
SIR-এর পর সাপ্লিমেন্টরি ভোটার লিস্ট প্রকাশিত হবে। আর সেই লিস্টে অনেকেরই নাম বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। সেই সব মানুষেরা যাতে এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জানাতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করতেই রাজ্যে গঠিত হল ট্রাইবুনাল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হল পশ্চিমবঙ্গে। এই সব ট্রাইবুনালেই কোনও সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। ট্রাইবুনাল আবেদনের নিষ্পত্তি করবে বলে জানান হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সুপারিশ অনুযায়ী, ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ থাকলে ট্রাইবুনালে আপিল করা যাবে। এখানেই হবে শুনানি।
কোথায় দায়িত্বে কে?
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি.এস. শিবজ্ঞানমকে উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতার দায়িত্বে থাকবেন। প্রাক্তন বিচারপতি প্রদীপ্ত রায়কে উত্তর ২৪ পরগনার আবেদন শোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন বিচারপতি তপন সেনকে পূর্ব মেদিনীপুরে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব কুমার দেবকে কোচবিহার, প্রাক্তন বিচারপতি প্রভাত কুমার দে-কে পূর্ব বর্ধমান, প্রাক্তন বিচারপতি রঘুনাথ রায়কে নদিয়া এবং অশোক কুমার দাসাধিকারীকে হাওড়ায় ট্রাইবুনালে নিয়োগ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রাক্তন বিচারপতি দীপক সাহা রায়কে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনিন্দিতা রায় সরস্বতীকে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম, তৌফিক উদ্দিনকে দক্ষিণ দিনাজপুর এবং ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে মুর্শিদাবাদে নিয়োগ করা হয়েছে।
আবার প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, সম্পত্তি চট্টোপাধ্যায়কে হুগলি, মোহাম্মদ মুমতাজ খানকে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া, মীর দারা শিকোহকে পশ্চিম বর্ধমান, দেবী প্রসাদ দে-কে উত্তর দিনাজপুর, বিশ্বজিৎ বসুকে মুর্শিদাবাদ, মনোজিৎ মণ্ডলকে বীরভূম এবং সিদ্ধার্থ রায় চৌধুরীকে মালদা জেলায় ট্রাইবুনালে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
কীভাবে ট্রাইবুনালে আপিল করবেন?
অনলাইনে ECI Net প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করা যাবে আবেদন। এক্ষেত্রে https://ecinet.eci.gov.in-এ গিয়ে আপিল করুন।
অফলাইনে সরাসরি ডিএম, এসডিএম ও এসডিও-র অফিসে গিয়েও আবেদন করা যাবে। তাঁরাই দ্রুত ইসিআই নেট প্ল্যাটফর্মে আপিল ডিজিটালাইজ করে আপলোড করে দেবেন। তারপর শুরু হয়ে যাবে শুনানি।
কমিশন জানিয়েছে, এই বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে জেলাগুলিতে সমস্ত আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এই ট্রাইবুনাল আর থাকবে না।