্তী সীমানার কারণে এই এলাকাটি প্রায়শই আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে এবং এর প্রতিফলন দেখা যায় ভোটার সংখ্যার তীব্র বৃদ্ধিতে। ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৮৭,৮৪৩ জন ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মাত্র ৫,৩৮২ জন ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই ঘটনা বিরোধীদের অভিযোগকে আরও উসকে দিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তাদের ভোটের ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য অবৈধ অভিবাসনকে সুযোগ দিচ্ছে। লালগোলা বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়েছিল এবং এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনের সবকটিতেই অংশ নিয়েছে। সাত দশক ধরে, এটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল, ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস অবশেষে শৃঙ্খল ভাঙে। তার আগে পর্যন্ত কংগ্রেস প্রথম ১৬টি নির্বাচনে জয়লাভ করে। কংগ্রেস বিজয়ীদের মধ্যে, সৈয়দ কাজিম আলী মির্জা প্রথম তিনটি নির্বাচনে জয়লাভ করেন, আবদুস সাত্তার পরবর্তী সাতটিতে জয়লাভ করেন এবং আবু হেনা টানা ছয়টি নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের আলী মোহাম্মদ আবু হেনাকে ৬০,৭০৭ ভোটে পরাজিত করার পর কংগ্রেস দলের আধিপত্য শেষ হয় এই আসনে। হেনা এর আগে ২০১৬ সালে এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী চাঁদ মোহাম্মদকে ৫৩,৪৭৫ ভোটে পরাজিত করেন এবং ২০১১ সিপিআই(এম)-এর ইয়ান আলীকে ১৬,১৮৪ ভোটে পরাজিত করেন। কংগ্রেস ২০১১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে এই আসনে লড়াই করেছিল এবং ২০২১ সালে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। লালগোলা বিধানসভা কেন্দ্রের সংসদীয় নির্বাচনের প্রবণতাও কংগ্রেসের দীর্ঘ আধিপত্যের প্রতিফলন ঘটায়। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এই আসনে সিপিআই(এম)-এর চেয়ে ১৩,০২৭ ভোটে এগিয়ে ছিল এবং ২০১৪ সালে ১২,৫১৪ ভোটে এগিয়ে ছিল। এরপর তৃণমূল কংগ্রেস ২০১৯ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের চেয়ে ১৮,৫৪০ ভোটে এগিয়ে ছিল, তবে কংগ্রেস ২০২৪ সালে তৃণমূলের চেয়ে ১৪,১৩৮ ভোটের ব্যবধানে এই কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল। ২০২৪ সালে লালগোলায় রেজিস্ট্রেড ভোটার ছিলেন ২৪৯,১০২ জন। ২০২১ সালে সংখ্যাটা ছিল ২,৩৪,৩৮১ জন এবং ২০১৯ সালে ২,১৯,৫২০ জন। ভোটারদের সংখ্যার ৭৭.৩০ শতাংশ মুসলিম, যেখানে তফসিলি জাতির ভোটার রয়েছেন ৯.৫৯ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি মাত্র ০.০৫ শতাংশ। এই নির্বাচনী এলাকাটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ এবং তালিকায় কোনও শহুরে ভোটার নেই। ভোটদানের হার উচ্চ, যদিও সম্প্রতি তা কমেছে। ২০১১ সালে ৮৮.৬৯ শতাংশ থেকে ২০১৬ সালে কমে তা ৮২.৯১ শতাংশ হয়। ২০১৯ সালে ৮০ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮১.৪১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৪.৬৭ শতাংশ ভোটদানের হার ছিল। লালগোলা শহরটি মুর্শিদাবাদ জেলার পূর্ব দিকে গঙ্গা বদ্বীপের মাথার কাছে অবস্থিত। এর কাছেই রয়েছে পদ্মা নদীর যা বাংলাদেশের সীমানা তৈরি করে। ঐতিহাসিকভাবে, ১৭৯৩ সালের স্থায়ী বন্দোবস্তের অধীনে লালগোলা একটি জমিদারি কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছিল এবং পরে ঔপনিবেশিক যুগের জমিদারি, বাজার এবং নদী-ভিত্তিক বাণিজ্যের সঙ্গে একটি বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। আজ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড প্রধানত কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র বাণিজ্য এবং সীমান্ত-সংযুক্ত কার্যকলাপ। লালগোলা হল কলকাতা শহরতলি রেলওয়ের রানাঘাট-কৃষ্ণনগর সিটি লালগোলা ব্রডগেজ লাইনের টার্মিনাল স্টেশন, যা এটিকে সরাসরি কৃষ্ণনগর, রানাঘাট এবং শিয়ালদার সঙ্গে সংযুক্ত করে, যা দীর্ঘদিন ধরে মুর্শিদাবাদের বাগরি অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন রুট হিসেবে কাজ করে আসছে। সড়কপথে, লালগোলা মুর্শিদাবাদ শহর থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং জেলা সদর বহরমপুর থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে। একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল ও হাইওয়ে জংশন, ফারাক্কা, রুটের উপর নির্ভর করে প্রায় ৫৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা, প্রায় ২২০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত, সাধারণত বহরমপুর এবং কৃষ্ণনগর হয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। সীমান্তের ওপারে, বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এবং পদ্মার বিপরীত তীরে অবস্থিত কাছাকাছি জনবসতিগুলি লালগোলার নদীর ঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা আন্তঃসীমান্ত আর্থ-সামাজিক সংযোগ সহ একটি সীমান্ত অঞ্চল হিসাবে এর চরিত্রকে তুলে ধরে। মুসলিম ভোটারদের ঘনত্বের কারণে, লালগোলায় বিজেপি এখনও প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে, তাদের ভোটের ভাগ ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ। সেইসঙ্গে এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় হওয়ার জন্য লড়াই করছে। অতএব, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মূলত তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যারা একদা পুরনো মিত্র। দুই দলেরই এই কেন্দ্রে সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে বিজেপি তার আবেদন প্রসারিত করার জন্য অপ্রত্যাশিত উপায় খুঁজে না পেলে, লালগোলায় সম্ভবত কংগ্রেস ও তৃণমূলেক মধ্যে সরাসরি দ্বিমুখী লড়াই হবে যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠরা বিজয়ী নির্ধারণ করবেন।
Abu hena
INC
Kalpana ghosh
BJP
Abhijit haldar
IND
Nota
NOTA
Najima kayal
SDPI
Bharat chandra biswas
BSP
Muntasir zamil
SUCI
Kakali debnath
LJP
Chand mohammad
AITC
Amar kumar das
BJP
Md. sahabuddin
SDPI
Nota
NOTA
Bharat biswas
BSP
Prasanta sarkar
SP