
অসমের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর (জনসংখ্যা ও জিডিপি অনুযায়ী গুয়াহাটির পর) শিলচর। কাছাড় জেলার এই বিধানসভা আসনটি সাধারণ শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত ও শিলচর লোকসভার অন্তর্গত। আসনটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ এই শহরটি ১৮৩২ সালে প্রতিষ্ঠা করে ইংরেজরা। তাদের লক্ষ্য ছিল, বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ। তার আগে মানিক্য রাজবংশের ত্রিপুরার অংশ ছিল শিলচর। পরে ব্রিটিশরা এই অঞ্চল দখল করে বরাক উপত্যকায় শহরটি গড়ে তোলে। শিলচর আদতে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। স্বাধীনতার পর সিলেট পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাওয়ায় ১৯৪৭ এবং ১৯৭১ সালের মধ্যে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বহু হিন্দু বাঙালি এখানে আসতে থাকে। চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত হওয়ার পাশাপাশি, শিলচরকে আধুনিক পোলো খেলার জন্মস্থানও বলা হয়।...
অসমের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর (জনসংখ্যা ও জিডিপি অনুযায়ী গুয়াহাটির পর) শিলচর। কাছাড় জেলার এই বিধানসভা আসনটি সাধারণ শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত ও শিলচর লোকসভার অন্তর্গত। আসনটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ এই শহরটি ১৮৩২ সালে প্রতিষ্ঠা করে ইংরেজরা। তাদের লক্ষ্য ছিল, বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ। তার আগে মানিক্য রাজবংশের ত্রিপুরার অংশ ছিল শিলচর। পরে ব্রিটিশরা এই অঞ্চল দখল করে বরাক উপত্যকায় শহরটি গড়ে তোলে। শিলচর আদতে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। স্বাধীনতার পর সিলেট পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাওয়ায় ১৯৪৭ এবং ১৯৭১ সালের মধ্যে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বহু হিন্দু বাঙালি এখানে আসতে থাকে। চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত হওয়ার পাশাপাশি, শিলচরকে আধুনিক পোলো খেলার জন্মস্থানও বলা হয়। ১৮৩৩ সালে এখানে বিশ্বের প্রথম পোলো ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
শিলচরে এখনও পর্যন্ত ১৬ বার বিধানসভা ভোট হয়েছে। যার মধ্যে ২০১৪ সালের একটি উপনির্বাচনও রয়েছে। সবথেকে বেশি সাতবার জিতেছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। তারপরই রয়েছে বিজেপি। তারা ছ'বার আসনটি দখল করে। এছা়ড়া নির্দল প্রার্থীরা দুবার এবং সিপিএম একবার। ১৯৯১ সাল থেকে শেষ আটটি নির্বাচনের মধ্যে ছয়টিতে বিজেপি জয়ী হয়েছে। ফলে সহজেই বোঝা যায় আসনটি আসলে গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটি। এই আসনটি একাধিক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে জন্মলগ্ন থেকেই। ২০০৬ সাল থেকে পরপর ২ বার বিধায়ক হন কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেব ও তার মা। প্রথমবার সুস্মিতার মা ভীতিকা দেবী জেতেন এই আসন থেকে। আবার ২০১১ সালে বিজেপির রাজদীপ রায়কে ১৪,০১১ ভোটে পরাজিত করেন সুস্মিতা নিজেই। ২০১৪ সালে সুস্মিতা লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ায় উপনির্বাচন হয়। তখন থেকে আধিপত্য ফিরে পায় গেরুয়া শিবির। সেবার বিজেপির দিলীপ কুমার পল কংগ্রেসের অরুণ দত্ত মজুমদারকে ৩৭,৪৪১ ভোটে হারিয়ে জিতে যান। ২০১৬ সালে পল আবার জয়ী হন, কংগ্রেসের ভীতিকা দেবকে ৩৯,৯২০ ভোটে হারিয়ে। ২০২১ সালেও বিজেপির দীপায়ন চক্রবর্তী কংগ্রেসের তমাল কান্তি বণিককে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে শিলচরকে ধরে রাখেন।
