শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজে যশপ্রীত বুমরাহর খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিলই। আজ অর্থাত্ সোমবার BCCI স্পষ্ট জানিয়ে দিল, পেস বোলার বুমরাহ এখনও চোট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বুমরাহর বদলে ভারতের টেস্ট দলে জায়গা পেয়ে গেলেন কাশ্মীরের বিস্ময় তারকা আকিব নবি।
সব কিছু ঠিক থাকলে শ্রীলঙ্কাতেই টেস্ট ডেবিউ হতে চলেছে কাশ্মীরের বোলার আকিবের। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে চোট পেয়েছিলেন বুমরাহ। সেই কারণে এখনও তিনি পুরোপুরি ফিট নন। যার নির্যাস, আকিবের সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়ে গেল।
আকিব নবির বয়স ২৯ বছর। ভারতের টেস্ট টিমে জায়গা পাওয়া মানে বেশ গর্বের ও মর্যাদার বিষয়। আসলে রঞ্জি ট্রফিতেই পেস বোলার হিসেবে জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন আকিব।
গত দুটি রঞ্জি সিজনে আকিব ১০৪টি উইকেট নিয়েছেন। ২০২৫-২৬ সিজনে জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে তিনি ৬০টি উইকেট নিয়েছেন। আকিবের দুর্ধর্ষ পারফর্ম্যান্সের জন্যই প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি জেতে জম্মু-কাশ্মীর।
সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় ভারতের A টিম ছিলেন আকিব। সেখানেও ৬টি উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের নজর কাড়েন তিনি।
শ্রীলঙ্কায় ভারতের টেস্ট স্কোয়াডে রয়েছেন শুভমন গিল (ক্যাপ্টেন), কেএল রাহুল (ভাইস ক্যাপ্টেন(, যশস্বী জয়সওয়াল, ঋষভ পন্ত (উইকেটকিপার), সাই সুদর্শন, ধ্রুব জুরেল (দ্বিতীয় উইকেটকিপার), রবীন্দ্র জাডেজা, কুলদীপ যাদব, মানব সুতার, মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, গুরনুর বরার, দেবদত্ত পাডিক্কল, সারাংশ জৈন ও আকিব নবি।
এর মধ্যে সাই সুদর্শন খেলতে পারবেন কিনা, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ তাঁরও চোট। সে ক্ষেত্রে ফিটনেসের বিষয়টি লক্ষ্য রাখছেন নির্বাচকরা।
ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ শুরু হতে চলেছে ১৫ অগাস্ট। ১৫ থেকে ১৯ অগাস্ট শ্রীলঙ্কার গল স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচ। দ্বিতীয় টেস্ট হবে ২৩ থেকে ২৭ অগাস্ট কলম্বোতে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, টেস্ট ম্যাচগুলি শুরু হবে সকাল ১০টায়।
বস্তুত, আকিব নবিকে ভারতীয় দলে নেওয়া উচিত হিসেবে জোরাল মত প্রকাশ করেছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও।
তিনি বলেছিলেন, জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সিরিজেই আকিবের চান্স পাওয়া উচিত ভারতীয় দলে।
বুমরাহর অনুপস্থিতি ভারতের বোলিং আক্রমণে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC)-এ ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে রয়েছে ভারত।
বর্তমানে ডব্লিউটিসি পয়েন্ট তালিকায় ভারতের অবস্থান পঞ্চম। তাই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন দুই টেস্ট ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই দুই ম্যাচের ফলই অনেকটা নির্ধারণ করবে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার আশা তারা জিইয়ে রাখতে পারবে কি না।