
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে বাকসা (এসটি) কেন্দ্রটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর অন্তর্গত এই নবগঠিত কেন্দ্রটি একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, তেমনই অন্যদিকে রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
ভৌগোলিকভাবে বাকসা এক অনন্য অঞ্চল। সমতলভূমি ও পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশ মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি। ঘন সবুজ অরণ্য, উর্বর পলিমাটি এবং অসংখ্য নদী-ঝর্ণা এই এলাকার বৈশিষ্ট্য। এই কেন্দ্রের মধ্যেই রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত মানস জাতীয় উদ্যানের একটি অংশ, যা ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য। বাঘ, একশৃঙ্গ গণ্ডার, সোনালী হনুমান, পিগমি হগ থেকে শুরু করে বহু বিরল প্রাণীর আবাস এ...
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে বাকসা (এসটি) কেন্দ্রটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর অন্তর্গত এই নবগঠিত কেন্দ্রটি একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, তেমনই অন্যদিকে রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
ভৌগোলিকভাবে বাকসা এক অনন্য অঞ্চল। সমতলভূমি ও পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশ মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি। ঘন সবুজ অরণ্য, উর্বর পলিমাটি এবং অসংখ্য নদী-ঝর্ণা এই এলাকার বৈশিষ্ট্য। এই কেন্দ্রের মধ্যেই রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত মানস জাতীয় উদ্যানের একটি অংশ, যা ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য। বাঘ, একশৃঙ্গ গণ্ডার, সোনালী হনুমান, পিগমি হগ থেকে শুরু করে বহু বিরল প্রাণীর আবাস এই অরণ্য।
২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর বাকসা বিধানসভা কেন্দ্রটি তৈরি হয়। এর আগে তামুলপুর, বারামা ও চাপাগুড়ি, এই তিনটি আসন ছিল। সেগুলিকে পুনর্গঠন করে বাকসা (এসটি) এবং মানস নামে দুটি নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। এটি তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত এবং কোকরাঝাড় লোকসভা কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নতুন কেন্দ্র হওয়ায় এখনও এখানে কোনও বিধানসভা নির্বাচন হয়নি। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং সেখানে ইউপিপিএল (UPPL) বিপিএফ (BPF)-এর থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিল। যদিও সেই সময়ের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ইউপিপিএল এখন আর এনডিএ-র অংশ নয়, অন্যদিকে বিপিএফ এখন এনডিএ জোটে যোগ দিয়ে বিজেপি ও এজিপি-র সমর্থন পাচ্ছে। ফলে ২০২৬-এর নির্বাচনে বিপিএফ কিছুটা কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই কেন্দ্র থেকে বিপিএফ তাদের অভিজ্ঞ নেতা মানেশ্বর ব্রহ্মকে প্রার্থী করেছে। তিনি এর আগে বারামা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন এবং স্থানীয় স্তরে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তৃণমূল স্তরের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে ভোটারদের মধ্যে তাঁর পরিচিতিও যথেষ্ট। বাকসার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা। পাশাপাশি বনজ সম্পদ এবং মানসকে কেন্দ্র করে সীমিত পর্যটন শিল্পও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। তবে পরিকাঠামোর দিক থেকে এলাকা এখনও পিছিয়ে। জাতীয় সড়ক থাকলেও রেল যোগাযোগ খুব সীমিত, যা উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও বাকসার গুরুত্ব রয়েছে। কামরূপ দুয়ার অঞ্চলের অংশ হিসেবে এই এলাকা একসময় ভুটান ও আসামের মধ্যে বাণিজ্য পথ ছিল। পরে অ্যাংলো-ভুটান যুদ্ধ এবং সিঞ্চুলা চুক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চল ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা বন্যা ও নদীভাঙন। মানস, পাগলাদিয়া সহ একাধিক নদীর কারণে প্রতি বছরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি, এই তিনটি বিষয়ই নির্বাচনী ইস্যুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাকসা (এসটি) একটি নতুন কেন্দ্র হলেও রাজনৈতিকভাবে দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে। এনডিএ-সমর্থিত বিপিএফ এখানে শক্ত অবস্থানে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ফল নির্ভর করবে স্থানীয় জনমত এবং উপজাতীয় সমাজের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের উপরই। ২০২৬-এর নির্বাচন তাই এই কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।
Input by: Ajay Jha