
লখিপুর অসমের বরাক উপত্যকার কাছার জেলায় অবস্থিত একটি শহর এবং লখিপুর মহকুমার সদর দফতর। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র এবং শিলচর লোকসভা আসনের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভার একটি। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি এখনও পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন এবং একটি উপনির্বাচনের সাক্ষী। কংগ্রেস এখানে সর্বাধিক ১২ বার জয়লাভ করেছে। দীনেশ প্রসাদ গোয়ালা ৭ বার (১৯৮৩, ১৯৮৫, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬ এবং ২০১১) জয়ী হন। তাঁর ছেলে রাজদীপ গোয়ালা ২০১৪ সালের উপনির্বাচন এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো BJP এই কেন্দ্রে জয়ী হয়।
দীনেশ প্রসাদ গোয়ালা প্রথমবার নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ধারাবাহিকভাবে জয় পেতে ...
লখিপুর অসমের বরাক উপত্যকার কাছার জেলায় অবস্থিত একটি শহর এবং লখিপুর মহকুমার সদর দফতর। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র এবং শিলচর লোকসভা আসনের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভার একটি। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি এখনও পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন এবং একটি উপনির্বাচনের সাক্ষী। কংগ্রেস এখানে সর্বাধিক ১২ বার জয়লাভ করেছে। দীনেশ প্রসাদ গোয়ালা ৭ বার (১৯৮৩, ১৯৮৫, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬ এবং ২০১১) জয়ী হন। তাঁর ছেলে রাজদীপ গোয়ালা ২০১৪ সালের উপনির্বাচন এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো BJP এই কেন্দ্রে জয়ী হয়।
দীনেশ প্রসাদ গোয়ালা প্রথমবার নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ধারাবাহিকভাবে জয় পেতে থাকেন। ২০১১ সালে তিনি BJP-র রিনা সিংকে ৩০ হাজার ৭৮ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে রাজদীপ গোয়ালা BJP-র সঞ্জয় কুমার ঠাকুরকে ৯ হাজার ৮৩৭ ভোটে হারান। সেই নির্বাচনে রাজদীপ ৩৯ হাজার ১৫৯ ভোট, সঞ্জয় কুমার ঠাকুর ২৯ হাজার ৩২২ ভোট এবং AIUDF-এর মুকেশ পাণ্ডে ২২ হাজার ৫৯০ ভোট পান। মোট বৈধ ভোট ছিল ৯৪ হাজার ৩৫৭।
২০১৬ সালের নির্বাচনে রাজদীপ গোয়ালা ৬০ হাজার ১৩৫ ভোট পেয়ে BJP-র থোইবা সিংকে পরাজিত করেন। যিনি ৩৫ হাজার ৭৬৮ ভোট পান। মোট বৈধ ভোট ছিল ১ লক্ষ ৮ হাজার ২৯ এবং জয়ের ব্যবধান ছিল ২৪ হাজার ৩৬৭ ভোট। ২০২০ সালের অক্টোবরে রাজদীপ গোয়ালাকে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে BJP-তে যোগ দেন এবং বিধানসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে BJP তাকে টিকিট না দিয়ে কৌশিক রাইকে প্রার্থী করে। কৌশিক রাই ৫৫ হাজার ৩৪১ ভোট পেয়ে কংগ্রেসের মুকেশ পাণ্ডেকে ১২ হাজার ৭০০ ভোটে পরাজিত করেন। মুকেশ পাণ্ডে পান ৪২ হাজার ৬৪১ ভোট। সেই নির্বাচনে আরও এক উল্লেখযোগ্য প্রার্থী ছিলেন থোইবা সিং, যিনি টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ে ২০ হাজার ৫০৩ ভোট (১৬.৭৩%) পেয়ে তৃতীয় হন।
