
ভোটের আগেই আবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে বড় রদবদল করল ইলেকশন কমিশন। রবিবার তাদের পক্ষ থেকে রাজ্যের মোট ১৭৩টি থানার অফিসার-ইন-চার্জ (OC) ও ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ (IC) বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা ৩১টি থানাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর এই সমস্ত বদলির পিছনে শান্তিপূর্ণ ভোট করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে কমিশনের তরফে।
প্রসঙ্গত, কলকাতার ভবানীপুর ও পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশের কর্মকর্তাদেরও বদলে ফেলা হয়েছে। এছাড়া কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ একাধিক জেলার বিভিন্ন থানার আইসি ও ওসিদেরও বদলে ফেলা হয়েছে কমিশনের নির্দেশে।
সেই মতো একটি অর্ডার দিয়েছে কমিশন। সেই অর্ডার অনুযায়ী, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সে (STF) কর্মরত সৌমিত্র বসু ভবানীপুর থানার নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। আর ভোটের আগে রাজ্য পুলিশে এই বদলি যে আদতে বিরাট তাৎপর্যপূর্ণ, সেই কথা তো বলাই বাহুল্য।
মাথায় রাখতে হবে, ভবানীপুর কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তাই রাজ্যের মানুষের নজর রয়েছে এই কেন্দ্রের দিকে। এই কেন্দ্রের ফলাফল কী হতে পারে, তা নিয়ে চর্চা রয়েছে তুঙ্গে। আর ভোটের আগে সেই এলাকার IC বদল করল কমিশন।
ও দিকে আবার কলকাতার আলিপুর, ইকবালপুর, হরিদেবপুর, এন্টালি, জোড়াসাঁকো, গড়িয়াহাট, ভবানীপুর, নিউ মার্কেট, বউবাজার, টালিগঞ্জ, অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট, তারাতলা ও বেহালা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ থানার ওসিদেরও বদলি করা হয়েছে।
দেবদুলাল মণ্ডল হালদিয়ার আইসি হিসেবে কাজ করবেন। কাজল দত্ত দায়িত্ব নিয়েছেন কোলাঘাটে। সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় এগরায় এবং চন্দ্রকান্ত শাসমল পটাশপুরের ওসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়া এই নির্দেশ অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরে নন্দীগ্রাম–১ ও নন্দীগ্রাম–২–সহ মোট ১৪ জন বিডিওর বদলির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
কেন ভোটের মুখে বদলি?
এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছে কমিশন। তাদের আধিকারিকরা জানান, এই ব্যাপক রদবদলের মূল লক্ষ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। ভোটের সময় স্থানীয় প্রভাব যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। তার মাধ্যমেই ভোটের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব বলে জানাচ্ছে কমিশন। এর আগে কমিশন মোট ১৮টি জেলায় ৮৩ জন বিডিও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের বদলির নির্দেশ দিয়েছিল।
টানাপোড়েন চলছে
নির্বাচনের আগে আধিকারিক বদল নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহুবার অভিযোগ করেছেন যে এই ধরনের রদবদল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরই মাঝে পুলিশেও বদল আনল কমিশন। তাই এই নিয়েও আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।