Advertisement

Bengali Television Exclusive: করোনার গ্রাফ প্রতিদিন ঊর্ধ্বমুখী! কতটা সাবধানতা মেনে চলছেন টেলি অভিনেতারা?

Bengali Television Exclusive: শ্যুটিং চলাকালীন থাকতে হচ্ছে মাস্ক ছাড়া। অভিনয়ের স্বার্থে দুরত্ববিধিও মেনে চলা সম্ভব না। এই পরিস্থিতিতে কতটা সাবধানতা অবলম্বন করছেন বাংলা টেলিভিশনের অভিনেতারা? খোঁজ নিল আজতক বাংলা...    

তৃণা সাহা, আদৃত রায়, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রুদ্রজিৎ মুখোপাধ্যায় (বাম দিক থেকে)
সৌমিতা চৌধুরী
  • কলকাতা,
  • 12 Jan 2022,
  • अपडेटेड 3:54 PM IST
  • করোনার থাবা যেন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সঙ্গে রয়েছে ওমিক্রন আতঙ্ক।
  • আক্রান্ত হচ্ছেন টলি থেকে টেলি পাড়ার তারকারা।
  • ফের শ্যুটিং বন্ধ হওয়ার ভীতি রয়েছে অভিনেতাদের মনে?

কোভিডের (Covid-19) গ্রাফ ফের ঊর্ধ্বমুখী। সাধারণ মানুষ তো বটেই আক্রান্ত হচ্ছেন টলি থেকে টেলি পাড়ার তারকারা। কোভিডের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে লকডাউনের সময় দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল শ্যুটিং (Television Shooting)। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতেই, কড়া নির্দেশবিধি মেনে ফ্লোরে ফিরেছেন সকলে।

২০২১ -এর শেষ থেকেই ফের করোনার থাবা যেন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সঙ্গে রয়েছে ওমিক্রন (Omicron) আতঙ্ক। শ্যুটিং চলাকালীন থাকতে হচ্ছে মাস্ক ছাড়া। অভিনয়ের স্বার্থে দুরত্ববিধিও মেনে চলা সম্ভব না। এই পরিস্থিতিতে কতটা সাবধানতা অবলম্বন করছেন বাংলা টেলিভিশনের অভিনেতারা (Bengali Television Actors)? ফের শ্যুটিং বন্ধ হওয়ার ভীতি রয়েছে মনে? খোঁজ নিল আজতক বাংলা...    

আরও পড়ুন: পিলু, ফড়িং না আনন্দী কে জিতবে দর্শকদের মন? আসছে একগুচ্ছ নতুন মেগা

 

অভিনেত্রী তৃণা সাহা (Trina Saha) বললেন, "এখন আবার ডবল মাস্ক ব্যবহার করছি। আমার মনে হয়, এখন ইমিউনিটি স্ট্রং রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ সকলেরই।  মাল্টি ভিটামিন খাচ্ছি। এছাড়া রোজ সকালে আমার শাশুড়ি মা, তুলসী পাতা, মধু ও আদা দিয়ে একটা কাড়া তৈরি করে দিচ্ছেন। আমার মনে হয়, ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করলে, কেউ কোভিড পজিটিভ হলেও সুস্থ হতে পারবে তাড়াতাড়ি।" 

'খড়কুটো' (Khorkuto)-এর গুনগুন আরও যোগ করলেন, "আমি বরাবর ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু করে বিকেল অবধি যা যা খাই, তা শ্যুটিং ফ্লোরে নিয়ে যাই। চেষ্টা করি বাইরে যতটা কম খাওয়া যায়। এমনকী ডিনারটা বাড়িতে এসে খেতেই ভাল লাগে। তবে ভয় বা চিন্তা করে খুব একটা লাভ নেই এখন। আমি একা না, প্রায় গোটা বিশ্বের মানুষ এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে একসঙ্গে। তাই সকলে যদি সকলের কথা চিন্তা করে একটু সাবধানতা ও নিয়মবিধি মেনে চলে,তাহলে এই সমস্যা থেকে আমরা তাড়াতাড়ি বেরতে পারব।" 

Advertisement

আরও পড়ুন: ডিস্ট্রিবিউটর, হল মালিকদের হাত জোড় করে বলছি, বাংলা ছবিকে শো দিন... : দেব

 

 

'মিঠাই' (Mithai)-এর সিদ্ধার্থ ওরফে অভিনেতা আদৃত রায়ের (Adrit Roy) কথায়, "গত বছরও কোভিড যখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, আমার টানা শ্যুট চলছিল। অভিনয়ের সময় তো মাস্ক পরা যায় না। তাও আমাদের চ্যানেল থেকে একেবারে কড়া নির্দেশ দেওয়া আছে, আমরা যাতে শট দেওয়ার আগে পর্যন্ত যতটা সম্ভব মাস্ক পরি। এমনকী মেকআপ রুম থেকে ফ্লোরে যাওয়া পর্যন্ত সমস্ত নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করি সকলে। বাকিটা তো আমাদের হাতে নেই। এখন তো মনে হয়, নিঃশ্বাস নিতে গেলেও কোভিড হচ্ছে এমন পরিস্থিতি..."

তিনি আরও বললেন, "এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আমি রোজ ওয়ার্ক আউট করি। এখন জিম বন্ধ, তাই বিল্ডিংয়ের বাইরে দৌড়াই, ছাদে গিয়েও ওয়ার্ক আউট করি। তবে সত্যি কথা বলতে এই পরিস্থিতির সঙ্গে আমরা কেমন যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। শ্যুটিং বন্ধ হওয়া নিয়েও ভয় পাই না আর। আমরা এন্টারটেইনার, ফ্লোরে শ্যুটিং বন্ধ হলে, আগের মতো আবার বাড়ি থেকে কাজ করব।" 

আরও পড়ুন: কঠিন লড়াইয়ের অবসান! ক্যান্সারকে হারিয়ে, আগামী বছরই কাজে ফিরবেন ঐন্দ্রিলা

 

কিছুটা আতঙ্কিত এবং দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Koneenica Banerjee)। তিনি জানালেন, "বড় পর্দার কাজ তো অনেকটাই স্থগিত এখন, কিন্তু ছোট পর্দার কাজ তো চলবেই কারণ রোজকার পর্ব প্রোডিউস করতে হয়। ফ্লোরে স্যানিটাইজ করা হচ্ছে, আমরা সকলে চেষ্টা করছি যতটা সাবধানতা অবলম্বন করা যায়। আমি বাড়ি এসে ভেপার নিচ্ছি, সারা গায়ে স্প্রে করি। বাকিটা ঈশ্বরই ভরসা..." 

'আয় তবে সহচরী' (Aye Tobe Sohochori)- এর মুখ্য অভিনেত্রী বললেন, "জিঙ্ক আর ভিটামিন সি ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করেছি। তবে শ্যুটিং করার সময় তো অত বেছে করা যায় না। চিত্রনাট্য অনুসারে কাজ করতেই হয়, এখন তো বোঝাই যায় না কার কোভিড আছে, আর কার নেই। যে সমস্ত অভিনেতাদের কাজ না করলে পয়সা আসবে না, বা চ্যানেলের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট রয়েছে, তাঁদের কারও কিছু করার নেই। করতে তো হবেই... সকলেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। তবে আমার বাড়িতে যেহেতু ছোট বাচ্চা আছে এবং বাড়িতে বেশিরভাগ সদস্যই ষাটোর্ধ্ব, তাই অত্যন্ত দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। তবে কাজ করা ছাড়া তো আর কোনও উপায় নেই। এতজন কাজ করছেন, আমি সেখানে তো একা বলতে পারি না, যে কাজ করব না..." 

আরও পড়ুন: OTT-র পর এবার বড় পর্দা! অনির্বাণের পরিচালনায় আসছে 'বল্লভপুরের রূপকথা'

 

 

রুদ্রজিৎ মুখোপাধ্যায় (Rudrajit Mukherjee) সম্প্রতি আরও এক নতুন জার্নি শুরু করেছেন নতুন ধারাবাহিক 'পিলু' (Pilu)-এর মাধ্যমে। আজতক বাংলাকে তিনি জানালেন, "আগে আমরা পুরুষ অভিনেতারা খুব একটা নিজেদের মেকআপ কিট ফ্লোরে নিয়ে যেতাম না। কোভিডের পর থেকে, ব্যাগে মেকআপ পাউচ থাকে। এছাড়া মাস্ক, স্যানিটাইজার স্প্রে, হ্যান্ড ওয়াশ সমস্ত কিছু রাখি। ফল ও ড্রাই ফ্রুটস খাওয়া অনেক বাড়িয়ে দিয়েছি। এছাড়া মরশুমি ফল, এখন যেমন কিউই, কমলালেবু, আপেল ইত্যাদি খাওয়াও বাড়িয়ে দিয়েছি অনেক।"

অভিনেতা যোগ করলেন, "আমাদের শ্যুটিং এই মুহূর্তে ইন্দ্রপুরি স্টুডিওতে হচ্ছে। সেখানে ঢোকার সময়ই সারা শরীর থেকে ব্যাগ, সব স্যানিটাইজ করা হয়। সকলেই সমস্ত নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করছি। প্রথমে কোভিড নিয়ে আমরা কিছুই জানতাম না, এখন অনেকটাই জানি। তাই প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছি, তা ঠিক না। তবে সকলকে সচেতন থেকে সাবধানতা মেনে চলতেই হবে।"   

Advertisement

Read more!
Advertisement

RECOMMENDED

Advertisement