
পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গের একটি সাধারণ আসন। ১৯৬২ সাল থেকে এই কেন্দ্র রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এটি বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। মেমারি পৌরসভা, মেমারি-১ ব্লক এবং মেমারি-২ ব্লকের কুচুট ও সাতগাছিয়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এই কেন্দ্রের চরিত্র মূলত গ্রামীণ।
দীর্ঘদিন ধরে মেমারি ছিল বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি। মোট ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে সিপিএম এবং সিপিআই মিলিয়ে এই আসন তারা জিতেছে ১০ বার। মাঝখানে ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে কংগ্রেস বাম আধিপত্যে ছেদ ঘটায়। তবে ২০১১ সালের পর থেকেই রাজনৈতিক ছবিটা আমূল বদলাতে শুরু করে। ওই বছর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস টানা তিনবার এই আসনে জ...
পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গের একটি সাধারণ আসন। ১৯৬২ সাল থেকে এই কেন্দ্র রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এটি বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। মেমারি পৌরসভা, মেমারি-১ ব্লক এবং মেমারি-২ ব্লকের কুচুট ও সাতগাছিয়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এই কেন্দ্রের চরিত্র মূলত গ্রামীণ।
দীর্ঘদিন ধরে মেমারি ছিল বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি। মোট ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে সিপিএম এবং সিপিআই মিলিয়ে এই আসন তারা জিতেছে ১০ বার। মাঝখানে ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে কংগ্রেস বাম আধিপত্যে ছেদ ঘটায়। তবে ২০১১ সালের পর থেকেই রাজনৈতিক ছবিটা আমূল বদলাতে শুরু করে। ওই বছর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস টানা তিনবার এই আসনে জয়লাভ করেছে।
২০১১ সালে তৃণমূল প্রার্থী আবুল হাসেম মণ্ডল সিপিএমের দেবাশিস ঘোষকে মাত্র ৩,১৭৮ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে বেগম নার্গিসের জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৮,৮৮৩ ভোটে। ২০২১ সালে মাধুসূদন ভট্টাচার্য বিপুল ব্যবধানে, ২৩,০৭৮ ভোটে জয়ী হন। এই নির্বাচনে সিপিএমের জায়গায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। ওই বছর সিপিএমের ভোট শতাংশ নেমে যায় মাত্র ১১.৭১ শতাংশে। যেখানে তৃণমূল পায় ৪৭.৯৩ শতাংশ। এবং বিজেপি ৩৭.৩৮ শতাংশ ভোট। লোকসভা নির্বাচনেও এই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে মেমারি বিধানসভা অংশে তৃণমূলের লিড ছিল যথাক্রমে ৫,০০৮ ও ৪,৮৯৯ ভোট। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩২,৮৩১ ভোটে। একই সঙ্গে বিজেপি নিজেদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও মেমারি একটি বড় কেন্দ্র। ২০২১ সালে এখানে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৫৪,২৩৬, যা ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ২,৫৭,৩৭৫। এর মধ্যে তফসিলি জাতির ভোটার ৩২.৭৩ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ১৪.৮০ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ২০.৪০ শতাংশ। মোট ভোটারের প্রায় ৮৪.৭৭ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা, শহুরে ভোটার মাত্র ১৫.২৩ শতাংশ। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি, ২০১৬ সালে ৮৭.৩৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪.৭২ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৬.১০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৩.৩২ শতাংশ। ভৌগোলিকভাবে মেমারি বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমার অন্তর্গত এবং মধ্যবঙ্গের উর্বর পললভূমির অংশ। কাছ দিয়ে বয়ে যাওয়া দামোদর ও দ্বারকেশ্বর নদী কৃষিকাজে বিশেষ সহায়তা করে। ধান, আলু ও মৌসুমি সবজি এখানকার প্রধান ফসল। পাটচাষও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
অর্থনীতির মূল ভরকেন্দ্র কৃষি হলেও ছোটখাটো ব্যবসা ও পরিষেবা খাতেও বহু মানুষ যুক্ত। এলাকায় ধানকল ও কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ শিল্প রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও মোটামুটি উন্নত। হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইনে অবস্থিত মেমারি রেলস্টেশন হাওড়া থেকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দূরে। রাজ্য সড়ক ১৩ ও ১৫ এই অঞ্চলের উপর দিয়ে গেছে। মেমারি জেলা সদর বর্ধমান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে এবং কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আশপাশের উল্লেখযোগ্য শহরের মধ্যে রয়েছে জামালপুর, খণ্ডঘোষ, শ্যামসুন্দর। দক্ষিণে হুগলি এবং পশ্চিমে বাঁকুড়া জেলার সান্নিধ্যও এই কেন্দ্রের ভৌগোলিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেমারিতে আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসই সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ক্রমবর্ধমান ভোটের ব্যবধান তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। তবে বিজেপি যদি শক্তিশালী সরকার-বিরোধী বার্তা তৈরি করতে পারে এবং সিপিএম যদি উল্লেখযোগ্য পুনরুত্থান ঘটাতে সক্ষম হয়, তাহলে লড়াই কিছুটা জমে উঠতে পারে। আপাতত যদিও মেমারিতে তৃণমূলই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
Bhismadeb bhattacharya
BJP
Sanat banerjee
CPI(M)
Kalpana mandal
BSP
Tarun kumar dhali
BMUP
Nota
NOTA
Manab banerjee
IND
Debashis ghosh
CPM
Bhismadeb bhattacharya
BJP
Srabanti majumder
IND
Dinesh sikdar
BSP
Nota
NOTA
Budo murmu
JDP