নেপালে সরকার গড়তে চলেছে Gen Z। এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড, র্যাপার তথা জনপ্রিয় নেতা বালেন্দ্র শাহ ওরফে বালেন শাহ হতে পারেন নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। Gen Z সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীষণ জনপ্রিয় বালেন শাহ। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসবে যখন প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন বালেন শাহ, মৈথিলি ভাষায় কথা বলেছিলেন।
বলেছিলেন, 'সর্বপ্রথম , মাতা জানকী কে প্রণাম।' সেই ভাষা, যে ভাষা বিহার ও ঝাড়খণ্ডে একটি বড় অংশের মানুষ কথা বলেন। বালেন কিন্তু নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে প্রচার শুরু করেননি। প্রচার শুরু কেন জনকপুর থেকে। রামায়ণ অনুসারে, জনকপুর হল সীতার জন্মস্থান। যাঁর আরেক নাম জানকী।
নেপালে মোট আসন সংখ্যা ১৬৫। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন ১৬৩ আসনে গণনা হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ১২১টি, নেপালি কংগ্রেস ১৭টি, ইউএমএল ৯টি, নেকপা ৯টি, আরপিপি ১টি, শ্রম সংস্কৃতি পার্টি ৪ ও নির্দল ২টি আসন পেয়েছে। এই রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিই হল বালেন শাহের দল। অর্থাত্ কেপি ওলির শাসন ইতির পথে নেপালে।
এই নির্বাচনে বালেন শাহকে একসঙ্গে ছয়জন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি তুলনামূলক নতুন হলেও প্রবীণ নেতাদের টক্কর দিয়ে তিনি এখন সবচেয়ে আলোচিত নেতা হয়ে উঠেছেন। একসঙ্গে ৬ জন হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের হারিয়ে উঠে আসা, মুখের কথা নয়!
বালেন শাহ মধেশিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। মধেশিয়া বলতে নেপালের দক্ষিণের সমতল অঞ্চল, মধেশ বা তরাই অঞ্চলের বাসিন্দাদের বোঝায়। নেপালের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই অঞ্চলে বাস করেন। তাঁদের ভাষা, সংস্কৃতি ও পারিবারিক সম্পর্ক ভারতের বিহার অঞ্চলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
এই কারণেই যদি বালেন শাহ প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তা নেপালের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন দেশটির রাজনীতিতে পাহাড়ি অঞ্চলের ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রীয় সম্প্রদায়ের নেতারাই বেশি প্রভাবশালী ছিলেন।
১৯৯০ সালের ২৭ এপ্রিল কাঠমাণ্ডুতে জন্মগ্রহণ করেন বালেন শাহ। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন জনপ্রিয় র্যাপার ছিলেন। বালেন নামেই তিনি গান গাইতেন এবং তাঁর গানে সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সমালোচনা থাকত।
২০২২ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমাণ্ডুর মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে সবাইকে চমকে দেন। বড় বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের হারিয়ে তিনি তখনই তরুণদের কাছে পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
মেয়র হিসেবে তিনি শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ দখল সরানো এবং জনসাধারণের জায়গা সংস্কারের মতো বেশ কিছু উদ্যোগ নেন। যদিও কিছু ক্ষেত্রে তাঁর কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল।
সম্প্রতি তিনি মেয়রের পদ ছেড়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং তরুণদের ক্ষমতায়ণ, দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ ও শক্তিশালী ফেডারেল ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। এই বার্তাই নেপালের তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মেয়র হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে ফেলেছেন বালেন। সব কিছু ঠিক থাকলে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীও হতে চলেছেন তিনি। বালেনের প্রচারের একটি বড় অংশই ছিল, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান, সরকারের স্বচ্ছ্বতা ও যুব সম্প্রদায় ফোকাস করা নীতি।
Gen Z বিক্ষোভের সময় থেকেই কেপি ওলির জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছিল। সাধারণ নির্বাচনে বালেন শাহকে এনে নেপাল বুঝিয়ে দিল, Gen Z-দের হাতেই থাকবে ক্ষমতা।