
জলপাইগুড়ি জেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০১১ সাল থেকে এটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন। এর আগে দীর্ঘদিন এটি সাধারণ আসন ছিল। ২০০১ সালের জনসংখ্যা রিপোর্টের ভিত্তিতে সীমা নির্দেশক কমিশন এই আসনকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে। তবে আসনের মর্যাদায় বদল এলেও রাজনৈতিক ছবিতে তেমন পরিবর্তন হয়নি। কংগ্রেস বহু বছর ধরেই এখানে শক্ত অবস্থান গড়ে রেখেছে। মোট ১১ বার এই আসন দখল করেছে তারা। ফরোয়ার্ড ব্লক জিতেছে চারবার, আর সিপিআই ও তৃণমূল কংগ্রেস একবার করে।
২০২১ সালে তৃণমূল প্রথমবার এই আসনে জয় পায়। প্রদীপ কুমার বর্মা খুব সল্প ব্যবধানে মাত্র ৯৪১ ভোটে বিজেপির সৌজিত সিংহকে হারান। এর আগে ২০১১ এবং ২০১৬, দু’বারই কংগ্রেসের সুখবিলাস বর্মা জয়ী হন। একবার ফরোয়ার্ড ব্লকের গোবিন্দচন্দ...
জলপাইগুড়ি জেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০১১ সাল থেকে এটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন। এর আগে দীর্ঘদিন এটি সাধারণ আসন ছিল। ২০০১ সালের জনসংখ্যা রিপোর্টের ভিত্তিতে সীমা নির্দেশক কমিশন এই আসনকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে। তবে আসনের মর্যাদায় বদল এলেও রাজনৈতিক ছবিতে তেমন পরিবর্তন হয়নি। কংগ্রেস বহু বছর ধরেই এখানে শক্ত অবস্থান গড়ে রেখেছে। মোট ১১ বার এই আসন দখল করেছে তারা। ফরোয়ার্ড ব্লক জিতেছে চারবার, আর সিপিআই ও তৃণমূল কংগ্রেস একবার করে।
২০২১ সালে তৃণমূল প্রথমবার এই আসনে জয় পায়। প্রদীপ কুমার বর্মা খুব সল্প ব্যবধানে মাত্র ৯৪১ ভোটে বিজেপির সৌজিত সিংহকে হারান। এর আগে ২০১১ এবং ২০১৬, দু’বারই কংগ্রেসের সুখবিলাস বর্মা জয়ী হন। একবার ফরোয়ার্ড ব্লকের গোবিন্দচন্দ্র রায়কে ১১ হাজারের বেশি ভোটে, আরেকবার তৃণমূলের ধৃতিমোহন রায়কে ৫ হাজারের কিছু বেশি ভোটে হারান তিনি। বিজেপির উত্থানও চোখে পড়ার মতো। ২০১১-তে যেখানে ভোট শেয়ার ছিল মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ, ২০১৬-তে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় আট শতাংশে। ২০২১-এ সেই সংখ্যাই লাফিয়ে ওঠে প্রায় বিয়াল্লিশ শতাংশে। তৃণমূলের থেকে মাত্র শূন্য দশমিক চার-দুই শতাংশ কম।
লোকসভা ভোটে বিজেপির শক্তি আরও স্পষ্ট। ২০১৯ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের থেকে প্রায় ৩৯ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির। ২০২৪ সালেও তারা লিড ধরে রাখে, যদিও তা কমে দাঁড়ায় ২৫ হাজারের কিছু বেশি। ভোটার সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়েছে। ২০১১ সালে যেখানে ভোটার ছিলেন প্রায় দুই লক্ষ আট হাজার, ২০২৪-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লক্ষ আটষট্টি হাজারেরও বেশি। ২০১১ সালের হিসাবে, ভোটারের প্রায় অর্ধেকই তফসিলি জাতিভুক্ত। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ। গ্রামের ভোটার প্রায় ৬০ শতাংশ, শহরের ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। ভোটদানও বরাবরই বেশি, ৮০ শতাংশের ওপরে। ২০২১ সালে তা ছুঁয়েছে ৮৬ শতাংশেরও বেশি, ২০২৪-এ কিছুটা কমে প্রায় ৮৩ শতাংশে।
জলপাইগুড়ি দুধকুমার–তিস্তা–তোর্ষা–জলঢাকা সহ বহু নদীঘেরা দুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত। সমতল আর ঢালু জমির মিশ্রণে গড়া এই এলাকার মাটি অতি উর্বর। বর্ষায় নদীগুলির জল উপচে পড়ে বন্যা হলেও সেই জলই আবার জমিকে নতুন করে উর্বর করে তোলে। চাষবাস এখানকার প্রধান ভরসা, ধান, পাট, আলু প্রধান ফসল। কালো দোঁআশ মাটিতে চা চাষও বিস্তৃত। পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কাঠ, বস্ত্রশিল্প মিলিয়ে ছোট মাঝারি শিল্পও রয়েছে। এখানে আছে জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস।
সংযোগ ব্যবস্থাও যথেষ্ট ভালো। সড়ক ও রেলে শিলিগুড়ি মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে। কলকাতার দূরত্ব প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। কাছেপিঠে ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, মলবাজার—সবই ঘণ্টাখানেকের রাস্তা। একদিকে দার্জিলিং জেলা, অন্যদিকে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার, সবই হাতের কাছে। ভূটানের ফুয়েনশলিংও বেশি দূরে নয়। ২০২১ সালে তৃণমূল এই আসনে জয় পেলেও ২০২৬-এ তাদের চিন্তা বাড়তেই পারে। কারণ ভোটে ব্যবধান ছিল একেবারেই কম। তার উপর গত দু’দফার লোকসভা ভোটে বিজেপির স্পষ্ট লিড তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়াবে। দীর্ঘদিনের শাসনের ফলে স্বাভাবিক ভাবেই অ্যান্টি-ইনকামবেন্সিও তৃণমূলকে ভাবাবে। কংগ্রেস–বামফ্রন্ট জোট যদি একটু হলেও ঘুরে দাঁড়ায়, সরাসরি ক্ষতি হবে তৃণমূলেরই। সব দিক মিলিয়ে বিজেপির সামনে সুযোগ থাকছে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচন হতে চলেছে যথেষ্ট টানটান উত্তেজনার।
Soujit singha (piku)
BJP
Sukhbilas barma
INC
Nota
NOTA
Subhash kumar sarkar
BSP
Rakhi sarkar
IND
Harekrishna sarkar
IND
Iswar barai
AMB
Haridas biswas
IND
Palendra nath roy
SUCI
Prahlad roy
IND
Dharttimohan roy
AITC
Tapan roy
BJP
Nota
NOTA
Haribhakta sardar
SUCI
Ganesh mandal
BSP