
উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর একটি গুরুত্বপূর্ণ পুর শহর এবং এটি বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা আসন। এই কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে পুরো অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভা এবং হাবড়া-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। শহর ও গ্রামের মিশেলে গড়ে ওঠা এই আসনটির রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব যথেষ্ট।
অশোকনগর কল্যাণগড়ের ইতিহাসও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ঘাঁটি ছিল। দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের বসবাসের জন্য এই এলাকায় টাউনশিপ গড়ে তোলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৮ সালে এখানে তেলক্ষেত্র আবিষ্কার হওয়ায় অশোকনগর নতুন করে শিরোনামে আসে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ দৈনি...
উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর একটি গুরুত্বপূর্ণ পুর শহর এবং এটি বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা আসন। এই কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে পুরো অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভা এবং হাবড়া-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। শহর ও গ্রামের মিশেলে গড়ে ওঠা এই আসনটির রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব যথেষ্ট।
অশোকনগর কল্যাণগড়ের ইতিহাসও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ঘাঁটি ছিল। দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের বসবাসের জন্য এই এলাকায় টাউনশিপ গড়ে তোলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৮ সালে এখানে তেলক্ষেত্র আবিষ্কার হওয়ায় অশোকনগর নতুন করে শিরোনামে আসে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ দৈনিক উৎপাদন পৌঁছায় প্রায় ৪,১০০ ব্যারেলে। ওএনজিসি এখনও এখানে খনন ও উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৬৭ সালে গঠিত হওয়ার পর এই আসনে মোট ১৫টি নির্বাচন হয়েছে। দীর্ঘদিন বামফ্রন্টের দাপট ছিল এখানে। সিপিএম আটবার এবং সিপিআই দু’বার এই আসন জিতেছে। ২০১১ সাল থেকে পরিস্থিতি বদলায় এবং টানা তিনবার জিতে এই আসন নিজেদের দখলে রাখে তৃণমূল কংগ্রেস। ১৯৯৯ সালের উপনির্বাচনে একবার বিজেপি জয়ী হয়েছিল, যা তাদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত।
তৃণমূল কংগ্রেস ২০০১ ও ২০০৬ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ২০১১ সালে প্রথমবার জয় পায়। ধীমান রায় সে বছর সিপিএমের সত্যসেবী করকে প্রায় ২৭ হাজার ভোটে হারান। ২০১৬ সালেও তিনি জয় ধরে রাখেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী বিজেপির তনুজা চক্রবর্তীকে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও তৃণমূলের দাপট দেখা গেছে। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে তারা ফরওয়ার্ড ব্লককে বড় ব্যবধানে হারায়। তবে বামেদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিজেপি ধীরে ধীরে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে। ২০১৯ ও ২০২৪ সালে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান কমেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভোটার গঠনের দিক থেকেও এই আসনটি বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০২৪ সালে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ২.৬৬ লক্ষ। এর মধ্যে শহুরে ভোটার প্রায় ৫২.৯৩ শতাংশ এবং গ্রামীণ ভোটার ৪৭.০৭ শতাংশ। মুসলিম ভোটার প্রায় ২৭.৮০ শতাংশ, তফসিলি জাতি ২১.২১ শতাংশ এবং তফসিলি জনজাতি ১.৫৮ শতাংশ। ফলে কোনও একক ভোটব্যাঙ্ক নয়, বরং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটই এখানে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটদানের হারও যথেষ্ট ভালো। ২০১১ সালে ৮৮.৩১ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা ধীরে ধীরে কিছুটা কমে ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ৮২.৬৬ শতাংশে। তবুও এই হার রাজ্যের গড়ের তুলনায় বেশ উঁচু।
অর্থনীতি ও ভৌগোলিক দিক থেকে অশোকনগর একটি মিশ্র চরিত্রের এলাকা। কৃষি, ছোট শিল্প, খুচরো ব্যবসার পাশাপাশি এখন তেল উৎপাদনও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। কলকাতা ও বারাসতের সঙ্গে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ভালো হওয়ায় এই এলাকা দ্রুত উন্নয়নশীল।
সব মিলিয়ে, অশোকনগর এখন একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে পরিণত হয়েছে। বামফ্রন্ট প্রান্তিক হয়ে পড়লেও বিজেপি দ্রুত শক্তি বাড়িয়েছে এবং তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল, যেখানে সামান্য ভোটের ওঠানামাই ফল নির্ধারণ করতে পারে।
Tanuja chakraborty
BJP
Tapas banerjee
RSSCMJP
Nota
NOTA
Tanuja chakraborty
IND
Angshumali barai
GMM
Jagadish ray
BSP
Dr. sumay hira
IND
Tarak rajak das
SUCI
Satyasebi kar
CPM
Tanuja chakraborty
BJP
Nota
NOTA
Tarakeswar hawlader
BSP
Ajit kumar sarkar
RPI(A)
Jayashri das (basak)
CPI(ML)(L)
Parimal baishnab
IND