আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসর ঘোষণা করেছেন। বিশ্বকাপের পরেই বাবার মৃত্যুর শোক বিধ্বস্ত বিশ্বফুটবলের রাজপুত্র। পরের বিশ্বকাপ যে তিনি খেলবেন না, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। এ বার একেবারে সব জল্পনার অবসান ঘটালেন। লিওনেল মেসিকে আর নীল-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে না মাঠে।
লিওনেল মেসির সঙ্গে ভারতের সচিন তেন্ডুলকারের তুলনা টানাই যায়। দুজনেই কিংবদন্তি। দুজনেই কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ২০১১ সালে ভারত ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছিল, তার বছর দুয়েক পরেই অবসর নিয়েছিলেন সচিন। আর লিওনেল মেসি ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জিতলেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ফাইনাল খেললেন, তারপর অবসর।
২০৭টি অ্যাপিয়ারেন্স, ১২৫টি গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে ঢেলে দিয়েছেন মেসি। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের অবসান ঘটল। এর সঙ্গে ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে গৌরবময় ও সাফল্যমণ্ডিত এক অধ্যায়েরও সমাপ্তি হল। ২০০৫ সালে সংক্ষিপ্ত ও নাটকীয় অভিষেক থেকে শুরু করে ছয়টি বিশ্বকাপজুড়ে রেকর্ড গড়া দীর্ঘ সফর, আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পরিসংখ্যানই তাঁর অসাধারণ অবদানের ব্যাপ্তির সাক্ষী।
২০০৫ সালে যখন মেসি ডেবিউ করলেন, তারপর থেকে ৬টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট সেই দিনম, হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথমবার বিশ্বফুটবল মেসি নামক ম্যাজিকের দর্শন পেল। কিন্তু স্রেফ এক ঝলক। ভিলমোস ভানচাকের সঙ্গে একটি ঘটনার জেরে লাল কার্ড দেখে এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে।
২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জিতেছে মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২০৭ বার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নেমেছেন মেসি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সে বার জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ায় অবসর ঘোষণা করে দিয়েছিলেন লিওনেল। কিন্তু পরে অবসর ভেঙে ফের ব্যাক করেন।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১২৫টি গোলের রেকর্ড রয়েছে তাঁর। একমাত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর গোল সংখ্যা মেসির চেয়ে বেশি। রোনাল্ডোর কেরিয়ারে গোলের সংখ্যা ১৪৬।
কিন্তু মেসি শুধু নিজে গোল করেননি। অসংখ্যা গোল করিয়েছেন। ৬০টি গোল তিনি স্রেফ করিয়েছেন সতীর্থকে দিয়ে। ছয়টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে মেসির করা গোলের সংখ্যা ২১। কিলিয়ান এমবাপের ২২ গোলের পর বিশ্বকাপে গোলদাতাদের তালিকায় তিনি দ্বিতীয়।
বিশ্বকাপে মেসির খেলা ম্যাচের সংখ্যা ৩৪। যা পুরুষদের ফুটবলের ইতিহাসে সর্বাধিক। বিশ্বকাপে মেসির জেতা ম্যাচের সংখ্যা ২৩। পুরুষদের বিশ্বকাপে যা আরও একটি রেকর্ড। বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্টের সংখ্যা ১২, যা কোনও ফুটবলারের ক্ষেত্রে সর্বাধিক। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে বিশ্বকাপে মেসির করা গোলের সংখ্যা ৬, যা একটি রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সময় মেসির বয়স ৩৯। ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলে তিনি সবচেয়ে বেশি বয়সি আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবেও নজির গড়েছেন। ভক্তদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠিতে মেসি লিখেছেন, 'আমি কখনও আর্জেন্টিনীয় পরিচয় থেকে সরে আসিনি, আর কখনও তা চাইওনি। আর্জেন্টিনীয় হতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত, যদিও অনেক আগেই দেশ ছেড়েছি। খুব অল্প বয়স থেকেই এ ব্যাপারে আমি স্পষ্ট ছিলাম এবং কখনও নিজেকে বদলাতে চাইনি।'