
কোচবিহার দক্ষিণের লড়াই মূলত বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। বাম-কংগ্রেসের এখানে তেমন একটা প্রভাব নেই। এখন দেখার ২৬-এ এই কেন্দ্রের ফল কোন দিকে যায়। আসলে কোচবিহার দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রটি পুরো কোচবিহার পৌরসভা এলাকা এবং কোচবিহার ১ ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত।
কোচবিহার কেন্দ্রটির ইতিহাস একটু জটিল। ১৯৫১ সালে কোচবিহার নামে এর জন্ম। তবে ১৯৫১ ও ১৯৫৭ সালে এটি যুগ্ম আসন হিসেবে ভোটে যায়। ১৯৫৭ সালের নির্বাচন থেকে এটি আবার আলাদা কেন্দ্রে ভাগ হয়ে যায়। কোচবিহার উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিম। আবার ১৯৭৭ সালে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রটি তুলে নেওয়া হয়। এরপর আ...
কোচবিহার দক্ষিণের লড়াই মূলত বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। বাম-কংগ্রেসের এখানে তেমন একটা প্রভাব নেই। এখন দেখার ২৬-এ এই কেন্দ্রের ফল কোন দিকে যায়। আসলে কোচবিহার দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রটি পুরো কোচবিহার পৌরসভা এলাকা এবং কোচবিহার ১ ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত।
কোচবিহার কেন্দ্রটির ইতিহাস একটু জটিল। ১৯৫১ সালে কোচবিহার নামে এর জন্ম। তবে ১৯৫১ ও ১৯৫৭ সালে এটি যুগ্ম আসন হিসেবে ভোটে যায়। ১৯৫৭ সালের নির্বাচন থেকে এটি আবার আলাদা কেন্দ্রে ভাগ হয়ে যায়। কোচবিহার উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিম। আবার ১৯৭৭ সালে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রটি তুলে নেওয়া হয়। এরপর আবার ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে কোচবিহার উত্তর ও পশ্চিমও বাতিল করা হয়। এর জায়গায় তৈরি হয় কোচবিহার উত্তর (উত্তর) ও দক্ষিণ (দক্ষিণ)।
মজার বিষয় হল, কোচবিহার দক্ষিণের ভোটাররা পরিবর্তন পছন্দ করেন। ২০১১ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে আলাদা আলাদা দলকে জিতিয়েছেন তারা। ২০১১ সালে অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লকের অক্ষয় ঠাকুর তৃণমূল কংগ্রেসের আব্দুল জলিল আহমেদকে ২,৮৬৩ ভোটে হারান। এই ভোটে বিজেপ বিজেপি ছিল তৃতীয় স্থানে। ২০১৬ সালে তৃণমূলের মিহির গোস্বামী ১৮,১৯৫ ভোটে ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবাশিস বণিককে হারান। সেবারও বিজেপি তৃতীয়।
যদিও ২০২১ সালে বিজেপির উত্থান ঘটে। সেই ভোটে নিখিল রঞ্জন দে তৃণমূলের অভিজিৎ দে ভৌমিককে ৪,৯৩১ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। ফরওয়ার্ড ব্লক এই ভোটে মাত্র ৫.২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়। তৃণমূল পায় ৪৪.৩১ শতাংশ এবং বিজেপি ৪৬.৮৩ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও এখানে পালাবদলের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ২০০৯ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক তৃণমূলের থেকে ৫,২৬২ ভোটে এগিয়ে ছিল। আবার ২০১৪ সালে তৃণমূল ১০,০৪৮ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে বিজেপি ৬,০২১ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূলের ওপর। কিন্তু ২০২৪ সালে তৃণমূল আবার এগিয়ে যায় ৭,৭০৯ ভোট বা ৩.৯৬ শতাংশ ব্যবধানে।
২০২৪ সালে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ২,৪০,৯৮০, যা ২০২১ সালের ২,৩৩,৮৩৯ এবং ২০১৯ সালের ২,২৩,০২৬ থেকে বেড়েছে। তফসিলি জাতির ভোটারের সংখ্যা এখানে ৩৬.১৯ শতাংশ। মুসলিম ভোটার ২৯.১০ শতাংশ। এটি প্রধানত গ্রামীণ এলাকা। গ্রামের ভোটারের সংখ্যা ৭২.৯৩ শতাংশ। ২৭.০৩ শতাংশ শহুরে ভোটার। এই কেন্দ্রে ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। ২০২১ সালে ৮৩.৬১ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮১.৮০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৪.১৪ শতাংশ এবং ২০১১ সালে ৮৩.৭১ শতাংশ মানুষ ভোট দেন।
কোচবিহারের মধ্যে দিয়ে তিস্তা, জলঢাকা, কালজানি ও রাইডাকসহ বহু নদী প্রবাহিত। এই সব নদী কৃষিকে সাহায্য করে। চাষীরা প্রধানত ধান, পাট, আখ ও বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করেন। এখানকার সড়ক ও রেল যোগাযোগ ভাল। নয়া কোচবিহার রেলস্টেশন প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কোচবিহার প্যালেস এখানকার একটি পরিচিত জায়গা। ১৮৮৭ সালে মহারাজা নিবেদিতা নারায়ণ এটি তৈরি করেন। সাগরদিঘি শহরে আবার রয়েছে বিরাট জলাধার। এই জায়গাটা পাখিপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়।অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে রয়েছে মদনমোহন মন্দির এবং রসিক বিল ইত্যাদি।
কোচবিহার কলকাতা ৫২৪ কিমি দূরে অবস্থিত। শিলিগুড়ি ১১০ কিমি, জলপাইগুড়ি ৭৬ কিমি, আলিপুরদুয়ার ২২ কিমি দূরে। অসমের সীমানা মাত্র ৮৪ কিমি দূরে। অসমের প্রধান শহর গুয়াহাটি প্রায় ২৭৯ কিমি দূরে। বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ১৯ কিমি দূরে। সীমান্ত পার হলেই লালমণিরহাট শহর। মাথায় রাখতে হবে, এখানে বাম–কংগ্রেস জোট সাম্প্রতিক নির্বাচনে মাত্র ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। ফলে কোচবিহার দক্ষিণে মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। সেই লড়াই ২০২৬ সালে জমে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Avijit de bhowmik
AITC
Akshay thakur
AIFB
Rati ranjan paul
IND
Nota
NOTA
Khokan majumdar
BSP
Nazma khandakar
SUCI
Anamika paul
IND
Bidhan barma
IND
Babla deb
AMB
Debasis banik
AIFB
Nikhil ranjan dey
BJP
Maya majumder
BSP
Amita das
AMB
Nota
NOTA
Nazma khandakar
SUCI
Akik hossain chowdhury
KPPU