Advertisement

Assembly Election Matua Vote: মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁর ৪ কেন্দ্রে এবারও ফুটবে পদ্ম? BJP-TMC হিসেব যা বলছে

পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গিয়েছে, বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৈধ নাগরিকত্ব না থাকলে ভোটাধিকার পাওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)–এর জেরে এবার কি ফাটল ধরবে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে? বিশেষ করে ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমার চার বিধানসভা কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিল বিজেপি।

গতবার জেতা  বনগাঁ মহকুমার ৪ কেন্দ্র ধরে রাখার বিষয়ে চিন্তায় বিজেপি শিবিরগতবার জেতা বনগাঁ মহকুমার ৪ কেন্দ্র ধরে রাখার বিষয়ে চিন্তায় বিজেপি শিবির
সুমন আদক
  • কলকাতা,
  • 10 Mar 2026,
  • अपडेटेड 2:33 PM IST

পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গিয়েছে, বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৈধ নাগরিকত্ব না থাকলে ভোটাধিকার পাওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)–এর জেরে এবার কি ফাটল ধরবে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে? বিশেষ করে ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমার চার বিধানসভা কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিল বিজেপি। নাগরিকত্বের আশায় মতুয়ারা উজাড় করে ভোট দিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরে। কিন্তু ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মতুয়া ভোট নিয়ে নয়া সমীকরণ ভাবাচ্ছে বিজেপিকে।

পরিসংখ্যান বলছে,  বনগাঁ মহকুমার চার কেন্দ্রে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে যে ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল বিজেপি, তার থেকেও বেশি ভোটার এখন 'বিচারাধীন' তালিকায়। এদের সিংভাগই মতুয়া সম্প্রদায়ের বলে দাবি জেলা প্রশাসনের। হিসেব অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাগদা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের মার্জিন ছিল ৯৭৯২ ভোট। অথচ সেই কেন্দ্রেই বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ১৩,৪৫৯। বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে বিজেপির লিড ছিল ১০,৪৮৮। কিন্তু এখানে বিচারাধীন ভোটার ১২,২৯৬। বনগাঁ দক্ষিণে বিজেপি জয় পেয়েছিল মাত্র ২ হাজার ৪ ভোটে। সেখানে বিচারাধীন ১৩,৪৪৭ জন। আর গাইঘাটা কেন্দ্রে বিজেপির লিড ছিল ৯৫৭৮। এখানে বিচারাধীন ভোটার ২২,২৭৮।  এই প্রক্রিয়ায় বহু মতুয়ার নাম লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে বলেই খবর। ২০২১–এর বিধানসভা এবং ২০২৪–এর লোকসভা ভোটে বিজেপি–র উপরে পুরোপুরি আস্থা রেখেছিলেন মতুয়া ভোটাররা। সেই ভরসায় এ বার ধাক্কা লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা। 

বিজেপির প্রতি মতুয়াদের  ভরসায় ধাক্কা লাগবে না, সে কথা জোর দিয়ে বলতে পারছেন না মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও। আগেও যে কথা তিনি বারবার বলেছেন, গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স-এর একটি অনুষ্ঠানে কার্যত সে সবেরই পুনরাবৃত্তি শোনা গিয়েছে তাঁর কন্ঠে। ভোট ও মতুয়াদের নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জবাব, ‘লিস্ট থেকে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়াই কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়াও আমাদের লক্ষ্য।’ তা হলে এতদিন যে মতুয়ারা ভোট দিলেন, তাঁদের অনেকের নাম কেন বাদ পড়ল তালিকা থেকে? এতে শান্তনুর জবাব, ‘আমাদের দাবি ছিল নাগরিকত্ব। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। আমরা খুব জোর দিয়ে বলছি, একজন মতুয়াকেও বাংলাদেশে ফিরতে হবে না, সকলেই নাগরিকত্ব পাবেন।’ কিন্তু তাঁরা কি বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন? সরাসরি উত্তর এড়িয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর এক্ষেত্রে উত্তর, ‘এই বিষয়গুলি তো নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। ফলে এ নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা তো ফের আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু এ বারের ভোট তাঁরা দিতে পারবেন কি না, বলতে পারব না।’

Advertisement

ঠাকুর বাড়ির সদস্য তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর মনে করছেন এই পরিস্থিতিতে  মতুয়াদের ভোট এবার ঘাসফুল শিবিরের দিকেই যাবে। মমতাবালা ঠাকুর মনে করেন, 'মতুয়াদের সর্বনাশ তো করেছে বিজেপি।' বিজেপির জেতা আসনগুলিতে বহু মতুয়ার নাম হয় বাদ পড়েছে  নয়তো বিচারাধীন। এক্ষেত্রে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রতি মতুয়াদের মোহভঙ্গ হবে এবং তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক বাড়বে বলেই bangla.aajtak.in-কে জানিয়েছেন মমতাবালা ঠাকুর।  যদিও এই যুক্তি মানতে রাজি নন বিজেপির হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম কুমার সরকার। বিজেপি বিধায়কের মতে ভোট কিছুটা কমলেও গতবার মতুয়া আসনগুলিতে এবারও জয় ধরে রাখতে পারবে বিজেপি। অসীম কুমার সরকার bangla.aajtak.in-কে বলেন, বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে যারা বিজেপির সমর্থক তারা CAA ফর্মে অ্যাপ্লাই করেছেন, ফলে ভোটার লিস্টে নাম উঠে যাবে। আগামী ৭ দিন ধরে এই কাজ চলবে। কিন্তু মমতাবালা ঠাকুর তৃণমূলপন্থী মতুয়াদের CAA ফর্মে  ফর্মে করতে দেননি। ফলে তাদের নাম কাটা যাবে। ভোট কমবে তৃণমূলের।'

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়েন মতুয়ারা। ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এটাই উঠে আসে। মতুয়াপ্রধান লোকসভা কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও নদিয়ার রানাঘাটে বড় ব্যবধানে জিতেছিল বিজেপি। বনগাঁয় শান্তনু ঠাকুর জেতেন এক লক্ষের বেশি ভোটে। রানাঘাটে জগন্নাথ সরকারের জয়ের ব্যবধান ছিল দু’লক্ষেরও বেশি।  বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ ও রানাঘাট লোকসভার অধীন ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট নির্ণায়ক। এ ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর, হাবরা, সন্দেশখালি, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, কালনা, রায়নাতেও এই জনগোষ্ঠীর মানুষরাই ফলাফল ঠিক করে দেন। রাজ্যে এমন আসন সংখ্যা কমবেশি ৩০। সীমিত হলেও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি আসনে মতুয়াদের প্রভাব আছে। তাই মতুয়াদের মন পেতে প্রধান দুই শিবিরের চেষ্টার অন্ত নেই। নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় যদি মতুয়ারা ভোটদানে বঞ্চিত হন, তাহলে বিজেপি চাপে পড়তে পারে বলে অনেক পর্যবেক্ষকের মত।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement