বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যালেন্টাইন্স ডে ঘিরে ইন্টারনেটে সার্চের পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যায়। সেই সুযোগেই ভুয়ো ওয়েবসাইট, ফেক লিঙ্ক ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হাত সাফ করছে স্ক্যামাররা। প্রেমের টান কিংবা ‘ফ্রি গিফট’-এর লোভ মুহূর্তে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এই সময় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় রোম্যান্স স্ক্যাম। ডেটিং অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ চ্যাট, তারপর ‘আই লাভ ইউ’। এই আবেগের ফাঁদে ফেলেই শুরু হয় প্রতারণা। কিছুদিন পর ভুয়ো প্রেমিক বা প্রেমিকা চিকিৎসার খরচ, চাকরির সমস্যা বা জরুরি বিপদের কথা বলে টাকা চাইতে শুরু করে।
এর পাশাপাশি বাড়ছে গিভঅ্যাওয়ে স্ক্যাম। ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে ফ্রি ডিনার, গিফট বা হলিডে জেতার লোভ দেখিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে নানা লিঙ্ক। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীর ব্যাংক তথ্য স্ক্যামারদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অনলাইন শপিংয়ের চাহিদা বাড়ায় তৈরি হচ্ছে ভুয়ো শপিং ওয়েবসাইটও। বড় ছাড়ে মোবাইল, গ্যাজেট, পোশাক বা গয়না বিক্রির নামে এই সাইটগুলোতে পেমেন্ট করলেই টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পণ্য আর আসে না।
এছাড়াও ফ্রি গিফট ও ফুল পাঠানোর নামে ছোট অঙ্কের ‘প্রসেসিং ফি’ চাওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রেই মাত্র ১ বা ২ টাকা কাটার পরেই পুরো অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যায়। কখনও আবার প্যান বা আইডি ব্যবহার করে ভিকটিমের নামে লোন নেওয়ার অভিযোগও উঠছে।
সবশেষে রয়েছে ইমপারসোনেশন স্ক্যাম। পরিচিত কারও নাম বা ছবি ব্যবহার করে ফোন করে বলা হয়, আপনার জন্য বিশেষ গিফট এসেছে বা জরুরি সাহায্য দরকার। এরপর OTP বা ব্যাংক তথ্য আদায় করে মুহূর্তে অ্যাকাউন্ট পরিষ্কার করে দেয় প্রতারকরা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে কোনও অচেনা লিঙ্কে ক্লিক না করা, অপরিচিত ব্যক্তির কাছে টাকা না পাঠানো এবং ব্যক্তিগত বা ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য কাউকে না দেওয়াই নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায়।