
প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় বিজেপির অন্দরে তীব্র কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলীয় দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা আর চাপা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম, ভাতার, কালনা-সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। কোথাও প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ, কোথাও আবার দলেরই একাংশ সরাসরি বিরোধিতা করছে ঘোষিত প্রার্থীদের।
কালনায় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা রাস্তায় নেমে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আউশগ্রামে দলের একাংশ রাজ্য নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। ভাতারে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়েছে। অন্যদিকে মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ ও কাটোয়া, এই তিন কেন্দ্রে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি দল। ফলে সেখানে ক্ষোভ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দলের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পুরনো নেতাদের উপেক্ষা করে ঘনিষ্ঠদের প্রার্থী করা হয়েছে। যোগ্যতার বদলে ‘পছন্দের মানুষ’কে টিকিট দেওয়াতেই এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। পূর্ব বর্ধমানের এক প্রবীণ নেতার বক্তব্য, জেলার প্রাক্তন সভাপতিদের কাউকেই প্রার্থী করা হয়নি, অথচ কঠিন সময়ে তাঁরাই দলের হাল ধরেছিলেন।
নদিয়াতেও একই ছবি। রানাঘাট দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের দাবিতে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কৃষ্ণগঞ্জে মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজন রাস্তায় নেমে অবরোধ করেন। করিমপুর, পলাশীপাড়া, চাপড়া, একাধিক কেন্দ্রেই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সামনে এসেছে। স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থী দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
উত্তর শহরতলির পানিহাটি ও উত্তর দমদমে এখনও প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। একইভাবে কোচবিহার দক্ষিণ আসনেও প্রার্থী ঠিক করতে না পারায় বিজেপি কার্যত প্রচারে পিছিয়ে পড়েছে। যেখানে তৃণমূল ও অন্যান্য দল জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে, সেখানে বিজেপি এখনও প্রার্থী বাছাই নিয়েই ব্যস্ত।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্দরে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দলকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।