
কোকরাঝাড় অসমের কোকরাঝাড় জেলার একটি তফসিলি উপজাতি (ST) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। কোকরাঝাড় লোকসভা আসনের নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি এটি। ২০২৩ সালে ডিলিমিটেশন কমিশনের পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কেন্দ্রটি গঠিত হয়। আগের কোকরাঝাড় ইস্ট (ST) ও কোকরাঝাড় ওয়েস্ট (ST) কেন্দ্রকে পুনর্গঠন ও তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকা যুক্ত করে এই নতুন কেন্দ্র তৈরি করা হয়। এর অন্তর্ভুক্ত কোকরাঝাড় শহর, যা বোধোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (BTR)-এর প্রশাসনিক সদর দফতর। শহর ও গ্রাম মিলিয়ে এই কেন্দ্রের চরিত্র আধা-শহুরে হলেও এটি মূলত গ্রামীণ এবং বোধোল্যান্ড অঞ্চলের মতোই উপজাতি জনসংখ্যার এখানে প্রাধান্য।
নতুন কেন্দ্র হওয়ায় কোকরাঝাড়ের কোনও বিধানসভা নির্বাচনের ইত...
কোকরাঝাড় অসমের কোকরাঝাড় জেলার একটি তফসিলি উপজাতি (ST) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। কোকরাঝাড় লোকসভা আসনের নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি এটি। ২০২৩ সালে ডিলিমিটেশন কমিশনের পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কেন্দ্রটি গঠিত হয়। আগের কোকরাঝাড় ইস্ট (ST) ও কোকরাঝাড় ওয়েস্ট (ST) কেন্দ্রকে পুনর্গঠন ও তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকা যুক্ত করে এই নতুন কেন্দ্র তৈরি করা হয়। এর অন্তর্ভুক্ত কোকরাঝাড় শহর, যা বোধোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (BTR)-এর প্রশাসনিক সদর দফতর। শহর ও গ্রাম মিলিয়ে এই কেন্দ্রের চরিত্র আধা-শহুরে হলেও এটি মূলত গ্রামীণ এবং বোধোল্যান্ড অঞ্চলের মতোই উপজাতি জনসংখ্যার এখানে প্রাধান্য।
নতুন কেন্দ্র হওয়ায় কোকরাঝাড়ের কোনও বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাস নেই। ২০২৬ সালেই এবার প্রথম ভোট হবে। এর আগে একমাত্র ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের ভোটাররা ভোট দেন। যেখানে কোকরাঝাড় বিধানসভা সেগমেন্টে বোধোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (BPF) ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল (UPPL)-কে ২,১৭৫ ভোটে পরাজিত করে। BPF প্রার্থী কাম্পা বরগয়ারি পান ৪৮,২০৭ ভোট, আর UPPL প্রার্থী জয়ন্ত বসুমাতারী পান ৪৬,০৩২ ভোট। এই কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ৮১.২৭ শতাংশ।
কোকরাঝাড় ইস্ট ও কোকরাঝাড় ওয়েস্ট-দুটি কেন্দ্রই ১৯৬৭ সালে গঠিত হয় এবং প্রতিটিতে ১২টি করে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোকরাঝাড় ইস্ট কেন্দ্রে চারবার নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। প্রমিলা রানি ব্রহ্ম ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা চারবার জয়ী হন এবং পরে ২০১১ ও ২০১৬ সালে BPF-এর প্রার্থী হিসেবে আরও দু’বার জেতেন। কংগ্রেস এই আসনে তিনবার জয়ী হয়েছে, প্লেইন ট্রাইবালস কাউন্সিল অফ আসাম দু’বার এবং UPPL ২০২১ সালে একবার জয়ী হয়, যেখানে তাদের নেতা লরেন্স ইসলাম বর্তমান বিধায়ক।
অন্যদিকে, কোকরাঝাড় ওয়েস্ট কেন্দ্রেও ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে চারবার নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হন। পরমেশ্বর ব্রহ্ম ও হেমেন্দ্র নাথ ব্রহ্ম দু’বার করে জয়ী হন। কংগ্রেস চারবার, প্লেইন ট্রাইবালস কাউন্সিল অফ আসাম একবার এবং BPF ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত টানা তিনবার জয়ী হয়েছে। বর্তমানে বিলুপ্ত এই কেন্দ্রের শেষ বিধায়ক হলেন BPF নেতা রবিরাম নারজারি।
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে কোকরাঝাড় বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ১,৪৪,২৪১ জন ভোটার রয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১,৪২,৫১৬ জনের তুলনায় সামান্য বেশি।
জনসংখ্যার দিক থেকে এই কেন্দ্রে তফসিলি উপজাতির (বিশেষত বোড়ো সম্প্রদায়) সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তফসিলি জাতির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম এবং পাশের সমতল এলাকার তুলনায় মুসলিম জনসংখ্যাও কম। বোড়োসহ বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী এবং অল্পসংখ্যক অ-উপজাতি জনগোষ্ঠীর মিশ্রণে এই কেন্দ্রের সামাজিক গঠন তৈরি হয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে কোকরাঝাড় সমতলের আসামের অংশ। দক্ষিণে সমতল ভূমি এবং উত্তরে ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন নিম্ন পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে। এখানে ধান চাষ, উদ্যানপালন ও বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। গৌরাং, চম্পামতী ও সারালভাঙ্গা নদীর কারণে বর্ষাকালে বন্যার আশঙ্কা থাকে। কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সরকারি চাকরি ও পর্যটন এই এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা। ন্যাশনাল হাইওয়ে ২৭-এর মাধ্যমে ভালো সড়ক যোগাযোগ, কোকরাঝাড় রেল স্টেশনসহ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোকরাঝাড় একটি নতুন রাজনৈতিক ময়দান হতে চলেছে। UPPL-এর NDA ছাড়ার পর BPF আবার NDA-র অংশ হওয়ায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। BPF তাদের প্রার্থী হিসেবে সিউলি মহিলারিকে মনোনীত করেছে, যিনি BPF সভাপতি ও প্রাক্তন BTC প্রধান হাগ্রামা মহিলারির স্ত্রী। তিনি বিজেপি ও AGP-র সমর্থন পাবেন। একাধিক দল এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, ফলে এখানে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বোধোল্যান্ডের রাজনীতিতে একটি আকর্ষণীয় লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি করবে।