লোকসভা নির্বাচনে শিলচর বিধানসভা অংশে ভোটের প্রবণতাও একই রকম লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে চারটি সংসদীয় নির্বাচনে বিজেপি কংগ্রেসের থেকে এগিয়ে ছিল। ২০০৯ সালে ১২,৬৬৭ ভোট, ২০১৪ সালে ১৮,৩৭১ ভোট, ২০১৯ সালে ৪৮,৯৩৬ ভোট এবং ২০২৪ সালে ৬৩,৩৭৮ ভোটে এগিয়ে ছিল গেরুয়া প্রার্থীরা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় শিলচারে ভোটারের সংখ্যা কমেছিল ১,৮৪৮ জন। ২০২৪ সালে ২,১৩,৩৮৬ জন ভোটার ছিল, এখন ২,১১,৫৩৮। ২০২৩ সালের সীমা পুনর্নির্ধারণের ফলে ২০২১ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে ভোটারের সংখ্যা ১৫,৭৫৫ কমে যায়। সেখানে ২০২১ সালে ভোটার ছিল ২,২৯,১৪১, ২০১৯ সালে ২,২০,৬৭১, ২০১৬ সালে ২,০৭,৪৬৭ এবং ২০১১ সালে ১,৯৫,৫১৬ জন।
সীমা পুনর্নির্ধারণ ও ২০২৫ সালের বিশেষ সংশোধনের পর ভোটারদের জনসংখ্যাগত গঠনে পরিবর্তন হয়েছে এই আসনে। আগে মুসলিম ভোটার ছিল ২৩.৯০ শতাংশ এবং তফসিলি জাতির ১৫.৬৮ শতাংশ। শিলচরে শহুরে ভোটার বেশি। ২০১১ সালে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬১.৯৬ শতাংশ, যা পরে ২০১৬ সালে ৭৪.৯৭, ২০১৯ সালে ৭৬.২৯, ২০২১ সালে ৭৫.৩২ এবং ২০২৪ সালে ৭৪.৮৫ শতাংশ।
সাধারণত বাঙালি ভোটারই এখানে বেশি। মোট ভোটারের প্রায় ৮৬ শতাংশ হিন্দু। মুসলিম জনসংখ্যা সীমা পরিবর্তনের আগে ও পরে ১২-২৪ শতাংশের মধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে। তফসিলি জাতির উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। এখানে শহুরে বাঙালি হিন্দু, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় চা-বাগান নির্ভর জনগোষ্ঠীর মিশ্রণ রয়েছে।
শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রটি বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলার অংশ নিয়ে গঠিত, যেখানে বরাক (সুরমা) নদীর তীরে সমতল পলিমাটি ভূমি, জলাভূমি, খাল-বিল এবং ছোট ছোট টিলা রয়েছে। এই ভূপ্রকৃতি চা চাষ, ধান চাষ এবং বাণিজ্যের জন্য উপযোগী হলেও বরাক ও ঘাঘরা নদীর কারণে প্রায়ই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এখানকার জীবিকা প্রধানত ব্যবসা, পরিষেবা, শিক্ষা, কাগজ ও চা-বাক্স তৈরির মতো ছোট শিল্প, চা-বাগানের কাজ এবং কৃষির উপর নির্ভরশীল।
জাতীয় সড়ক এখানকার লাইফ লাইন। এছাড়া বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন এবং শহুরে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন চলছে।
নিকটবর্তী শহরগুলির মধ্যে রয়েছে হাইলাকান্দি (প্রায় ৭০-৮০ কিমি দূরে) এবং করিমগঞ্জ (প্রায় ৫৫ কিমি দূরে)। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি/দিসপুর প্রায় ৩৪০-৩৫০ কিমি উত্তরে। এই এলাকা বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি, যা বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং অভিবাসনের উপর প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের সিলেট প্রায় ১১০-১১৬ কিমি দূরে এবং সুতারকান্দি সীমান্ত বন্দর সিলচার থেকে প্রায় ৬০-৭০ কিমি দূরে।
টানা তিনটি বিধানসভা জয় এবং চারটি লোকসভা নির্বাচনে ক্রমবর্ধমান ব্যবধানে এগিয়ে থাকার ফলে শিলচরে বিজেপির জনপ্রিয়তা স্পষ্ট। এই অবস্থায় পরিবর্তন হওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে কংগ্রেস দল আবার সংগঠন শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে এবং কাছাড় জেলা কংগ্রেস সভাপতি অভিজিৎ পালকে প্রার্থী করেছে। বরাক উপত্যকায় তাঁর সক্রিয়তা ও সংগঠন ক্ষমতা থাকলেও, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির কাছ থেকে এই আসন ছিনিয়ে নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ।
Tamal kanti banik
INC
Dilip kumar paul
IND
Nota
NOTA
Dulali chakraborty
SUCI
Shuvadip datta
IND
Raju sinha
HND
Shankar chakraborty
IND
Baktar uddin mazumder
IND
Anup dutta
IND
Prasanta laskar
RPI(A)
Anupam dev
IND
Bishway chamak goswami
BGanP
Rusna begum laskar
IND
Biju chanda
IND
Bappi paul
IND
Bithika dev
INC
Supriya bhattacharjee
CPM
Nota
NOTA
Shuvadip datta
IND
Rita mazumder
IND
Imdad hussain laskar
IND
Sahin ahmed choudhury
SP
Pradip kumar deb
SUCI
Biju chanda
IND
Khairul alam barbhuiya
IND
Brojalal das
IND
Ascham uddin laskar
IND
Nilom sanjib sarmah
BGANP
Monilal das
IND
Ashim kumar das
IND