
করিমগঞ্জ দক্ষিণ একটি জেনারেল (আনরিজার্ভড) বিধানসভা কেন্দ্র। অসমের বরাক উপত্যকার শ্রীভূমি (আগের করিমগঞ্জ) জেলায় এই কেন্দ্রটি অবস্থিত। করিমগঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের ৬টি বিধানসভা অংশের একটি হল করিমগঞ্জ দক্ষিণ। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সম্পূর্ণ গ্রামীণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রথম থেকেই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে এই এলাকা পরিচিত।
১৯৫৭ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে করিমগঞ্জ দক্ষিণে মোট ১৪টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে কংগ্রেস ১০ বার জিতেছে, যার মধ্যে শুরু থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত টানা আটবার জয় পেয়েছিল হাত শিবির। ১৯৯১ সালে বিজেপি একবার জিতে কংগ্রেসের ৩৪ বছরের আধিপত্য ভাঙে। এছাড়া সমতা পার্টি, এক নির্দল প্রার্থী এবং AIUDF একবার করে এই আসনে জয়ী হয়েছ...
করিমগঞ্জ দক্ষিণ একটি জেনারেল (আনরিজার্ভড) বিধানসভা কেন্দ্র। অসমের বরাক উপত্যকার শ্রীভূমি (আগের করিমগঞ্জ) জেলায় এই কেন্দ্রটি অবস্থিত। করিমগঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের ৬টি বিধানসভা অংশের একটি হল করিমগঞ্জ দক্ষিণ। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সম্পূর্ণ গ্রামীণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রথম থেকেই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে এই এলাকা পরিচিত।
১৯৫৭ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে করিমগঞ্জ দক্ষিণে মোট ১৪টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে কংগ্রেস ১০ বার জিতেছে, যার মধ্যে শুরু থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত টানা আটবার জয় পেয়েছিল হাত শিবির। ১৯৯১ সালে বিজেপি একবার জিতে কংগ্রেসের ৩৪ বছরের আধিপত্য ভাঙে। এছাড়া সমতা পার্টি, এক নির্দল প্রার্থী এবং AIUDF একবার করে এই আসনে জয়ী হয়েছে।
সিদ্দিক আহমেদ ২০০১ সালে সমতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে এবং ২০০৬ সালে নির্দল হিসেবে জেতার পর ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একবাল হুসেনকে ২৩,১১৩ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে AIUDF-এর আজিজ আহমেদ খান ৪,৪১৬ ভোটে সিদ্দিক আহমেদকে হারিয়ে জয় পান। তবে ২০২১ সালে সিদ্দিক আহমেদ আবার আসনটি ফিরে পান এবং এবার এজিপি প্রার্থী হিসেবে লড়া আজিজ আহমেদ খানকে ৩২,৪৮৭ ভোটে হারিয়ে দেন।
লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে, বিধানসভায় মাত্র একবার জিতলেও এই অংশে AIUDF-এর পারফরম্যান্স কিন্তু নির্বাচনে ভালো। তারা ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯-এই তিনটি নির্বাচনেই এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৪ সালে কংগ্রেস বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কংগ্রেস প্রার্থী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী পান ১,৩৬,৩৮৪ ভোট, বিজেপির কৃষ্ণনাথ মাল্লাহ পান ৬০,৩৫৭ ভোট এবং এআইইউডিএফের সাহাবুল ইসলাম চৌধুরী পান ১০,৫৭৯ ভোট।
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে করিমগঞ্জ দক্ষিণে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৮৪,৪০৮ জন। যা ২০২৪ সালের ২,৭৭,৯৭৯ থেকে ৬,৪২৯ জন বেশি। ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনের ফলে এই কেন্দ্রে ৮৬,৭৪০ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে ভোটার ছিল ১,৯১,২৩৯ জন এবং ২০১১ সালে ছিল ১,৪৪,০৩৯ জন।
