
পটাশপুর পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্র। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও এগিয়ে থাকলেও বিজেপির দ্রুত উত্থান এই বিধানসভাকে কার্যত এক কঠিন দ্বিমুখী লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত করেছে।
পটাশপুর পুর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা মহকুমার অন্তর্গত একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে রয়েছে পুরো পটাশপুর -১ ব্লক এবং পটাশপুর–২ ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি।
১৯৫১ সালে গঠিত পটাশপুরে এখনও পর্যন্ত ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। যদিও ২০১১ সালের আগে একাধিকবার এর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি বার জয় পেয়েছে সিপিআই, মোট আটবার। এর মধ্যে ১৯৮২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা ছয়বার জয় ছিল বামেদের।...
পটাশপুর পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্র। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও এগিয়ে থাকলেও বিজেপির দ্রুত উত্থান এই বিধানসভাকে কার্যত এক কঠিন দ্বিমুখী লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত করেছে।
পটাশপুর পুর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা মহকুমার অন্তর্গত একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে রয়েছে পুরো পটাশপুর -১ ব্লক এবং পটাশপুর–২ ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি।
১৯৫১ সালে গঠিত পটাশপুরে এখনও পর্যন্ত ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। যদিও ২০১১ সালের আগে একাধিকবার এর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি বার জয় পেয়েছে সিপিআই, মোট আটবার। এর মধ্যে ১৯৮২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা ছয়বার জয় ছিল বামেদের। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস তিনবার করে জয় পেয়েছে, আর ভারতীয় জনসংঘ, প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি ও জনতা পার্টি একবার করে জিতেছে।
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআইয়ের দীর্ঘ ছয়-দফা শাসনের অবসান ঘটায়। সিপিআইয়ের কামাখ্যা নন্দন দাস মহাপাত্র ১৯৮২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। ২০১১ সালে তৃণমূলের জ্যোতির্ময় কর সিপিআইয়ের মাখনলাল নায়ককে ৬,৬৫০ ভোটে হারান এবং ২০১৬ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২৯,৮৮৮ ভোটে। তবে ২০২১ সালে তৃণমূলের জয় অনেকটাই কমে যায়। উত্তম বারিক বিজেপির অম্বুজাক্ষ মহান্তিকে হারান মাত্র ৯,৯৯৪ ভোটে। বিজেপির ভোটের হার ২০১১ সালে ছিল মাত্র ২.৪৩ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৫.৩৬ শতাংশ, কিন্তু ২০২১ সালে তা লাফিয়ে বেড়ে হয় ৪৫.৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে সিপিআইয়ের ভোটের হার ২০১১ সালে ছিল ৪৬ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৩৮.৭৮ শতাংশ, যা ২০২১ সালে নেমে আসে মাত্র ৩.১৮ শতাংশে।
লোকসভা নির্বাচনেও পটাশপুর অংশে তৃণমূলের শক্তি স্পষ্ট। ২০০৯ সাল থেকে হওয়া চারটি লোকসভা নির্বাচনের সবকটিতেই তৃণমূল এখানে এগিয়ে রয়েছে। ২০০৯ সালে সিপিআইয়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের লিড ছিল ৯,৪৪৯ ভোট, ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয় ৩৩,৬২৫ ভোট। ২০১৯ সাল থেকে বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে। ২০১৯ সালে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের লিড ছিল ১৪,৩৫৫ ভোট, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়ায় ৮,৬০৮ ভোটে।
