পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার শেষ। দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটের আগে প্রচারের পর্দা নামতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৌঁছে গিয়েছেন সিকিমে। দু’দিনের সফরে এসে মঙ্গলবার সকালে গ্যাংটকে তাঁকে দেখা গেল একেবারে অন্য মেজাজে ফুটবল খেলতে।
সাধারণত রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায় যাঁকে, সেই মোদীকেই এদিন দেখা গেল মাঠে নেমে বল কিক করতে, গোল উদযাপন করতে। তিনি নিজেই সেই মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। পোস্টে লিখেছেন,'সিকিমের গ্যাংটকের এক সুন্দর সকালে তরুণ বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই।' ছবিতে স্পষ্ট, তিনি শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন না, বরং খেলার মধ্যে নিজেকে জড়িয়েই নিয়েছিলেন।
তবে এই ঘটনাকে শুধুই ‘হালকা মুহূর্ত’ বলে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক বার্তাও। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এক ধরনের আবেগ। বিশেষ করে কলকাতা ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যতম বড় কেন্দ্র। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের মতো ক্লাব ঘিরে যে আবেগ তৈরি হয়, তা রাজনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে, এমনটাই মনে করেন অনেকে।
শুধু শহর নয়, গ্রামবাংলাতেও ফুটবলের জনপ্রিয়তা বিপুল। ছোট ছোট ক্লাব, পাড়া টুর্নামেন্ট, সব মিলিয়ে ফুটবল বাংলার সামাজিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বকাপের সময় সেই উন্মাদনা আরও বেড়ে যায়, অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী প্রচার শেষ হওয়ার ঠিক পরেই এই দৃশ্য সামনে আসা তাৎপর্যপূর্ণ। সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না রেখেও, মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা, এটাই হতে পারে এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। বাংলায় ‘সংস্কৃতি’ এবং ‘পরিচয়’ রাজনীতির বড় ফ্যাক্টর। সেই জায়গায় পৌঁছতেই এমন সফট ইমেজের ব্যবহার বাড়াচ্ছে বিজেপি।
এটাও মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি বাংলায় নিজেদের ‘স্থানীয়’ হিসেবে তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলা ভাষায় বক্তৃতা, বাঙালি খাবার, সংস্কৃতি, সবকিছুকেই প্রচারের অংশ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই ফুটবলকেও রাজনৈতিক বার্তার বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
এই সফরের প্রথম দিনই গ্যাংটকে বড়সড় রোড শো করেছেন মোদী। রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি, সিকিমের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ৫১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে তাঁর।
এই সফরে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করার কথা প্রধানমন্ত্রীর। তবে রাজনৈতিক দিক থেকে দেখলে, ফুটবল মাঠে তাঁর উপস্থিতিই সবচেয়ে বেশি আলোচনা কুড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনী প্রচার শেষ হলেও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার লড়াই যে থেমে নেই, তা স্পষ্ট। কখনও সভা, কখনও রোড শো, আর কখনও ফুটবল মাঠ, সব জায়গাতেই চলছে জনসংযোগের নতুন নতুন কৌশল। আর সেই কৌশলের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের রাজনীতির ইঙ্গিত।