
পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমার অন্তর্গত ব্লক স্তরের জনপদ জামালপুর। জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরেই এক ‘অস্থির’ রাজনৈতিক চরিত্রের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এই বিধানসভা কেন্দ্র বারবারই এমন রায় দিয়েছে, যাতে কোনও রাজনৈতিক দল নিশ্চিন্ত হতে পারেনি। ২০২৫ সালের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ১০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ায়, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে গোটা জামালপুর ব্লক এবং রায়না-১ ব্লকের মুগুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি।
এ পর্যন্ত হওয়া ১৪টি বিধানসভা নির্বাচনে জামালপুরে এ...
পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমার অন্তর্গত ব্লক স্তরের জনপদ জামালপুর। জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরেই এক ‘অস্থির’ রাজনৈতিক চরিত্রের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এই বিধানসভা কেন্দ্র বারবারই এমন রায় দিয়েছে, যাতে কোনও রাজনৈতিক দল নিশ্চিন্ত হতে পারেনি। ২০২৫ সালের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ১০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ায়, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে গোটা জামালপুর ব্লক এবং রায়না-১ ব্লকের মুগুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি।
এ পর্যন্ত হওয়া ১৪টি বিধানসভা নির্বাচনে জামালপুরে একাধিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান-পতন দেখা গেছে। সিপিএম চারবার এই কেন্দ্র দখল করেছে। কংগ্রেস এবং নির্দল প্রার্থীরা, যাঁরা মূলত বামপন্থী বিরোধী ছিলেন, তিনবার করে জয় পেয়েছেন। ফরওয়ার্ড ব্লক এবং তৃণমূল দু’বার করে এই কেন্দ্রে জিতেছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসে কেন্দ্রটির অনিশ্চিত চরিত্র আরও স্পষ্ট। ২০১১ সালে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল প্রামাণিক মাত্র ২,৫৪৩ ভোটে পরাজিত করেন তৎকালীন বিধায়ক সমর হাজরাকে। হাজরা এর আগে টানা চারবার জয়ী হয়েছিলেন, তিনবার সিপিএমের হয়ে এবং একবার নির্দল প্রার্থী হিসেবে। তবে ২০১৬ সালে ফের সিপিএমের টিকিটে দাঁড়িয়ে তিনি তৃণমূলের কাছ থেকে আসনটি ছিনিয়ে নেন, ব্যবধান ছিল মাত্র ১,৪২৩ ভোট। ২০২১ সালে ছবিটা আবার বদলে যায়—তৃণমূল প্রার্থী অলোক কুমার মাঝি বিজেপির বলরাম বাপারিকে প্রায় ১৮ হাজার ভোটে হারিয়ে জয় পান। সেই নির্বাচনে সিপিএম তৃতীয় স্থানে নেমে যায়, ভোট শতাংশে বড় ধস নামে, অন্যদিকে বিজেপির ভোটভাগ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ে।
লোকসভা নির্বাচনে তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল আচরণ করেছে জামালপুর। ২০০৯ সালে সিপিএম এগিয়ে থাকলেও, ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনটি লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা অংশে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে। ২০১৯ সালে ব্যবধান কমলেও, ২০২৪ সালে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ হাজারের বেশি ভোটে। এসআইআর-এর পর জামালপুরে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা নেমে এসেছে ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৫৮৭-এ, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১০,৩০০ কম। এখানে তফসিলি জাতির ভোটার সবচেয়ে বেশি, ৩৬.২৯ শতাংশ। তফসিলি উপজাতি ১৪.৪১ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ১৬.১০ শতাংশ। সম্পূর্ণ গ্রামীণ এই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বরাবরই বেশি, প্রায়শই ৮৫ থেকে ৯২ শতাংশের মধ্যে থেকেছে।
ঐতিহাসিক ভাবে জামালপুর এক সময়ে ‘সালিমাবাদ’ নামে পরিচিত ছিল এবং ব্রিটিশ আমলে এটি একটি প্রশাসনিক ও পুলিশি কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পায়। পরে এটি ধীরে ধীরে একটি গ্রামীণ পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। ভৌগোলিক দিক থেকে জামালপুর পূর্ব বর্ধমানের উর্বর অলুভিয়াল সমভূমির অংশ। যাকে বাংলার ‘ধানের গোলা’ বলা হয়। এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান প্রধান ফসল। পাশাপাশি পাট, আলু, তেলবীজ ও সবজির চাষও হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে জামালপুর সড়কপথে বর্ধমান ও মেমারির সঙ্গে যুক্ত। রেল যোগাযোগের জন্য মূলত মেমারি ও বর্ধমান স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই দুই শহরই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বড় বাজারের কেন্দ্র হিসেবে জামালপুরবাসীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।
১০ হাজারের বেশি ভোটার বাদ পড়ায় এবারের নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে। বাদ পড়া ভোটাররা কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে প্রভাবের হিসেব করাও কঠিন। শেষ বিধানসভা ও সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়ে তৃণমূল ২০২৬-এ নামলেও, শক্তিশালী বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোট মিলিয়ে এই কেন্দ্র ফের একবার হাড্ডাহাড্ডি, বহু-মুখী লড়াইয়ের মঞ্চ হতে চলেছে। এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে জামালপুরের ইতিহাস।
Balaram bapari
BJP
Samar hazra
CPI(M)
Nota
NOTA
Gaurhari patra
BSP
Kartik kshetrapal
BMUP
Tarun kanti majhi
CPI(ML)(L)
Ujjal pramanick
AITC
Pallab kumar roy
BJP
Nota
NOTA
Bankim santra
BSP
Kishore kumar biswas
JDP
Sanat bhangi
IND