Advertisement

West Bengal Hindu Domination: হিন্দুভোট? দক্ষিণবঙ্গে কত পিছিয়ে BJP, ডেটা যা বলছে...

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দু ভোট একত্রিত করার আবেদন জানাচ্ছে বিজেপি।  উত্তরবঙ্গে মোটামুটি ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের আয়ত্তে আনতে পেরেছে বিজেপি। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে এখনও শিকে ছেঁড়েনি। দক্ষিণবঙ্গের হিন্দু ভোট দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের লোকসভা পর্যন্তও বেশিরভাগ মমতারই পক্ষে।

বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসবিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস
অরিন্দম গুপ্ত
  • কলকাতা ,
  • 20 Mar 2026,
  • अपडेटेड 1:00 PM IST
  • পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক খোঁজার চেষ্টা
  • দক্ষিণবঙ্গে হিন্দু অধ্যুষিত জেলাগুলি কী কী?
  • ২০২১ সালে দক্ষিণবঙ্গে কেমন ফল করেছিল বিজেপি?

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায়আসতে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককেই মূলত টার্গেট করেছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে যে ৬ শতাংশ হিন্দু ভোট বেশি পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, সেই ভোট বিজেপি-র দিকে গেলেই নাকি সরকারে চলে আসতে পারে গেরুয়া শিবির। এই বিষয়ে আমরা আগেই বিশ্লেষণ করেছি। সেই কপিটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এই প্রতিবেদনে আমরা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক খোঁজার চেষ্টা করব। বাংলায় মুসলিম অধ্যুষিত জেলা বা আসনগুলি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা রয়েছে। কিন্তু এখনও এই রাজ্যে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক সংখ্যাগুরু। এবং বিজেপি যতই হিন্দুত্বের রাজনীতি করুক, গত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, হিন্দুরাও ভরসা রেখেছেন মমতার উপরেই।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দু ভোট একত্রিত করার আবেদন জানাচ্ছে বিজেপি।  উত্তরবঙ্গে মোটামুটি ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের আয়ত্তে আনতে পেরেছে বিজেপি। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে এখনও শিকে ছেঁড়েনি। দক্ষিণবঙ্গের হিন্দু ভোট দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের লোকসভা পর্যন্তও বেশিরভাগ মমতারই পক্ষে।

দক্ষিণবঙ্গে হিন্দু অধ্যুষিত জেলাগুলি কী কী?

২০১১ সালের আদম সুমারি অনুযায়ী,পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি হিন্দু অধ্যুষিত প্রথম পাঁচটি জেলা হল পূর্ব মেদিনীপুর (প্রায় ৮৮%), পুরুলিয়া (প্রায় ৮৩%), হুগলি (প্রায় ৮২%), পশ্চিম মেদিনীপুর (প্রায় ৭৮%) এবং বাঁকুড়া (প্রায় ৭৭%)। এই জেলাগুলিতে হিন্দু জনসংখ্যার আধিক্য রাজনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পূর্ব মেদিনীপুরে সর্বাধিক হিন্দু জনসংখ্যা থাকায় এই জেলা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। একইভাবে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় গ্রামীণ ও আদিবাসী হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে। হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও হিন্দু ভোটারদের সংখ্যা বেশি, ফলে এই জেলাগুলিতে মেরুকরণের রাজনীতি তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলে।

হিন্দু অধ্যুষিত শীর্ষস্থানীয় ৫ জেলা

এবার আসা যাক, এই জেলাগুলিতে বিজেপি ২০২১-এর বিধানসভায় কেমন আসন পেয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে জঙ্গলমহলের জেলা যেমন, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর,ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে বিজেপি ভাল ফল করেছে। যেমন পুরুলিয়ায় বিজেপি প্রার্থী সুদীপ মুখোপাধ্যায় প্রায় ৯০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস।  বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে বিজেপি জিতেছে। কিন্তু ভোটের ব্যবধান খুব কম। এখানে বিজেপির নীলাদ্রি শেখর দানা পেয়েছিলেন ৯৫ হাজার ৪৬৬ ভোট। তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৯৩ হাজার ৯৯৮টি ভোট। 

Advertisement

২০২১ সালে দক্ষিণবঙ্গে কেমন ফল করেছিল বিজেপি?

