
অসমের বরাক উপত্যকার অন্তর্গত কাছাড় জেলার ধলাই (সংরক্ষিত) বিধানসভা কেন্দ্রটি উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সংলগ্ন রাজ্য হওয়ায় এই অঞ্চলের ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলার মানুষের কাছেও সমান আগ্রহের বিষয়। ভৌগোলিক দিক থেকে ধলাই মিজোরাম সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এবং এটি শিলচর লোকসভা কেন্দ্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বরাক উপত্যকার অন্যান্য অঞ্চলের মতো ধলাইতেও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর আধিক্য লক্ষ্য করা যায়, যা এই জনপদের সংস্কৃতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একটি আত্মিক ও ভাষাগত যোগসূত্র তৈরি করেছে। এই অঞ্চলের সামাজিক বিন্যাসে চা-জনগোষ্ঠী, তফসিলি জাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বিশেষ প্রভাব রয়েছে, যা নির্বাচনের ভাগ্য নির্...
অসমের বরাক উপত্যকার অন্তর্গত কাছাড় জেলার ধলাই (সংরক্ষিত) বিধানসভা কেন্দ্রটি উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সংলগ্ন রাজ্য হওয়ায় এই অঞ্চলের ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলার মানুষের কাছেও সমান আগ্রহের বিষয়। ভৌগোলিক দিক থেকে ধলাই মিজোরাম সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এবং এটি শিলচর লোকসভা কেন্দ্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বরাক উপত্যকার অন্যান্য অঞ্চলের মতো ধলাইতেও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর আধিক্য লক্ষ্য করা যায়, যা এই জনপদের সংস্কৃতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একটি আত্মিক ও ভাষাগত যোগসূত্র তৈরি করেছে। এই অঞ্চলের সামাজিক বিন্যাসে চা-জনগোষ্ঠী, তফসিলি জাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বিশেষ প্রভাব রয়েছে, যা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ধলাই একসময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একাধিপত্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অসমের প্রভাবশালী নেতা পরিমল শুক্লবৈদ্যর হাত ধরে এই কেন্দ্রে পদ্ম শিবিরের ভিত্তি মজবুত হয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় এই এলাকার বিধায়ক থাকার পাশাপাশি অসম সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ধলাই আসনটি পুনরায় খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। একদিকে যেমন বিজেপি তাদের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অন্যদিকে কংগ্রেস এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলো কর্মসংস্থান ও বরাক উপত্যকার ভাষাগত অধিকার রক্ষার দাবিতে জোরালো সওয়াল করছে। অসমের রাজনীতিতে এই আসনের জয়-পরাজয় সামগ্রিকভাবে বরাক উপত্যকায় রাজনৈতিক মেরুকরণের ভারসাম্য রক্ষা করে।
অসমের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ধলাই কেন্দ্রে অত্যন্ত উচ্চ শতাংশে ভোটদান লক্ষ্য করা গেছে, যা এখানকার মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও ভোটারদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ দেখা গেছে, যেখানে মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল নজরকাড়া। এখানকার প্রধান নির্বাচনী ইস্যুগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) বাস্তবায়ন নিয়ে জনমানসের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এছাড়া বরাক উপত্যকার উন্নয়ন এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সঙ্গে সংযোগকারী মহাসড়ক ও রেলপথের পরিকাঠামো উন্নয়নও এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা মেটানোই যেকোনো জয়ী প্রার্থীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিশেষে বলা যায়, ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রটি কেবল একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়, বরং এটি অসমের বুকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এক শক্তিশালী ধারক। পশ্চিমবঙ্গের পাঠকদের কাছে ধলাইয়ের খবর গুরুত্ব পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো দুই রাজ্যের মধ্যেকার অভিন্ন ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ধলাইয়ের রাজনৈতিক চালচিত্র কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন সমগ্র বরাক উপত্যকা তথা বাংলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। বরাক নদীর তীরের এই অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি অসমের সামগ্রিক বিকাশে একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে।
Kamakhya prasad mala
INC
Gour chandra das
SUCI
Nota
NOTA
Parimal das
IND
Dipak ranjan roy
IND
Ram ratan dusad
ASMJTYP
Ananta mohan roy
IND
Girindra mallik
INC
Lalta prosad mala
AIUDF
Nota
NOTA
Gour chandra das
SUCI
Nihar ranjan das
IND