২২ বছর। অনেকটা সময়। বহু উত্থানপতন দেখেছে ক্লাব। একটা দীর্ঘ সময় ট্রফির খরা গিয়েছে। রবিবার ডুরান্ড কাপের ডার্বিতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেল, ইস্টবেঙ্গলের সর্বকালের সেরা কোচদের মধ্যে অন্যতম আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের খেলা যদি লক্ষ্য করে থাকেন, অনেক বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। হাবাসের এই স্ট্র্যাটেজি মোক্ষম কাজে দেয়।
তাছাড়া এডমুন্ড লালরিন্দিকা তো এখন ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে। ২০২০ সালে বেঙ্গালুরু থেকে লোনে ইস্টবেঙ্গলে এসেছিলেন। যুবভারতীতে ১১, ২২, ৪৪ মিনিটে গোল করে এডমুন্ডই নায়ক।
মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ১৭তম ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলেছে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের পর ফুটবলারদের গায়ে ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা টি-শার্ট, গ্যালারিতে ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’ ধ্বনি, সব মিলিয়ে দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসানের মুহূর্ত হয়ে উঠল ডার্বির এই ফাইনাল।
এডমুন্ড জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে বোনের সঙ্গে হ্যাটট্রিকের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। গোলের পর তাঁর বিশেষ সেলিব্রেশন ছিল সেই প্রার্থনারই প্রতীক, 'ঈশ্বরের থেকে ফোন পেয়েছি।'
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর লাল-হলুদ কর্তা দেবব্রত সরকার মাঠে নেমে প্রথমেই কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর বিশাল ইস্টবেঙ্গল পতাকা জড়িয়ে দেন ম্যাচের নায়ক এডমুন্ড লালরিন্দিকার গায়ে। গোটা দল পরে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের কায়দায় ‘ভাইকিং রো’ করে সমর্থকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।
হাবাসের কাছে এটাই তাঁর জীবনের সেরা ডার্বি জয়। কারণ, 'অন্য ডার্বিগুলো ফাইনাল ছিল না। এটা ফাইনাল ম্যাচ ছিল। সেই ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।'
প্রথমার্ধেই ৪-১ এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলকে তুলনামূলক রক্ষণাত্মক দেখা যায়। হাবাসের ব্যাখ্যা, মোহনবাগান দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছিল। আরও আক্রমণ করতে গিয়ে ভুল করে গোল খেলে ম্যাচের চাপ বেড়ে যেতে পারত। তাই দলকে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
ইস্টবেঙ্গলের জয়ের কারণকে মোটামুটি ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, এডমুন্ডের দুরন্ত পারফর্ম্যান্স। সুযোগসন্ধানী এবং গতিশীল এই ফরোয়ার্ডকে আটকানোর কোনও উত্তর খুঁজে পায়নি মোহনবাগানের রক্ষণ। দ্বিতীয়ত, আনোয়ার আলি ও মহম্মদ রশিদের লড়াই। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি রশিদ মাঝমাঠ থেকে আক্রমণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
তৃতীয়ত, হাবাসের স্ট্র্যাটেজি। জয় গুপ্তাকে উইংয়ে ব্যবহার, দানি রামিরেজ-এডমুন্ড জুটির উপর আস্থা এবং ভারতীয় ফুটবলারদের সঠিকভাবে কাজে লাগানোই হয়ে ওঠে বড় পার্থক্য।
চতুর্থত, মোহনবাগানের রক্ষণভাগের দুর্বলতা। আলবার্তো রড্রিগেজ ও রাহুল ভেকের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব এবং গতির সমস্যা বারবার প্রকাশ্যে আসে। এডমুন্ডের তৃতীয় গোলেও রক্ষণভাগের ভুল বড় ভূমিকা নেয়।
পঞ্চমত, মোহনবাগানের ক্লান্তি ও আক্রমণভাগের ব্যর্থতা। শিলং থেকে সেমিফাইনাল খেলে দ্রুত ফাইনালে নামায় সবুজ-মেরুনের প্রস্তুতির সময় কম ছিল। জেমি ম্যাকলারেনও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না।
প্রথম লিগ ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে হারের পর ডুরান্ড ফাইনালে ৪-১ জয়কে অবশ্য প্রতিশোধ বলতে নারাজ জয় গুপ্তা। তাঁর কথায়, 'আমরা জবাব দিয়েছি মাঠে।' সামনে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ, এই জয়কে পুঁজি করেই আরও বড় মঞ্চে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে লাল-হলুদ।