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় দেখা যাচ্ছে, মোট ১৫টি বিধানসভায় IndiaVotes-এর তথ্য অনুযায়ী ভোটের শতাংশ ছিল: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), মোট ভোটের প্রায় ৫০.২%। ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) মোট ভোটের প্রায় ৪২.১% পায়। ১৫টি আসনের মধ্যে বেশিরভাগ আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করে। মেদিনীপুর সদর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী জুন মালিয়া বিজেপি প্রার্থীকে ২৪,৩৯৭ ভোটে পরাজিত করেন। তবে খড়্গপুর সদর আসনে বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায় জয়ী হন।  ঝাড়গ্রাম জেলায় দেখা যাচ্ছে, ৪টি বিধানসভা আসনের সবকটিতেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করে এবং বিজেপি কোনও আসন পায়নি। 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জয়লাভ করে। জেলার মোট ১৬টি আসনের মধ্যে বেশীরভাগ আসনেই তৃণমূল প্রার্থীরা জয়ী হন। শুভেন্দু অধিকারীর গড় হওয়া সত্ত্বেও, তৃণমূল কংগ্রেস আসন ধরে রাখে। বিজেপি এখানে কয়েকটি আসনে জয় পেলেও, জেলাজুড়ে তৃণমূলের আধিপত্য বজায় থাকে। এই জেলায় উল্লেখযোগ্য হল, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিরোধী দলনেতা হন শুভেন্দু অধিকারী।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জয়লাভ করে। জেলার মোট ১৬টি আসনের মধ্যে বেশিরভাগ আসনেই তৃণমূল প্রার্থীরা জয়ী হন। শুভেন্দু অধিকারীর গড় হওয়া সত্ত্বেও, তৃণমূল কংগ্রেস আসন ধরে রাখে। বিজেপি এখানে কয়েকটি আসনে জয় পেলেও, জেলাজুড়ে তৃণমূলের আধিপত্য বজায় থাকে। এই জেলায় উল্লেখযোগ্য হল, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিরোধী দলনেতা হন শুভেন্দু অধিকারী।

দক্ষিণবঙ্গে বিজেপি অনেক পিছিয়ে

এবার আসা যাক দক্ষিণবঙ্গের বাকি আসনগুলিতে, যেখানে হিন্দু ভোট বেশি। অর্থাত্‍ হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, বর্ধমান। ২০২১ সালের জেলা ভিত্তিক ফলাফল বলছে, কলকাতা তৃণমূল কংগ্রেসের সবথেকে শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে প্রমাণিত। ১১টি আসনের সবকটিতেই (১১-০) তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি আসনের মধ্যে ২৮টি আসনেই তৃণমূল জিতেছে। তৃণমূল প্রায় ৪৯.১% এবং বিজেপি ৩৪.৭% ভোট পায়। বিজেপি মূলত মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ এবং বাগদার মতো ৫টি আসনে জয়ী হতে সক্ষম হয়।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ৩০টি আসনে জয়লাভ করে। শুধু ভাঙড় আসনটিতে ISF নৌশাদ সিদ্দিকী জয়ী হন। The Hindu। বিজেপি এই জেলায় কোনও খাতা খুলতে পারেনি।  হাওড়া জেলাতেও বিজেপি কোনও আসন পায়নি। ১৬টি আসনের সবকটিতেই (১৬-০) তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়। 

হুগলি জেলায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে লড়াই হলেও তৃণমূল শেষ পর্যন্ত অনেকটা এগিয়ে থাকে। ১৮টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ১২টি এবং বিজেপি ৬টি আসনে জয়লাভ করে। নদিয়া জেলায় বিজেপি তাদের লড়াই চালিয়ে গেলেও তৃণমূল আসন সংখ্যায় এগিয়ে ছিল। ১৭টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ৯টি এবং বিজেপি ৮টি আসনে জয়লাভ করে। রানাঘাট এলাকায় বিজেপি ভাল ফল করেছিল, কিন্তু কৃষ্ণনগর ও নবদ্বীপ এলাকায় তৃণমূল জয়ী হয়।

পূর্ব বর্ধমানে ১৬টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫টি আসনে জয়লাভ করে এবং বিজেপি ১টি আসন (কাটোয়া) পায়। পশ্চিম বর্ধমানে ৯টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৫টি এবং বিজেপি ৪টি আসনে জয়লাভ করে।

অর্থাত্‍ এই তামাম তথ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, দক্ষিণবঙ্গে এখনও কয়েক যোজন পিছিয়ে বিজেপি। হিন্দুভোট একত্রিত করার ডাক ২০২১ সালেও দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু দিনের শেষে মমতাতেই আস্থা রাখছে দক্ষিণবঙ্গ। 


Read more!
Advertisement
Advertisement