পূর্বে এখানে প্রায় ৬৮% মুসলিম ভোটার ছিল এবং তফসিলি জাতির হার ছিল প্রায় ১৪.২৫%। ডিলিমটেশনের পর এই পরিসংখ্যান কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। এই কেন্দ্রে প্রায় কোনও শহুরে ভোটার নেই। ভোটদানের হারও বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৭২.৫১%, ২০১৪ সালে ৮০.৯৪%, ২০১৬ সালে ৭৯.৭৪%, ২০১৯ সালে ৭৮.৯২%, ২০২১ সালে ৭৭.৭৯% এবং ২০২৪ সালে ৭৮.০৭%।
এই অঞ্চলের ইতিহাস বরাক উপত্যকার সঙ্গে যুক্ত। যা প্রাচীন কামরূপ রাজ্যের অংশ ছিল এবং পরে ডিমাসা ও ত্রিপুরা রাজ্যের প্রভাব পড়ে। ব্রিটিশ আমলে এটি সিলেট ও কাছাড় জেলার অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় সিলেটের বেশিরভাগ অংশ পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে গেলেও করিমগঞ্জ মহকুমা ভারতে রয়ে যায়।
ভৌগোলিকভাবে এই এলাকা সমতল, উর্বর ভূমি, ছোট পাহাড়ি টিলা অঞ্চল নিয়ে গঠিত। কুশিয়ারা, লঙ্গাই ও সিংলা নদীর কারণে এখানে প্রায়ই বন্যা হয়। প্রধান জীবিকা ধান চাষ, ছোট ব্যবসা এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত কাজের উপর নির্ভরশীল।
নিকটবর্তী বড় শহর হল শ্রীভূমি (জেলা সদর), যা প্রায় ১৫–২৫ কিমি দূরে। এছাড়া পশ্চিমে পাঠারকান্দি (২০–৩০ কিমি) এবং পূর্বে হাইলাকান্দি (৩০–৪০ কিমি) রয়েছে। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি প্রায় ৩০০–৩৫০ কিমি দূরে। এই কেন্দ্রের দক্ষিণ ও পশ্চিমে বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে, যা স্থানীয় বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে এই কেন্দ্রে মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে ১০ জন নির্দল প্রার্থী। সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অব ইন্ডিয়া (কমিউনিস্ট)-এর রূপশ্রী গোস্বামী একমাত্র মহিলা প্রার্থী। ২০১৬ সালের বিজয়ী আজিজ আহমেদ খান এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। এআইইউডিএফ তাঁদের প্রার্থী হিসেবে শিহাব উদ্দিনকে দাঁড় করিয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে রয়েছে আমিনুর রশিদ চৌধুরী এবং একবাল হুসেন এজিপি প্রার্থী হিসেবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে লড়ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, কংগ্রেসের পক্ষে লড়াই সহজ নয়। তবে তাদের অতীত রেকর্ড এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানের জয়ের কারণে হাত শিবির কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে এআইইউডিএফের প্রভাব কমে যাওয়ায় মুসলিম ভোটের একটি বড় অংশ আবার কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছে।
Aziz ahmed khan
AGP
Hussain ahmed
IND
Nota
NOTA
Pronab kumar roy
BLSP
Sufian ahmed
IND
Sayed ali ahmed
IND
Bimal krishna das
IND
Shamim ahmed choudhury
IND
Rajesh dey purkayastha
IND
Bilal ahmed
IND
Abu sufian
IND
Faiz ahmed
IND
Jaharul haque
IND
Forzan khan
IND
Abdul basit
IND
Siddeque ahmed
INC
Sipra goon
BJP
Monarul haque
IND
Mosud ahmed
IND
Azir uddin
IND
Moin uddin
IND
Maynul haque
IND
Sufian ahmed
IND
Bilal uddin
IND
Taj md kamal uddin khan
IND
Jamal ahmed
IND
Nota
NOTA
Abdul hamid
IND
Ahmed ali
IND
Abu barkat nizam uddin ahmed
IND
Muktar hussain
IND
Sad uddin
IND
Sahajan ahmed
IND
Quamrul islam
IND
Sarif uddin
IND
Faizul haque
IND
Kabir uddin
IND
Salim uddin
IND
Sabir ahmed
IND
Rajib das
IND