
মতুয়া প্রধান বাগদায় ২০২৬ ভোটের আগে উত্তেজনা তুঙ্গে। SIR এখানে বড় ইস্যু। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষই জল মাপতে শুরু করে দিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার একটি ব্লক-স্তরের অঞ্চল হল বাগদা। এটি একটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। একসময় এটি ছিল বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি। তবে এখন তারা জমি হারিয়েছে। এই কেন্দ্রটি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সরাসরি লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠেছে।
এই বিধানসভা কেন্দ্রটি বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালে। এখানে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনসহ মোট ১৬ বার ভোট হয়েছে। একসময় এখানে ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা এই আসনটি জিতেছে নয় বার। আবার কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস তিন বার করে এ...
মতুয়া প্রধান বাগদায় ২০২৬ ভোটের আগে উত্তেজনা তুঙ্গে। SIR এখানে বড় ইস্যু। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষই জল মাপতে শুরু করে দিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার একটি ব্লক-স্তরের অঞ্চল হল বাগদা। এটি একটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। একসময় এটি ছিল বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি। তবে এখন তারা জমি হারিয়েছে। এই কেন্দ্রটি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সরাসরি লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠেছে।
এই বিধানসভা কেন্দ্রটি বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালে। এখানে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনসহ মোট ১৬ বার ভোট হয়েছে। একসময় এখানে ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা এই আসনটি জিতেছে নয় বার। আবার কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস তিন বার করে এই আসনে জয় পেয়েছে। আর বিজেপি এক বার জিতেছে এখানে। ২০১১ সালে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস যিনি প্রতিবেশী বিহারের পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি তদন্ত করেছিলেন তিনি এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন। তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকের মৃণালকান্তি সিকদারকে ২০,৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেন। তবে ২০১৬ সালে কংগ্রেসের দুলাল চন্দ্র বার এই আসন জিতেছিলেন। তিনি তৃণমূল বিধায়ক উপেন্দ্রনাথকে ১২,২৩৬ ভোটে হারান।
২০২১ সালে আবার এখানে পালা বদল হয়। সেই বছর তৃণমূল ছেড়ে আসা বিশ্বজিৎ দাস বিজেপির প্রার্থী হিসেবে TMC-এর পরিতোষ কুমার সাহাকে ৯,৭৯২ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। পরে অবশ্যই তিনি তৃণমূলে ফিরে যান। আবার পদত্যাগ করেন। যার ফলে এই আসনে ২০২৪ সালে উপনির্বাচনও হয়। যদিও ওই উপনির্বাচনে তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। টিকিট পান মধুপর্ণা ঠাকুর। তিনি বিজেপির বিনয় কুমার বিশ্বাসকে ৩৩,৪৫৫ ভোটে পরাজিত করেন। বাগদা বিধানসভা অঞ্চলে লোকসভা নির্বাচনেও বারবার রং বদলেছে। ২০০৯ সালে এই অংশে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ১৩,১৯১ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২২,৮৭৩ ভোটে। অবশ্য ২০১৯ সালে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে ২৪,৪৫৭ ভোটে পিছনে ফেলে দেয়। এমনকী ২০২৪ সালেও বিজেপি এখানে তৃণমূলের থেকে ২০,৫১৪ ভোটে এগিয়ে ছিল।
SIR খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২,৪৮,৯১৮। আর ২০২৪ সালে ২,৮৫,৫০৯ ভোটার ছিল এখানে। অর্থাৎ ভোটার কমেছে ৩৬,৫৯১ জন। এর আগে ২০২১ সালে ২,৭৭,৪৬৪, ২০১৯ সালে ২,৬৭,৮৬৭, ২০১৬ সালে ২,৫৭,৯৯৮ এবং ২০১১ সালে ২,০২,৮০৮ ভোটার সংখ্যা ছিল। ভোটারদের মধ্যে তফসিলি জাতি রয়েছে ৫৩.৫৪ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ৪.৯১ শতাংশ। আর এই কেন্দ্রে মুসলমানের সংখ্যা খুবই কম।
বাগদা পুরোপুরি গ্রামীণ এলাকা। এখানে ১০০ শতাংশ ভোটারই গ্রামীণ। কোনও শহুরে ভোটার এই এলাকা নেই। ভোটদানের হার এখানে চিরকালই বেশি। যেমন ধরুন- ২০১১ সালে ৮৫.৬০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭৯.৬৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৭.৪৩ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৭৭.২০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম জনসংখ্যা এখানে কম। স্থানীয়ভাবে মনে করা হয়, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও কড়া নজরদারির জন্যই এমনটা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বাগদার জনসংখ্যার বড় অংশই ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা তফসিলি জাতিভুক্ত হিন্দু শরণার্থী। তাঁরাই এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাই এখানে মুসলিমরা কম বসবাস করেন। আর একটা বড় বিষয় হল, বাগদা মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা।
বাগদা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার উত্তরাংশে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এটি জেলা সদর বারাসত থেকে প্রায় ৭০–৭৫ কিলোমিটার উত্তরে রয়েছে। এটি নিজেই একটি ব্লক শহর। এর নিকটতম বড় শহর হল বনগাঁ। রাজধানী কলকাতা বাগদা থেকে সড়কপথে আনুমানিক ১০০–১০৫ কিলোমিটার দূরে। এই বিধানসভা কেন্দ্রের গ্রামগুলি কাঁটাতার-ঘেরা বাংলাদেশ সীমান্তের মাত্র কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এখানকার বহু স্থানীয় রাস্তা সীমান্ত চৌকি ও সীমান্তঘেঁষা বাজারের দিকে চলে গিছে।
প্রসঙ্গত, কৃষিই এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি। ধান এখানকার প্রধান ফসল। সঙ্গে পাট, সবজি ও তেলবীজ চাষও হয়। ছোটখাট ব্যবসা, সীমান্ত-সংযুক্ত খুচরো বাণিজ্য হয়। এছাড়া সরকারি চাকরিও বহু পরিবারের আয়ের উৎস। গত তবে এখনও চিকিৎসা ও ভাল চাকরির জন্য বহু বাসিন্দা বনগাঁ, বারাসত ও কলকাতার ওপর নির্ভরশীল। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বাগদায় বড় বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কম হলেও মোট ৩৬,৫৯১টি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
তবে কোন সম্প্রদায় বা জাতির কতজন বাদ পড়েছেন, তার কোনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে নেই। এই তথ্যের অভাবের ফলে সব রাজনৈতিক দলই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। কোন সামাজিক গোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। ২০২১ সালে বিজেপি এই বিধানসভা আসনটি জিতেছিল। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই অংশে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ফলে বিজেপি নেতাদের একটি অংশ ধরে নিতে পারেন যে বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশ হয়তো তৃণমূলের সমর্থক।
যদি সেই ধারণা সত্যি হয়, তাহলে কাগজে-কলমে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাগদা আরও স্পষ্টভাবে বিজেপির দিকে ঝুঁকতে পারে। তবে বাদ পড়া ভোটারদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রোফাইল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। তাই নির্দিষ্ট করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে একটা কথা বলাই যায় যে এই কেন্দ্রে মূল লড়াই হবে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যেই।
Paritosh kumar saha
AITC
Kirttaniya prabir (bapi)
INC
Santosh biswas
BSP
Nota
NOTA
Pradip kumar biswas
IND
Upendra nath biswas
AITC
Biva majumder
BJP
Bikash biswas
BSP
Nota
NOTA
Harish chandra mondal
IND
Hirok golder
GMM
Goutam malo
RPI(A)