
অসমের কোকরাঝাড় জেলার বিটিআর (BTR) অঞ্চলের এক প্রাচীন জনপদ ডোটমা। কোচ রাজত্বের অংশ থেকে ব্রিটিশ শাসন, আর বর্তমানে বড়োল্যান্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র— ডোটমার ইতিহাস দীর্ঘ। তবে নির্বাচনী মানচিত্রে ডোটমা একেবারেই নবীন নাম। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর কোকরাঝাড় পশ্চিম কেন্দ্রের একটি বড় অংশ এবং সংলগ্ন আদিবাসী প্রধান এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে এই নতুন ‘ডোটমা (তফসিলি জনজাতি সংরক্ষিত)’ বিধানসভা আসন।
আগে কোকরাঝাড় জেলায় তিনটি আসন ছিল—কোকরাঝাড় পূর্ব, কোকরাঝাড় পশ্চিম এবং গোঁসাইগাঁও। পুনর্নির্ধারণের পর জেলায় এখন পাঁচটি আসন। ডোটমা গঠনের ফলে এই অঞ্চলের জনবিন্যাসেও বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রাক্তন কোকরাঝাড় পশ্চিম কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারদের হার ছিল ৩৬.২০ শতাংশ এবং জনজা...
অসমের কোকরাঝাড় জেলার বিটিআর (BTR) অঞ্চলের এক প্রাচীন জনপদ ডোটমা। কোচ রাজত্বের অংশ থেকে ব্রিটিশ শাসন, আর বর্তমানে বড়োল্যান্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র— ডোটমার ইতিহাস দীর্ঘ। তবে নির্বাচনী মানচিত্রে ডোটমা একেবারেই নবীন নাম। ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর কোকরাঝাড় পশ্চিম কেন্দ্রের একটি বড় অংশ এবং সংলগ্ন আদিবাসী প্রধান এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে এই নতুন ‘ডোটমা (তফসিলি জনজাতি সংরক্ষিত)’ বিধানসভা আসন।
আগে কোকরাঝাড় জেলায় তিনটি আসন ছিল—কোকরাঝাড় পূর্ব, কোকরাঝাড় পশ্চিম এবং গোঁসাইগাঁও। পুনর্নির্ধারণের পর জেলায় এখন পাঁচটি আসন। ডোটমা গঠনের ফলে এই অঞ্চলের জনবিন্যাসেও বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রাক্তন কোকরাঝাড় পশ্চিম কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারদের হার ছিল ৩৬.২০ শতাংশ এবং জনজাতি ভোটার ছিল ২৩.৩০ শতাংশ। কিন্তু নতুন ডোটমা কেন্দ্রে সীমানা এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যে, বহু মুসলিম প্রধান গ্রাম পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রে চলে গিয়েছে এবং জনজাতি প্রধান এলাকাগুলি এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে ডোটমা এখন মূলত একটি জনজাতি অধ্যুষিত কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ডোটমার নিজস্ব কোনও বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাস নেই। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই এলাকায় রাজনৈতিক মেজাজটা কিছুটা বোঝা যায়। সেই নির্বাচনে বিজেপির সহযোগী হিসেবে লড়াই করে ইউপিপিএল (UPPL) প্রার্থী জয়ন্ত বসুমতারি এই বিধানসভা ক্ষেত্রে ৪,৫৫৭ ভোটের লিড পেয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ৩৬,৪৯০ ভোট, যেখানে বিপিএফ (BPF)-এর কাম্পা বরগোয়ারি পেয়েছিলেন ৩১,৯৩৩ ভোট। কংগ্রেসের গর্জন মুশাহারি ৬,১৩৭ ভোট পেয়ে বহু পিছনে পড়েছিলেন। সেবার ডোটমায় রেকর্ড ৮৩.২৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। পুরনো কোকরাঝাড় পশ্চিম কেন্দ্রের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৬৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে ১২টি নির্বাচনের মধ্যে নির্দল প্রার্থীরা ৪ বার জয়ী হয়েছেন। কংগ্রেস এবং বিপিএফ জিতেছিল ৩ বার করে।
২০২৬-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ডোটমায় ভোটারের সংখ্যা ১,০৭,০১১ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ১,১০৯ জন। ভূপ্রকৃতির দিক থেকে ডোটমার দক্ষিণ অংশ সমতল হলেও উত্তরের ভুটান সীমান্তের দিকে জমি কিছুটা পাহাড়ি। গৌরাঙ্গ, চম্পামতী ও সরলভাঙার মতো নদীগুলি এখানকার কৃষিজমিতে উর্বর পলি ফেলে ঠিকই, কিন্তু বর্ষায় বন্যার প্রকোপও কম নয়। এখানকার মানুষের জীবন মূলত কৃষি, উদ্যানপালন, এরি সিল্ক চাষ এবং বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। জেলা সদর কোকরাঝাড় থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার।
এবারের লড়াইটা বেশ চমকপ্রদ। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ইউপিপিএল এগিয়ে থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। ইউপিপিএল এখন শাসক জোটের বাইরে। অন্যদিকে, বিপিএফ বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘নেডা’ (NEDA)-র শরিক। ফলে বিজেপি ও অগপ-র পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তাদের ঝুলিতে।
বিপিএফ (BPF): দলটির হেভিওয়েট প্রার্থী রবিরাম নার্জারি। তিনি বিলুপ্ত কোকরাঝাড় পশ্চিম কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক।
ইউডিপিপিএল (UPPL): প্রমোদ বড়ো-র নেতৃত্বাধীন এই দল ময়দানে নামিয়েছে রাজু কুমার নার্জারি-কে।
কংগ্রেস: বিরোধী জোটের হয়ে লড়ছেন বীরখাং বড়ো।
নির্দল: এছাড়া ফুংখা ব্রহ্ম ও রণঞ্জয় নার্জারি নামে দুই নির্দল প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নতুন সীমানা, নতুন জনবিন্যাস আর পরিবর্তিত জোট রাজনীতির কারণে ডোটমার ভোট এবার এক জটিল ধাঁধা। একদিকে বিপিএফ-এর লক্ষ্য তাদের হারানো দুর্গ ফিরে পাওয়া, অন্যদিকে ইউপিপিএল-এর চ্যালেঞ্জ নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বড়োল্যান্ডের এই কেন্দ্রে এবার এক রুদ্ধশ্বাস ও বহুমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী থাকতে চলেছে অসম।
Input by: Ajay Jha