বিশ্বকাপে খেলা দলের সঙ্গে ১-১ ড্র! মুখের কথা নয়। বেঙ্গালুরুর ম্যাচে পানামার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলে ভারতীয় ফুটবল দল বুঝিয়ে দিল, ঠিক মতো পরিকাঠামো ও সরকারি সদিচ্ছা থাকলে ফুটবল বিশ্বকাপেও চান্স পেতে পারে ভারত।
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ ড্র হওয়ার পরে বেঙ্গালুরুর ট্র্যাফিক জ্যাম নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করলেন পানামার কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের খেলার প্রশংসার পাশাপাশি তাঁর দলে প্রস্তুতির পরিবেশ নিয়ে কিছু বিরক্তিও প্রকাশ করলেন।
ক্রিশ্চিয়ানসেনের বক্তব্য, পানামা টিম একসঙ্গে ট্রেনিংয়ের সুযোগ পায়নি, কারণ ট্র্যাভেল ও লজিস্টিক। ম্যাচের দিন হোটেল থেকে স্টেডিয়াম পৌঁছতেই জ্যামের জন্য ২ ঘণ্টা লেগে গিয়েছে।
তিনি রেজাল্টের দায়ও নিজের কাঁধে নিয়েছেন। পানামা যখন প্রজন্ম বদলের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ম্যাচেই ৫ জন ফুটবলার সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বার প্রথম একাদশে জায়গা পান।
তিনি বলেন, 'একটি টিমে প্রজন্ম বদলের প্রক্রিয়া সহজ নয়। আজ ৫ জন ফুটবলার প্রথম বার প্রথম একাদশে খেললেন। ম্যাচের ফলাফলের দায় আমার। ভ্রমণ এবং নানা লজিস্টিক সমস্যার কারণে প্রস্তুতি নেওয়া বা প্র্যাক্টিসের জন্য আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল না। তবে ৫ জন নতুন ফুটবলারকে প্রথম একাদশে খেলতে দেখে আমি খুশি। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।'
তবে জুনিয়ারদের খেলাকে তিনি অজুহাত হিসেবে দেখছেন না। বরং তিনি বেশি বিরক্ত বেঙ্গালুরুর ট্র্যাফিকের উপরে। তাঁর কথায়, 'আমি এটাকে কোনও অজুহাত হিসেবে তুলে ধরতে চাই না। তবে যানজটে প্রায় দু’ঘণ্টা বাসে বসে স্টেডিয়ামে পৌঁছনো মোটেই সহজ নয়। এখানে যাতায়াত এবং অন্যান্য লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাও বেশ জটিল ছিল।
ভবিষ্যতে এই ধরনের চুক্তি বা আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের আরও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে। আমি এটাকে অজুহাত হিসেবে দেখাতে চাই না। তবে মাঠের ভিতরে এবং মাঠের বাইরে, দুই ক্ষেত্রেই কীভাবে বিষয়গুলি সামলানো হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ আমাদের প্লেয়ারদের আরও ভাল ব্যবস্থাপনা প্রাপ্য। তাঁরা যোগ্য।'
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে পানামার যে ৫ প্লেয়ার ডেবিউ করলেন, তাঁরা হলেন, মার্কোস ডি লিওন, জেইর মোদেলো, জোশেফ জোনস, ডায়ভিস মুরিল্লো ও মিজাহির জিমেনেজ। বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিরুদ্ধে এই প্রীতি ম্যাচে পানামা তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপের দলের ১৪ জন ফুটবলারকে রেখেছিল।
ফলে দলে ছিল বিশ্বকাপের যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও। তবে কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন যে একাদশ মাঠে নামিয়েছিলেন, তাতে স্পষ্ট ছিল, দলটি নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উত্তর বেঙ্গালুরুর একটি বিলাসবহুল হোটেলে রাখা হয়েছিল পানাম টিমকে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁরা ম্যাচের শেষ প্র্যাক্টিস করেন। স্টেডিয়াম থেকে হোটেলের দূরত্ব ছিল ৩ থেকে ৪ কিমি। ক্রিশ্চিয়ানসেনের দাবি, এই ৩-৪ কিমি পেরোতে তাঁদের প্লেয়ারদের ২ ঘণ্টা লেগেছে।
তবে ক্রিশ্চিয়ানসেনের ব্যাখ্যায় শুধু লজিস্টিক সমস্যাই ছিল না, ম্যাচের পারফর্ম্যান্সও তাঁকে ভাবার মতো যথেষ্ট কারণ রেখেছে। ভারত যে শুধুই প্রস্তুতির ঘাটতি থাকা পানামার সুবিধা নিয়ে ম্যাচে এগিয়ে ছিল, তা নয়। ম্যাচের বেশ কিছু সময়ে ব্লু টাইগার্সই খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয়, চাপ তৈরি করে পানামার ফুটবলারদের ভুল করতে বাধ্য করেছিল। বিশেষ করে প্রথমার্ধের আগে পর্যন্ত ভারতের খেলাতেই ছিল বেশি ধার ও আত্মবিশ্বাস।