Advertisement

খেলা

দেশের গর্ব! জ্বালা গুট্টা নিজের স্তন্যদুধ দান করলেন, ৬০ লিটার দুধ পেল দু'টি সরকারি হাসপাতাল

Aajtak Bangla
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 18 May 2026,
  • Updated 4:35 PM IST
  • 1/9

২০১৭ সাল অবধি শাটলার জ্বালা গুট্টা (Jwala Gutta) দেশের অন্যতম সফল ডাবলস স্পেশ্যালিস্ট পরিচিত ছিলেন। তাঁর নির্ভীক খেলার স্টাইল আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে। আন্তর্জাতিক আঙিনায় ভারতকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধার মেয়ে। 
 

  • 2/9

তবে কোর্টের বাইরেও তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন। ১৪ বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন জ্বালা ফের একবার খবরের শিরোনামে। তাঁর চমকে দেওয়া মানবিক পদক্ষেপ শোরগোল ফেলে দিয়েছেন নেটপাড়ায়। জ্বালা তাঁর মাতৃত্বের আঁচল শুধু নিজের সন্তানকেই বিছিয়ে দিলেন না। শয়ে-শয়ে নবজাতকের মা হয়ে গেলেন নিজের ৬০ লিটার স্তন্যদুগ্ধ দান করে।

  • 3/9

৪২ বছরের ব্যাডমিন্টন স্টারকে সবাই কুর্নিশ জানাচ্ছে এহেন মহানুভবতার জন্য। নবজাতকদের পুষ্টির প্রধান উৎসই হল মায়ের দুধ। এতে ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, খনিজ উপাদান এবং প্রোটিন থাকে, যা শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়। 

https://x.com/Guttajwala/status/2054952339082264754

  • 4/9

কিন্তু নানাবিধ কারণে অনেক শিশুই তার মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয়, বিশেষ করে যদি তারা এনআইসিইউ-তে (নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন থাকে। নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট হল হাসপাতালের এমন একটি বিশেষ বিভাগ, যেখানে অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়া, গুরুতর অসুস্থ এবং কম ওজনের নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা করা হয়। 
 

  • 5/9

আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনা করেই জ্বালা তাঁর সন্তান প্রসব-পরবর্তী প্রথম বছরে ৬০ লিটার মায়ের দুধ দান করেছেন। দেশের একমাত্র মহিলা হিসেবে জ্বালা মহিলা ও মিক্সড ডাবলস, উভয় বিভাগেরই শীর্ষ ১০ র‍্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেই জ্বালাই এক্সে শেয়ার করে জানালেন তাঁর স্তন্যদুগ্ধ দানের বিষয়টি।
 

  • 6/9

জ্বালা এক্সে লম্বা পোস্টে লেখেন, 'সন্তান প্রসবের পরবর্তী প্রথম বছরেই আমি হায়দরাবাদ এবং চেন্নাইয়ের সরকারি হাসপাতালগুলিতে প্রায় ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করেছি! এর গুরুত্ব কেন এত বেশি জানেন? মাত্র ১০০ মিলিলিটার দান করা দুধ দিয়ে ১ কেজি ওজনের একটি খুব ছোট্ট শিশুকে বেশ কয়েক দিন ধরেই খাওয়ানো সম্ভব। এই এককালীন দানেই এনআইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন থাকা ডজনখানেক শিশুর সাহায্য করতে পারে। মাতৃদুগ্ধ দান করা সম্পূর্ণ নিরাপদ, যথাযথভাবে পরীক্ষিত এবং বর্তমানে এর অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। শারীরিক জটিলতার কারণে এনআইসিইউ-তে থাকা অনেক শিশুই জন্মের পরপরই তাদের মায়ের দুধ পাওয়ার সুযোগ পায় না। এই অবস্থায় দান করা দুধ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বা ব্রিজ হিসেবে কাজ করে। এটি শিশুর জীবনের সেই সংকটপূর্ণ প্রাথমিক দিনগুলিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করে। যেসব মায়ের দুশ্চিন্তা, অসুস্থতা, অপুষ্টি কিংবা অকাল প্রসবের কারণে স্তনে দুধ আসতে দেরি হয়, তাদের জন্যও এই দান করা দুধ এক অপরিহার্য অবলম্বন হিসেবে কাজ করে। এটি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত যে, অকালজাত শিশুদের ক্ষেত্রে 'নেক্রোটাইজিং এন্টারোকোলাইটিস' নামের অন্ত্রের এক প্রাণঘাতী রোগের প্রকোপ কমাতে দান করা মাতৃদুগ্ধ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে! আপনি কীভাবে এই মহৎ কাজে সাহায্য করতে পারেন, তা জানতে আপনার স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করুন!'
 

  • 7/9

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে প্রকাশিত দ্য বিএমজে-র এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, মায়ের দুধের পরিপূরক হিসেবে জীবাণুমুক্ত দাতা-দুধ (ডোনার মিল্ক) ব্যবহার করা যেতে পারে, যা শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। শিশুর জীবনের প্রথম ২৮ দিন ধরে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১০ মিলিলিটার হারে এই দুধ পান করানো হলে, তা শিশুর 'সেপসিস' বা রক্তদূষণজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। 
 

  • 8/9

অকালজাত শিশুদের ক্ষেত্রে, এটি 'ব্রঙ্কোপালমোনারি ডিসপ্লেসিয়া' (ফুসফুসজনিত একটি জটিলতা)-এর প্রকোপ কমাতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া শিশুদের যখন ফর্মুলা দুধ খাওয়ানো হয় তার তুলনায় এই দুধ দেওয়া হলে তাদের ভেন্টিলেটর সহায়তার প্রয়োজন প্রায় তিন দিন কম হয়। 
 

  • 9/9

'হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া' সুস্থ ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের কাছ থেকে সংগৃহীত দাতা-দুধ সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা এবং সংরক্ষণ করে থাকে। আপনি এই জাতীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দুধ দান করতে পারেন অথবা কোনো স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে এ বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।
 

Advertisement

লেটেস্ট ফটো

Advertisement