
নবদ্বীপ। যার আক্ষরিক অর্থ ‘নতুন দ্বীপ’। নদিয়া জেলার একটি পুর শহর। ঐতিহ্য, ধর্মীয় গুরুত্ব ও রাজনৈতিক ইতিহাস, এই তিনের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই শহরটি ২০০৯ সাল থেকে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এর আগে নবদ্বীপ ছিল আলাদা সংসদীয় কেন্দ্রের অংশ। নবদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে নবদ্বীপ পৌরসভা এলাকা, নবদ্বীপ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের ভালুকলা ও জোয়ানিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত। হিন্দু তীর্থস্থান হিসেবে নবদ্বীপের পরিচিতি রাজ্যজুড়ে সুপ্রতিষ্ঠিত।
১৯৫১ সালে গঠিত নবদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রটি এখনও পর্যন্ত রাজ্যে অনুষ্ঠিত সবকটি, মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে ভোটাররা বারবার ভিন্ন ভিন্ন রায় দিয়ে...
নবদ্বীপ। যার আক্ষরিক অর্থ ‘নতুন দ্বীপ’। নদিয়া জেলার একটি পুর শহর। ঐতিহ্য, ধর্মীয় গুরুত্ব ও রাজনৈতিক ইতিহাস, এই তিনের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই শহরটি ২০০৯ সাল থেকে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এর আগে নবদ্বীপ ছিল আলাদা সংসদীয় কেন্দ্রের অংশ। নবদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে নবদ্বীপ পৌরসভা এলাকা, নবদ্বীপ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের ভালুকলা ও জোয়ানিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত। হিন্দু তীর্থস্থান হিসেবে নবদ্বীপের পরিচিতি রাজ্যজুড়ে সুপ্রতিষ্ঠিত।
১৯৫১ সালে গঠিত নবদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রটি এখনও পর্যন্ত রাজ্যে অনুষ্ঠিত সবকটি, মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে ভোটাররা বারবার ভিন্ন ভিন্ন রায় দিয়েছে। সিপিএম এখানে ছ’বার জয় পেয়েছে। কংগ্রেস পাঁচবার এবং ১৯৬২ সালে অবিভক্ত সিপিআই একবার। তবে ২০০১ সালের পর থেকে চিত্র বদলে যায়। তৃণমূল কংগ্রেস টানা ৫টি বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে এই কেন্দ্রকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। যার মুখ্য নায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা।
২০০১ সালে পুণ্ডরীকাক্ষ প্রথমবার জয়ী হন, সিপিএমের যমুনা ব্রহ্মচারীকে ৭,৯৪৭ ভোটে পরাজিত করে। ২০০৬ সালে তিনি জয় পান ৯,৩৭২ ভোটে। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিপিএমের ছায়া সেন শর্মা। ২০১১ সালে সিপিএমের সুমিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তাঁর জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২২,৮৩৫ ভোটে। এবং ২০১৬ সালে একই প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে সেই ব্যবধান আরও বেড়ে হয় ৩৫,৭৯৬। ২০২১ সালে বামেদের পতন আরও স্পষ্ট হয়। সিপিএমের প্রার্থী স্বর্ণেন্দু সিংহ ভোটের মাত্র ৮.৮১ শতাংশ পেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যান। সে বছর সাহা বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ শঙ্কর নস্করকে ১৮,৫৭১ ভোটে হারান।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলও নবদ্বীপ বিধানসভা অংশে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্যই তুলে ধরে, যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী বদলেছে। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সিপিএম। তখন লিড ছিল যথাক্রমে ৯,৭৪৪ ও ২৫,৫২৫ ভোট। ২০১৯ সাল থেকে বিজেপি বামেদের জায়গা দখল করে তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। ওই বছর তৃণমূল বিজেপির থেকে এগিয়ে ছিল ৪,০৬৪ ভোটে। এবং ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান ছিল ৫,৫৫৬ ভোট।
ভোটার সংখ্যার নিরিখে নবদ্বীপে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ ঘটেছে। ২০২৪ সালে এখানে মোট ভোটার ছিলেন ২,৫১,৫২৫ জন, যেখানে ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৪৩,১৫৯ এবং ২০১৯ সালে ২,৩৭,০১০। আসনটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও মুসলিম ভোটাররা একক বৃহত্তম
সামাজিক গোষ্ঠী। এবং মোট ভোটারের ১৯.৯০ শতাংশ। তফসিলি জাতির ভোটার ১৬.১৯ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতির ভোটার ২.৫২ শতাংশ। নবদ্বীপ একটি আধা-শহুরে কেন্দ্র। ৬০.৯৪ শতাংশ ভোটার শহরাঞ্চলে এবং ৩৯.০৬ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি থেকেছে। ২০১১ সালে ৮৭.৯৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৬.২৩, ২০১৯ সালে ৮৫.১৭, ২০২১ সালে ৮৬.৮৪ এবং ২০২৪ সালে ৮২.৮০ শতাংশ।
ঐতিহাসিকভাবে নবদ্বীপের গুরুত্ব অপরিসীম। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতকে সেন রাজবংশের আমলে এটি ছিল বাংলার রাজধানী। পরবর্তীকালে পঞ্চদশ-ষোড়শ শতকে বৈষ্ণব সাধক চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মভূমি হিসেবে নবদ্বীপ বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠে। এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ভগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থার প্রাচীন প্রবাহের ধারে গড়ে ওঠা এই জনপদ নিম্ন গঙ্গা অববাহিকার উর্বর পলিমাটির অঞ্চলে অবস্থিত। এখানকার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষিকাজ, ধর্মীয় পর্যটন, মন্দিরকেন্দ্রিক পরিষেবা, ছোট ব্যবসা ও স্থানীয় পরিষেবা খাত।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও নবদ্বীপ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। সড়কপথে এটি কৃষ্ণনগরের সঙ্গে যুক্ত। যা ভগীরথীর অপর পারে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেলা সদর। শান্তিপুর ও রানাঘাটও তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি। নবদ্বীপ ঘাট ও আশপাশের স্টেশনগুলি ইস্টার্ন রেলের শহরতলি নেটওয়ার্কের অংশ, যা কৃষ্ণনগর ও শিয়ালদার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে। কলকাতা সড়কপথে প্রায় ১০০-১২০ কিলোমিটার দূরে, ফলে রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াতও তুলনামূলক সহজ।
বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়া এবং পরপর সাতটি বড় নির্বাচনে, তিনটি বিধানসভা ও চারটি লোকসভা তৃণমূল কংগ্রেসের এগিয়ে থাকার রেকর্ড নবদ্বীপে শাসক দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে ২০১৯ সালের পর থেকে বিজেপির উত্থান এবং ব্যবধান কমে আসা তৃণমূলের জন্য সতর্কবার্তা। বিজেপি চাইবে বাম-কংগ্রেসের সামান্য হলেও পুনরুত্থান হোক, যাতে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরিয়ে সমীকরণ নিজেদের অনুকূলে আনা যায়। তবু আপাতত নবদ্বীপে লড়াই মূলত তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি। দীর্ঘদিনের দখলদার হিসেবে তৃণমূল এখনও সামান্য হলেও গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি সুবিধা নিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নামছে।
Sidhartha shankar naskar
BJP
Swarnendu sinha
CPI(M)
Nota
NOTA
Rajnath sarkar
BSP
Soumen saha
IND
Ramkrishna halder
LJP
Sumit biswas
CPM
Gautam pal
BJP
Brajamohan chakraborty
SHS
Nota
NOTA
Utpala biswas
BSP
Parikshit paul
CPI(ML)(L)