
পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুকনো, উষ্ণ বাতাস ঢোকার জেরে রাজ্যে বাড়ছে গরমের দাপট। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা বর্তমানে বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশের উপর দিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের উপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবে রাজ্যে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আগামী ১৯ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অস্বস্তিকর গরম বজায় থাকবে। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমান, এই পাঁচ জেলায় তাপপ্রবাহসদৃশ পরিস্থিতির সতর্কতা জারি হয়েছে। এই জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, ফলে বাড়বে অস্বস্তি।
দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে আপাতত কোনও বিশেষ সতর্কতা না থাকলেও সর্বত্রই শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। কলকাতাতেও বৃষ্টির তেমন সম্ভাবনা নেই, আকাশ সাধারণত পরিষ্কারই থাকবে। যদিও কিছু জেলায়, বিশেষ করে দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তাতে গরম থেকে বিশেষ স্বস্তি মিলবে না।
আগামী তিন দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। তার পরবর্তী চার দিনে তাপমাত্রা প্রায় একই থাকবে বলে পূর্বাভাস।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে তুলনামূলক স্বস্তির ছবি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পঙে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সোমবার আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সপ্তাহের শেষে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বৃষ্টি ছড়াতে পারে। তবে আপাতত সেখানে তাপমাত্রার তেমন পরিবর্তন হবে না।
এদিকে সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি। রবিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম।