ফের একবার অশান্ত ইরান। ২০২২-এর পর আরও একবার তাণ্ডবলীলা চলছে এই দেশটিতে। বিদ্রোহী হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষজন। আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকারের পতনের দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজারে হাজারে মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে গিয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৬ জনের। জখম কয়েকশো। আর আটক হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১২০০ পেরিয়ে গিয়েছে। (ছবি- AFP)
কেন বিদ্রোহের আগুন জ্বলল?
ইরানের সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। ডিসেম্বর মাসে এই দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে প্রায় ৪২.৫ শতাংশে। তার উপর ২০২৫ সালে ডলারের তুলনায় ইরানি রিয়ালের মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু পরিকাঠামো ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইজরায়েল-আমেরিকার হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। (ছবি- AFP)
তেহরান থেকে এই আন্দোলন শুরু হলেও বিক্ষোভ ধীরে ধীরে লোরদেগান, কুহদশ্ত, ইসফাহান-সহ একাধিক শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বহু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর সরাসরি সংঘর্ষ হয়েছে। (ছবি- AFP)
আন্দোলনের শুরুর দিকে ছাত্রসমাজ এই আন্দোলনের মুখ ছিল। তেহরানে ছাত্রসমাজ ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়েছে। একই সঙ্গে শোনা গিয়েছে প্রাক্তন শাহ পরিবারের সদস্য রেজা পাহলভির সমর্থনে স্লোগান। নির্বাসনে থাকা রেজা পাহলভিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান শাসনব্যবস্থা বহাল থাকলে ইরানের অর্থনীতি আরও ধ্বংসের মুখে পড়বে। (ছবি- AFP)
রিয়ালের (ইরানি মুদ্রা) পতনের জেরে ধুঁকছে ইরান
গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের অবিশ্বাস্য পতন হয়েছে। এক বছর আগে এক ডলারের বিপরীতে রিয়ালের ভ্যালু ছিল ৮,২০,০০০। কিন্তু বর্তমানে তা পৌঁছেছে ১.৪২ মিলিয়নে। (ছবি- AFP)
ইরানের সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ব্যবসায়ীরা রিয়ালের এই পতন ঘিরে মারাত্মক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের মোবাইল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রিয়ালের পতনের জেরে তাঁদের মোবাইলের ব্যবসা প্রায় ১০০ শতাংশ ডুবে গিয়েছে। (ছবি- AFP)
আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকার এখনও বিদ্রোহ দমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফলে গ্রেপ্তারির সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে জনরোষ আরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অবস্থা শুধরানো কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে। সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত খর্ব হচ্ছে। (ছবি- AFP)
অন্যদিকে, অর্থনীতির পরিস্থিতি শুধরানো নিয়ে কোনও আশার আলো দেখাতে পারেনি ইরান সরকার। সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী ও ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হবে।কিন্তু এরফলে পরিস্থিতি কতটা বদলানো সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ ডলারের বিপরীতে রিয়ালের অবক্ষয় টানা চলছে। (ছবি- AFP)
আমেরিকা হুমকি দিয়েছে
এমনিতেই আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকারের সঙ্গে আমেরিকার মতপার্থ্যক্য রয়েছে। এই সরকারের পতন ঘটলে নিঃসন্দেহে তা আমেরিকার জন্য লাভজনক হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা। এরমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (ছবি- AFP)
গত রবিবারই দেশটিকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছেন, 'এই মুহূর্তে ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে, তাতে আরও মানুষ নিহত হওয়ার খবর এলে আমেরিকা খুব কঠোর ভাবে আঘাত করবে।' সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা বিষয়টি খুব কড়া ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তারা যদি আবার হত্যালীলা শুরু করে তবে আমেরিকার পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসবে।' (ছবি- AFP)