লখিপুর বিধানসভা এলাকায় ভোটের প্রবণতা বলছে, প্রথমদিকে কংগ্রেস প্রাধান্য পেলেও পরে BJP এগিয়ে যায়। ২০০৯ সালে কংগ্রেস BJP-র থেকে ৪৯৭ ভোটে এবং ২০১৪ সালে ১৯ হাজার ৫৭৯ ভোটে এগিয়ে ছিল। তবে ২০১৯ সালে চিত্র বদলে যায় এবং BJP ১১ হাজার ৪৭১ ভোটে এগিয়ে যায়। যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৫৫ হাজার ৭৭১ ভোটে পৌঁছয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য লখিপুর কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ২০৯, যা ২০২৪ সালের ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৭১৩ থেকে বেড়েছে। ২০২১ সালে ভোটার ছিল ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮১৩। ২০১৯ সালে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৭১। ২০১৬ সালে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৮৩। ২০১৪ সালে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৩৮ এবং ২০১১ সালে ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৪৮৮। ভোটদানের হারও ধারাবাহিকভাবে বেশি রয়েছে। ২০১১ সালে ৭৪.৮১%, ২০১৪ সালে ৭২.৮৯%, ২০১৬ সালে ৭৪.৯৫%, ২০১৯ সালে ৭৪.২৩%, ২০২১ সালে ৭৪.০৩% এবং ২০২৪ সালে ৭৭.০৬%।
২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের আগে এখানে মুসলিম ভোটার ছিল প্রায় ৩২%, তফসিলি জাতি ৬.০২% এবং তফসিলি উপজাতি ১.৭৭%। প্রায় ৯৫.৩৭% ভোটার গ্রামীণ এলাকায় বাস করেন, আর মাত্র ৪.৬৩% শহরাঞ্চলে। এই কেন্দ্রের জনসংখ্যা বৈচিত্র্যময়। অহমিয়া ভাষাভাষী হিন্দু, মুসলিম, চা-বাগানের আদিবাসী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী মিলিয়ে একটি মিশ্র সামাজিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে লখিপুর বরাক নদীর তীরবর্তী সমতল অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে জলাভূমি, বিল এবং উর্বর পলিমাটি রয়েছে। এই অঞ্চলে ধান চাষ, চা চাষ এবং জলাভূমিতে মাছ ধরা প্রধান জীবিকা হলেও বরাক নদীর বন্যার কারণে এলাকা প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানকার অর্থনীতি মূলত ধান চাষ, চা বাগান, ছোট ব্যবসা, কৃষিনির্ভর কাজ এবং কিছু পর্যটন পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। উর্বর মাটি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত এই কার্যকলাপকে সমর্থন করে।
পরিকাঠামোর দিক থেকে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়ক এই অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে। লখিপুর-ফুলেরটল সড়ক উন্নয়নাধীন এবং নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। নিকটবর্তী রেলস্টেশন হল জিরিঘাট (প্রায় ৫–৭ কিমি দূরে) এবং শিলচর (প্রায় ২৫–৪০ কিমি দূরে)। লখিপুর থেকে শিলচর প্রায় ৩০–৪০ কিমি দূরে এবং গুয়াহাটি বা দিসপুর প্রায় ৩০০ কিমি দূরে অবস্থিত। এই কেন্দ্রের কিছু অংশ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি, যার দূরত্ব প্রায় ২৭.৩ কিমি।
লখিপুর বরাক উপত্যকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, যেখানে অহমিয়া ও বাঙালি সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখা যায়। প্রাচীন মন্দির, চা বাগানের ঐতিহ্য, স্থানীয় বাজার এবং উৎসব এই এলাকার বৈশিষ্ট্য।
Input by: Ajay Jha
Mukesh pandey
INC
Thoiba singha
IND
Alim uddin mazumder
ASMJTYP
Nota
NOTA
Chiranjit acharjee
IND
Kshirode karmakar
IND
Thoiba singha
BJP
Lalthomlien hmar
JD(U)
Joy singh chatri
SUCI
Nota
NOTA
Sanjay kumar thakur
IND
Ajmul hussain laskar
IND
Ujjal dhubi
IND