রান্নাঘরের ডাস্টবিনে যে খোসাগুলো অবহেলায় ঠাঁই পায়, তাদের মধ্যেই কিন্তু লুকিয়ে আছে অমৃত সমান স্বাদ। আমরা সচরাচর লাউ, পটল, পেঁপে কিংবা তরমুজের খোসা ফেলে দিতেই অভ্যস্ত। কিন্তু সামান্য একটু বুদ্ধিখরচ আর হাতের জাদুতে এই অবহেলিত অংশগুলো দিয়েই তৈরি করা যায় দারুণ পুষ্টিকর ও মুখরোচক আচার। গরম ভাতের পাতে এক চামচ খোসার আচার থাকলে বিরিয়ানিকেও হার মানাতে বাধ্য।
পটল বা ঝিঙের খোসা আজ থেকে আর ফেলবেন না। পটল বা ঝিঙের খোসাগুলো খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। কড়াইতে খাঁটি সরিষার তেল গরম করে তাতে কালোজিরা, রসুন এবং শুকনো লঙ্কার ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বেরোলে খোসাগুলো দিয়ে ভালো করে ভাজুন। এরপর এতে পরিমাণমতো তেঁতুলের ক্বাথ অথবা ভিনিগার এবং সামান্য গুড় মিশিয়ে নিন। নাড়াচাড়া করতে করতে যখন মিশ্রণটি ঘন হয়ে আসবে, তখনই তৈরি হয়ে যাবে আপনার শখের আচার।
কাঁচা পেঁপের খোসা দিয়েও যে রাজকীয় আচার বানানো যায়, তা অনেকেই জানেন না। পেঁপের খোসাগুলো ছোট ছোট করে কেটে প্রথমে ভাপিয়ে নিন। এবার কড়াইতে সরিষার তেল ও পাঁচফোড়ন দিয়ে খোসাগুলো ভেজে নিন। তাতে সরষে বাটা, লঙ্কা গুঁড়ো এবং তেঁতুলের ক্বাথ দিয়ে ফুটিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে দারুণ এক টক-ঝাল পদ। দুপুরের রোদে ভাতের পাতে এই আচার যেন এক বাড়তি পাওনা।
লাউ বা চালকুমড়োর খোসা দিয়ে চটপটা স্বাদের আচার তৈরির পদ্ধতি আরও সহজ। প্রথমে খোসাগুলো একদম মিহি করে কুচিয়ে নিতে হবে। তারপর সরিষার তেলে রসুন আর লঙ্কা দিয়ে কড়া করে ভাজুন। স্বাদে একটু ভিন্নতা আনতে এতে সামান্য লেবুর রস অথবা আমচুর পাউডার ছিটিয়ে দিতে পারেন। এই চটপটা স্বাদ এক নিমেষেই মুখের রুচি ফিরিয়ে আনবে।
তরমুজ খাওয়ার পর ভেতরের সাদা অংশটি আমরা অনেকেই ফেলে দিই। অথচ এটি দিয়ে চমৎকার মোরব্বা বা মিষ্টি আচার বানানো যায়। তরমুজের ওই সাদা অংশটি ছোট টুকরো করে ফুটন্ত জলে ভাপিয়ে নিন। এরপর আলাদা করে চিনি বা গুড়ের সিরা তৈরি করে তাতে এলাচ দিয়ে ভাপানো টুকরোগুলো ফুটিয়ে নিন। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল তরমুজের মিষ্টি আচার, যা মিষ্টির বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে।
মোচার শক্ত বাইরের খোসা কিংবা খোসা ছাড়ানোর পরের অংশটিও ফেলনা নয়। এগুলো কুচিয়ে নিয়ে প্রথমে ভালো করে সেদ্ধ করে নিন। এরপর কড়াইতে সরষের তেল, ফোড়ন, আদা-রসুন বাটা ও লঙ্কা দিয়ে মশলা কষান। সেদ্ধ করা মোচার অংশটি দিয়ে জল শুকিয়ে আসা পর্যন্ত কষাতে থাকুন। তৈরি হয়ে যাবে ঝাল ঝাল আচার। মোচার গুণাগুণ আর আচারের স্বাদ, দুইই মিলবে একসঙ্গে।
তবে রান্নার আগে একটা কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। সবজির খোসায় অনেক সময় ধুলোবালি বা কীটনাশক থাকতে পারে, তাই রান্নার আগে খোসাগুলো খুব ভালো করে ধুয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নোংরা খোসা আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে, তাই পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনও আপস করবেন না। পরিষ্কার হাতে এবং পরিচ্ছন্ন খোসা ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এই ঘরোয়া আচারগুলো দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চাইলে কাঁচের বয়াম ব্যবহার করাই সবথেকে ভালো। প্লাস্টিকের বদলে কাঁচের বয়ামে আচার সংরক্ষণ করলে তার স্বাদ যেমন অটুট থাকে, তেমনই সহজে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। মাঝেমধ্যে একটু রোদে দিলে আচার আরও সতেজ থাকবে। আজকের এই মহার্ঘ্য টোটকা আপনার রান্নাঘরকে যেমন জঞ্জালমুক্ত করবে, তেমনই ডাইনিং টেবিলে আনবে তৃপ্তির হাসি।