Advertisement

লাইফস্টাইল

Sugar Cane Juice Recipe: বাজারেরটা খারাপ, বাড়িতে বানিয়ে খেলে খাদ্যগুণের খনি, দারুণ সুস্বাদুও

Aajtak Bangla
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 08 Jun 2026,
  • Updated 12:20 AM IST
  • 1/8

কলকাতা কড়া রোদে পুড়ে বাইরে থেকে বাড়ি ফিরেই এক গ্লাস কনকনে ঠান্ডা আখের রস খাওয়ার মজাই আলাদা। সঙ্গে যদি একটু লেবুর রস, এক চিমটি বিটনুন আর সামান্য আদা কুচি মিশিয়ে নেওয়া যায় তবে তো আর কথাই নেই। নিমেষের মধ্যে শুধু তেষ্টাই মেটে না বরং শরীর ও মন দুই-ই এক্কেবারে জুড়িয়ে যায়। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে আমাদের প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই আখের রসকে 'ইক্ষুরস' নামে অভিহিত করা হয়েছে। বাজারচলতি নানা প্যাকেটজাত নামী-দামী এনার্জি ড্রিঙ্কের তুলনায় এটি যেমন ১০ গুণ সস্তা তেমনই শরীরের জন্য ১০ গুণ বেশি উপকারী। এটি কেবল গরমের ক্লান্তি দূর করার সাধারণ কোনো পানীয় নয় বরং প্রকৃতির দেওয়া এক মহৌষধ।

 

  • 2/8

আসলে আখের রসকে প্রকৃতির নিজস্ব মাল্টিভিটামিন বলা যেতে পারে কারণ এর পুষ্টিগুণ অপরিসীম। এই রসের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ জল থাকে আর বাকি অংশ জুড়েই থাকে সুক্রোজ, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজের মতো উপকারী উপাদান। এর পাশাপাশি আখের রসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন এ, সি ও বি কমপ্লেক্সের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন মজুত থাকে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এতে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে এবং ফাইবার বা আঁশ একেবারেই থাকে না যার ফলে এটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই অত্যন্ত দ্রুত শক্তি জোগায় এবং হজম প্রক্রিয়ার ওপর কোনো বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না।

 

  • 3/8

চিকিৎসকদের মতে মানবদেহের লিভারকে প্রাকৃতিকভাবে ডিটক্সিফাই বা বিষমুক্ত করতে আখের রসের জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে জন্ডিস কিংবা ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যায় প্রাচীন আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় আখের রসকেই প্রথম ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আখের রসে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লিভারের ভেতর জমে থাকা সমস্ত ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দেয় এবং শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন নিয়ম করে মাত্র ১ গ্লাস তাজা আখের রস পান করলে লিভার সতেজ থাকে এবং সামগ্রিকভাবে হজম ক্ষমতা বহুগুণ ভালো হয়।

 

  • 4/8

গরমের দিনে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। আখের রস মূলত একটি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক পানীয় যা শরীরে বারবার প্রস্রাবের বেগ তৈরি করে মূত্রনালীর সমস্ত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে শরীর থেকে সহজে ধুয়ে বের করে দেয়। নিয়মিত এই রস পান করলে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে যায় এবং আখের রসের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে খেলে এর কার্যকারিতা পুরো ডবল হয়ে যায়।

 

  • 5/8

যারা নিয়মিত জিমে যান কিংবা মাঠে খেলাধুলো করেন তাদের জন্য এটি ওয়ার্কআউটের আগের একটি অনবদ্য জিম ড্রিঙ্ক হতে পারে। আখের রসে থাকা প্রাকৃতিক গ্লুকোজ সরাসরি রক্তে মিশে গিয়ে খেলোয়াড়, কড়া রোদে কাজ করা মেহনতি মানুষ এবং পড়ুয়াদের তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল এনার্জি বা শক্তি প্রদান করে। বাজারে উপলব্ধ বিভিন্ন কোল্ড ড্রিঙ্কসের মতো এতে ক্ষতিকর ক্যাফেইন থাকে না যার ফলে এটি পানের পর হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার কোনো ভয় থাকে না।

 

  • 6/8

স্বাস্থ্যরক্ষার পাশাপাশি ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতে এবং ব্রণের সমস্যা দূর করতেও আখের রস সমান কার্যকরী। আখের রসে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা এএইচএ নামক উপাদান থাকে যা ত্বকের মরা চামড়া তুলে ফেলে দ্রুত নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। প্রতিদিন এই রস নিয়ম করে খেলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং ব্রণের জেদি দাগছোপ হালকা হতে শুরু করে যার জন্য অনেকে আখের রস দিয়ে চমৎকার ফেসপ্যাকও বানিয়ে থাকেন।

 

  • 7/8

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়াতে আখের রসের কোনো বিকল্প হয় না কারণ এটি ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর থাকে। প্রতিদিন ১ গ্লাস করে এই রস খেলে সর্দি-কাশি, গলা খুসখুস, ভাইরাল ফিভার কিংবা গরমের কারণে শরীরে হওয়া বিভিন্ন রকমের ঘা হওয়ার হাত থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সবার জন্যই এই প্রাকৃতিক পানীয়টি অত্যন্ত নিরাপদ।

 

  • 8/8

তবে আখের রস খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি অতি জরুরি সোনার নিয়ম অবশ্যই মেনে চলা উচিত। দোকানদারের কাছ থেকে মেশিনে চেপে তৈরি করা রস সঙ্গে সঙ্গেই তাজা অবস্থায় খেয়ে নিতে হবে কারণ ১৫ মিনিটের বেশি এটি রেখে দিলে তাতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মায় যা থেকে পেট খারাপ হতে পারে এবং বরফ দেওয়া রস সবসময় এড়িয়ে চলাই ভালো। আখের রস কখনোই খালি পেটে খাওয়া উচিত নয় কারণ এটি অত্যন্ত মিষ্টি হওয়ায় খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে তাই সাধারণ মানুষ এটি ভরা পেটে খাবেন এবং ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ছোঁবেন না। শুধু মিষ্টি আখের রস খেলে অ্যাসিডিটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই এতে আদা কুচি, লেবুর রস আর বিটনুন মেশানো আবশ্যিক যা টেস্ট বাড়ানোর পাশাপাশি হজমও ভালো করায়। 

Advertisement

লেটেস্ট ফটো

Advertisement