২০২৪ সালে পটাশপুরে মোট ভোটার ছিলেন ২,৪৮,৩৭৭ জন। ২০২১ সালে ছিল ২,৩৬,৪১৩ জন, ২০১৯ সালে ২,২৭,৪৯১ জন, ২০১৬ সালে ২,১২,২৩৪ জন এবং ২০১১ সালে ১,৮২,৭৭৪ জন। তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটার এই কেন্দ্রে সবচেয়ে বড় সামাজিক গোষ্ঠী- মোট ভোটারের ১৩.১১ শতাংশ। মুসলিম ভোটার প্রায় ৯.৫০ শতাংশ। কেন্দ্রটি প্রায় পুরোপুরি গ্রামীণ—৯৭.৮৩ শতাংশ ভোটার গ্রামে বাস করেন, শহুরে ভোটার মাত্র ২.১৭ শতাংশ। ভোটারদের উপস্থিতিও বরাবরই বেশি, যদিও ধীরে ধীরে কিছুটা কমছে। ২০১১ সালে উপস্থিতি ছিল ৯২.৫৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৮.৭৩ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৬.৪৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৮.৪৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৫.৩৪ শতাংশ।
পটাশপুরের ইতিহাস জড়িয়ে আছে অষ্টাদশ শতকের বর্গি হানার সঙ্গে। বর্গিরা ছিল মারাঠা হালকা অশ্বারোহী বাহিনী, যারা বারবার বাংলা আক্রমণ করত। এক সময় পটাশপুর বর্গিদের শাসনে ছিল এবং তখন এটি মেদিনীপুর জেলার অংশ ছিল না। ১৭৬০ সালে মেদিনীপুর জেলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে এবং বর্গিরা পটাশপুরকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে মেদিনীপুর অঞ্চলে লুটপাট চালাত। ১৮০৩ সালে ওড়িশা ও পটাশপুর সরাসরি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে, যার ফলে এই অঞ্চলে বর্গি হামলার যুগের অবসান ঘটে।
ভৌগোলিকভাবে পটাশপুর পুর্ব মেদিনীপুর জেলার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে, উপকূলীয় ও বদ্বীপ সমভূমিতে অবস্থিত। ভূমি সমতল ও নিচু, খাঁড়ি, জোয়ার-ভাটার খাল এবং বাঁধ দেওয়া জমিতে ভরা। হালদি, রূপনারায়ণ, রসুলপুর, বাগুই ও কেলেঘাই নদী উত্তর থেকে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বয়ে জেলার বিস্তীর্ণ জলজ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। জেলার অন্যান্য ব্লকের মতো পটাশপুরের কিছু অংশেও জোয়ার-ভাটার বন্যা হয়, ফলে জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা এবং ঝড়ের সময় ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।
এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান প্রধান ফসল, সেচের জন্য ব্যবহার হয় গভীর নলকূপ, কারণ জেলায় বড় ক্যানাল ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি ডাল, তেলবীজ ও সবজিও চাষ হয়। মৎস্যচাষ খুব গুরুত্বপূর্ণ -অসংখ্য পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষ হয়। অনেক পরিবার কৃষির পাশাপাশি দিনমজুরি, ছোট ব্যবসা ও পরিবহণের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বিদ্যুৎ প্রায় সব গ্রামেই পৌঁছেছে, যদিও দূরবর্তী কিছু এলাকায় এখনও পরিষেবা সীমিত এবং জলপথের ওপর নির্ভরতা বেশি।
সড়কপথে পটাশপুরের সঙ্গে এগরা (মহকুমা সদর) যুক্ত, দূরত্ব প্রায় ৩০–৩৫ কিমি। জেলা সদর তমলুক প্রায় ৬০–৭০ কিমি দূরে। উপকূলীয় এলাকার প্রধান শহর কাঁথি প্রায় ৪০–৫০ কিমির মধ্যে, আর পর্যটন কেন্দ্র দীঘা কাঁথির আরও দক্ষিণ-পশ্চিমে। কলকাতা প্রায় ১২০–১৪০ কিমি দূরে, তমলুক ও কোলাঘাট হয়ে এনএইচ–১৬ ধরে যাওয়া যায়। রেল যোগাযোগের জন্য এগরা, কাঁথি বা তমলুক স্টেশন ব্যবহার করতে হয়, যেগুলি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মাধ্যমে হাওড়া ও খড়গপুরের সঙ্গে যুক্ত।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে পটাশপুরে তৃণমূল কংগ্রেস তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই জিতেছে এবং ২০০৯ সালের পর থেকে সব লোকসভা নির্বাচনেই এগিয়ে রয়েছে। তবুও বিজেপি এখন এখানে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। গত দু’টি নির্বাচনে দুই দলের ভোটের ব্যবধান কমে প্রায় চার শতাংশে নেমে এসেছে। বাম-কংগ্রেস জোট কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়েছে এবং ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারবে না। ফলে পটাশপুর এখন মূলত তৃণমূল বনাম বিজেপির সরাসরি লড়াই। কাগজে-কলমে তৃণমূল এখনও এগিয়ে, কিন্তু বিজেপির চ্যালেঞ্জ খুবই শক্ত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে গড়াতে পারে।
Ambujaksha mahanti
BJP
Saikat giri
CPI
Nota
NOTA
Surjyendu bikash patra
SUCI
Makhanlal nayak
CPI
Swapan kumar dutta
BJP
Nota
NOTA
Surjyendu bikash patra
SUCI
Subrata guria
IND