এমন অবিশ্বাস্য দৃশ্য ফুটবল দুনিয়া আগে কখনও দেখেনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের মহাবৈপ্লবিক টুর্নামেন্ট ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিল ফ্রান্স আর্জেন্টিনা স্পেন এবং ইংল্যান্ড। ঘটনাটিকে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলেছে মাঠের বাইরের এক পরিসংখ্যান। এই চারটি দলই বর্তমান সময়ে ফিফা পুরুষদের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের একদম শীর্ষ চার স্থানে রাজত্ব করছে।
ফিফা ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করার পর এই প্রথমবার এক অনন্য রেকর্ডের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের র্যাঙ্কিংয়ের এক থেকে চার নম্বরে থাকা চারটি দল একসঙ্গে বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠল। অতীতেও ব্রাজিল জার্মানি ইতালি আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্সের মতো একাধিক ফুটবল পরাশক্তিকে একসঙ্গে সেমিফাইনালের মঞ্চ কাঁপাতে দেখা গিয়েছে।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায় সেই সময় হয় ফিফার বিশ্ব র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু হয়নি নয়তো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল একই সঙ্গে শেষ চারে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেই দিক থেকে বিচার করলে ২০২৬ বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় একটি সম্পূর্ণ নতুন মাইলফলক তৈরি করল। মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে এই চার দলই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ হাতেনাতে দিয়েছে।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে তারা মিশরকে ৩-২ গোলে উড়িয়ে দেয়। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইৎজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে মাটি ধরিয়ে চরম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেমিফাইনালে পা রেখেছে লিওনেল মেসির দেশ।
অন্যদিকে ফরাসি ব্রিগেড ফ্রান্সও সমানভাবে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। নকআউট পর্বের শেষ ষোলোয় লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় লে ব্লুরা। কোয়ার্টার ফাইনালে টুর্নামেন্টের অন্যতম চমকপ্রদ দল মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। রক্ষণে দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তোলা এবং দ্রুত গতিতে পাল্টা আক্রমণ শানানোই এখন ফরাসিদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেনের পারফরম্যান্সও ফুটবল পণ্ডিতদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে তারা পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাস্ত করে। কোয়ার্টার ফাইনালে লাল ফৌজের সামনে পড়েছিল শক্তিশালী বেলজিয়াম। সেই ম্যাচে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে লা রোহা দেখিয়ে দিয়েছে যে বল নিজেদের দখলে রেখে চেনা ছন্দের ফুটবলের পাশাপাশি কঠিন ম্যাচ জেতার মানসিকতাও তাদের রক্তে রয়েছে।
বহু বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও বিশ্বমঞ্চের শেষ চারে জায়গা করে নিয়ে চমকে দিয়েছে ইংল্যান্ড। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারায় ব্রিটিশরা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। দলের চরম বিপদের মুহূর্তে জুড বেলিংহ্যামের অতিমানবীয় ও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ইংল্যান্ড শিবিরে বাড়তি অক্সিজেন এবং আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
এবারের ৪৮ দলের এই বিশাল সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত শেষ চারটির জায়গা দখল করে নিল বিশ্বের সেরা চার র্যাঙ্কধারী দলই। আর সেই কারণেই ফুটবল মহলের অনেকেই ২০২৬ বিশ্বকাপের এই রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালকে সরাসরি র্যাঙ্কিংয়ের ন্যায়বিচার বলে অভিহিত করছেন।
এখানে পরিসংখ্যান আর মাঠের পারফরম্যান্স যেন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে নতুন ইতিহাস লিখে দিল। অঘটন আর রোমাঞ্চের এই বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত ফেভারিটরাই টিকে রইল।
বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই চার মহাশক্তির লড়াই দেখার জন্য। আগামী ম্যাচগুলিতে কোন দল শেষ হাসি হাসবে এবং বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় তুলবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।